কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০১+৩০২

0Shares

**** আমাদের  এক আত্বীয়ের গল্প বলছি । এটাও গ্রামের । ওনাদের বাড়ির পিছনে বেশ বড় একটা পুকুর ছিলো । সেই পুকুরের দুই পাড়ে  দুটো শিমুলগাছ ছিলো ।উনি প্যারালাইজড হয়ে বছরখানেক বিছানায় শুয়ে মারা যান । গল্পে বা এলাকার জনশ্রুতিতে শুনেছি উনি যখন পুকুরটা পুনঃখনন করতে যান তখন নাকি এক গাছের শিকড় কেটে ফেলেন । ওই দুটো গাছ জোড়া শিকড় নাকি পুকুরের পানির নিচ দিয়ে এপার থেকে ওপার গিয়েছিল ।গাছ দুটো নাকি জ্বীন দ্বারা পজেজড্ ছিলো । এটাও যুক্তিবিহীন মনে হলো ।

**** একজন বেশ পরহেজগার মাওলানা ছিলেন আমার মামাবাড়ির গ্রামে । তিনি সব সময় জ্বীন নিয়ে কারবার করতেন । ওনার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ট হবার আগে গর্ভেই মারা যেতো ।বড় বড় চিকিৎসক ফেল মারাতে  সবাই বলতো এটা নাকি জ্বীনদের বন্দী করে কষ্ট দেবার অভিশাপ ।উনি ওনার মাদ্রাসার ছাত্রদেরও বলতেন উনি যখন তখন মারা যেতে পারেন । তো উনি একদিন ঈদের নামাজ পড়ে উঠেছেন মাত্র , সালটা মনে আসছেনা , হতে পারে ২০০২-২০০৪ সালের ভিতর একটা ঈদের সময়ে। কয়েক কদম হেটেছেন আর হাত পা কাপতে কাপতে মারা গেলেন । এর পিছনে বিজ্ঞানের যুক্তি থাকতে পারে । গর্ভে সন্তানমারা যাওয়া আর হার্টের রোগ সময়মত গরজ না করলে এমন হতে পারে । তবে সত্য বা মিথ্যা আমরা বলতে পারিনা । তবে কিছু লোক বলতো লাশবাহী খাটিয়ার আশেপাশে বাতাসের মত কিছুর চলাচল অনুভব করেছে কয়েকজন ।

**** গাছ নিয়ে মানুষের ভয় বা শ্রদ্ধা ব্যপারটা গ্রামে বহু দেখেছি । ইসলামী পরিভাষাতে শিরক বিদয়াত বলা যেতে পারে , আবার নেহায়েত ভয় পাবার ব্যপার ও হতে পারে । নানা বাড়ির গ্রাম এ বিল জলেশ্বর এ একটা হিজল গাছ ছিল , যায়গাটা সবাই এড়িয়ে চলতো , আবার চাকুরিসূত্রে দর্শনাতে গিয়ে সেখানে মাঠের ভিতর একটা বটগাছ না কি একটা গাছ দেখিয়ে একটা ছেলে এমন কথা বললো যেটা অদ্ভূত ,

(৩০১)

         আবার আমার শ্বশুর বাড়ির গ্রামে এখনো একটা বহু পুরাতন হরিতকি গাছ আছে সেটার ছায়াতে নাকি কোন এক বুযুর্গ বসতেন, সে জন্য এখনো কারো বাচ্চার গালেভাত দিতে গেলে ওই গাছতলাতে কিছুটা ভাত তরকার রেখে আসা হয় । আমাদের গ্রামের পৈত্রিক বাড়ির (শাহপুর, যশোর)থেকে ১০০ গজ দূরে একটা মাদ্রাসার পাশেই একটা বিশাল প্রাচীন শিমুল গাছ ছিল , যেটা নাকি ২৫০ বছরের মত পুরাতন , গ্রামে একটা গল্প প্রচলিত আছে গাছ টি নিয়ে যে এই গাছটা যেখানে সেখানে ২৫০ বছর আগে ছিল প্রমত্তা বুড়ি ভৈরব নদী , এই নদী দিয়ে ইংরেজদের একটা মাঝারি গোছের বাণিজ্য জাহাজ যাচ্ছিল , তো এখানে এসে সেটা তীরের কাছাকাছি এসে ডুবে যায় , আর এই ডুবে যাওয়া যায়গাটা চিহ্নিত রাখতেই তারা তার থেকে সামান্য দূরে একটা শিমুল গাছের ডাল চিহ্ন হিসেবে রেখে যায় , সেটাই কালক্রমে এই মহা শিমুল গাছ হয়ে উঠেছে , ইংরেজরাও আর কোনদিন এই জাহাজটা নিতে আসেনি । কি জানি যদি ঘটনা সত্য হয় তবে এই স্থানের মাটির ৫০ ফুট নিচে হয়তো সেই জাহাজটা আছে ।   গাছটার নাকি ডাল পালা আগুনে দিলে সেই বাড়ির লোকেদের ক্ষতি হতো । এগুলো আসলে গ্রাম বাংলার একেকটা অঞ্চল বা গ্রাম ভেদে লোককাহিনী হিসেবে প্রচলন হয়ে গেছে । সত্য মিথ্যা যাচাই করা হয়নি ।

*****যাদু তন্ত্র মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুজন ফেরেশতার নাম আসে , তারা হলেন  হারুত ও মারুত । একদা যখন দুনিয়ার মানুষেরা সীমাহীন নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে গিয়েছিল তখন ফেরেশতারা আল্লাহতায়ালার কাছে ফরিয়াদ করেন মানুষ কেন আল্লাহ আছেন জেনেও এটা করে আমরা হলে এ রকম কুফরী করতামনা । তখন আল্লাহতায়ালা বলেন তোমরা মানুষের মত হলে এগুলো করতে , এ রকম কথোপকথনের এক পর্যায়ে হযরত সুলাইমান আঃ এর যামানাতে তৎকালীন বাবেল(বর্তমান ইরাক এর বাগদাদ বা প্রাচীন ব্যবিলন ) শহরে হারুত ও মারুত নামক দু জন ফেরেশতা কে মানুষের শরীরে ও প্রবৃত্তিতে পৃথিবীতে পাঠানো হয় । প্রথমে তারা সম্পূর্ণ কলুষমুক্ত থাকেন এবং মানুষকে মোযেজা ও যাদুর পার্থক্য শেখাতে যাদু শিক্ষা দিতে থাকেন ।

(৩০২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

0Shares

Facebook Comments

error: Content is protected !!