কালোজাদু-পৃষ্ঠা- ২৯৫+২৯৬

0Shares

প্রত্যেক মিথ এর পিছনে সুনির্দিষ্ট সত্য কাহিনী ছিলো ।ধরুন মহাবীর হারকিউলিস , একিলিস এদের কথা গ্রীক পুরাণে লেখা আছে ।মহাবীর একিলিস এর নাকি গায়ে কোথাও তীর বিধলে মরবেনা , কিন্তু শুধুমাত্র পায়ের গোড়ালী বা একিলিস টেন্ডনে তির বিধলে মরবে ।এটাও একটা আশ্চর্য কথা এবং মিথ । {{এর কারন হতে পারে হয়তো তার শরীরের হার্ট এর মত গুরুত্বপূর্ণ অংগ হয়তো পায়ের গোড়ালিতে ছিলো , এ কথাটা শুনে আমাকে যদি মাতাল মনে হয় তবে ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টার এর বালক
Hamish Robinson যার কিডনি পায়ে অবস্থিত এই প্রতিবেদনটি গুগল সার্চ করে বা https://www.dailymail.co.uk/health/article-6623073/Boy-10-believed-person-world-kidney-LEG.html  এই লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন ।}}  

ট্রয় নগরী যদি পাওয়া যায় , এবং বিজ্ঞানীরা সত্য বলে মেনে নিয়েছেন যেহেতু , সেহেতু একিলিস টেন্ডনের মিথটাও সত্যি হওয়াটা বিচিত্র কিছু নয় । হয়তো তার শুধুমাত্র গোড়ালী কেন দূর্বলতা সেটাও একটা গবেষনার অতীত বিষয় । আচ্ছা এই যে গরুঢ় পাখি নামে আমরা একটা পৌরাণিক পাখির কথা শুনি সেটার সাথে কিন্তু বর্তমানের অ্যামাজনের হার্পি ঈগল এর যথেষ্ট মিল আছে ।পৌরাণিক কাহিনীতে ধর্মীয় আবহ দেওয়া হয়েছে পাখিটি নিয়ে কিন্তু সেটা বাদ দিলে বনজঙ্গল পরিবেষ্টিত ভারতীয়  উপমহাদেশে চার পাঁচ হাজার বছর আগে এ রকম অতিকায় পাখি থাকাটা বিচিত্র কিছু নয় ।কারণ কালের বিবর্তনে বিশ্বের অনেক দেশে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে , অতিকায় ঘোড়া আর অতিকায় হাতি যদি আপনাকে আমাকে বহন করে নিয়ে যেতে পারে , কবুতর যদি চিঠি বইতে পারে , সার্কাসে হিংস্র প্রাণী যদি খেলা দেখাতে পারে তাহলে পুরাণে উল্লেখিত গরুঢ় হয়তো অতিকায় পাখি ছিলো , যেটাকে মানুষ পোষ মানিয়েছিল আর তাকে বাহন হিসেবে হয়তো ব্যবহার ও করতো , হতে পারে মিথ তবে তিন চার হাজার বছর আগের হিসেবে অযৌক্তিক নয় ।আপনার চোখের সামনে দেশী প্রজাতির হাঁস,মুরগী ও মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সেটা কি আপনি খেয়াল করছেন ? যদিও দেখুন আমি তর্কে বেশিদুর যাবোনা , কিন্তু আমিই যদি আপনার জেলার ২০০ বা ৩০০ বছর আগের কিছু ইতিহাস বই পত্র ঘেটে বের করি তবে সেটা আপনার কাছেই মিথ্যা লাগবে ।কিন্তু যদিও সেগুলো ইতিহাসে আছে তারপরেও মিথ্যা লাগবে ।আমাদের সব স্থাপনা তো দাড়িয়ে আছে মাটির উপর , আমরা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রনে এত কিছু আবিষ্কার করেছি ,কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি , তারপর এই যুগ উন্নত যে গবেষনাগার এর জন্য সেসব তো এই মাটির উপর অবস্থিত ,আর এই মাটি কিন্তু পানির উপর ভেসে আছে

(২৯৫)

যদি কখন আমাদের এই উন্নত সভ্যতা সহ সব এই রকম পানির নিচে চলে যায় । অনেকে বলবেন গেলে সবার যাবে , একার কিছু যাবেনা , কিন্তু তারপরেও বলছি একটু ভাবুন তো এভাবে এরকম একটা সভ্যতা হারিয়ে গেলে কি খারাপ লাগবেনা । আমরা এত উন্নত বলে দাবি করি নিজেদেরকে , এত যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করেছি , ১০০ তলা বিল্ডিং বানাচ্ছি , ‌ কিন্তু আমরা কিন্তু আমাদের স্থাপনাগুলো স্থায়ীত্ব দেবার জন্য ভুপৃষ্ঠস্ত পানির নিচে যাবেনা এমন কিছু আবিষ্কার করতে পারিনি । এটা যে উপরে ফিটফাট ভিতরে সদরঘাট এর মত হয়ে গেল ।মানুষ এর থেকে উন্নত ক্ষমতার অনেক কিছু আছে , কিন্তু মানুষকে কেন সেরা সৃষ্টি বলে জানেন ?‌কোন যুক্তিতে বলে জানেন, বাঘ তো মানুষের থেকে শক্তিশালী , মানুষের অত শক্তি নেই ,  পাখি উড়তে পারে , মানুষ পারেনা । মানুষ আচরনে অন্য সকল হিংস্র প্রানী থেকেও হিংস্র , কিন্তু তারপরে কেন মানুশ কে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হল জানেন ? এর কারন হল , সহজ একটা উদাহরন দিয়ে বোঝায় ,  মোবাইল সেট হল দুই প্রকার আগের যুগের বাটন সেট আর এখনকার এন্ড্রয়েড সেট , এখন অন্যান্য  প্রানী হলো সেই বাটন সেটের মত ফিক্সড কিছু অ্যাপ্লিকেশন এর অধিকারী বলে ক্ষমতাবান  আর মানুষ হল এন্ড্রয়েড এর মত ,মানুষ তার প্রয়োজনে আবিস্কার করে গুগল প্লে স্টোর এর মত অসীম ,  অ্যাপস স্তর থেকে সফটওয়্যার খুজে বের করে সংযোজন করে নিজের ক্ষমতা বাড়াতে পারে , নিজেকে ডায়নামিক , এক্সট্রা স্ট্রং করে তুলতে পারে ,  আল্লাহর দেওয়া মানুষের ব্রেন তা হল এন্ড্রয়েড সিস্টেম এর সাথে তুলনীয়।আর  আমাদের ব্রেন ফিক্সড অ্যাপস এর হতো তাহলে আমরা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষমতাতে আবদ্ধ থাকতাম । এটা অনুমান নির্ভর । কিন্তু ওই যে বললাম শ্রাব্যতার সীমার কারনে আমরা পিপড়ার কথা শুনতে পাইনা । খাবার খুজে পেয়ে পিপড়া যা বলে তার সঙ্গীদের বা ডেকে  আনে সেটা কিভাবে শুনবেন ?   আমরা ভিনগ্রহে প্রান বা বসবাস উপযোগী পরিবেশ যা খুজিনা কেন আমরা খুজছি আমাদের সাথে যেটা মেলে সেটা । আমাদের মাত্রার বাইরে কিছু আমাদের খোজা সম্ভব নয় , কিছু শোনাও সম্ভব নয় ।

(২৯৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!