Wednesday, April 22, 2020

করোনা মহামারী ?অভিশাপ ? না আল্লাহর সৈন্য?


করোনা covid-19 মহামারী ,অভিশাপ না আল্লাহর সৈন্য?




গত ০২ থেকে ০৩ মাস ধরে করোনা ভাইরাস নিয়ে ফেসবুকে অনেক পোস্ট পড়ে যাচ্ছি।সেখানে বলা হচ্ছে করোনা আল্লাহর সৈন্য ।জেনে রাখুন রোগ ব্যাধি ,বন্দুকের গুলি,বিদ্যুৎ কে কোন ধর্মের মানুষ এটা চেনেনা।আসুন পৃথিবীতে নানা সময় ঘটে যাওয়া কিছু পরিসংখ্যান দেখুন -




মোঙ্গল আক্রমন-মোঙ্গল দের আক্রমনে ১২০০ থেকে ১৩০০ সালের ভিতর ১০০ বছরে ০৫ কোটির মত মানুষের মৃত্যু ঘটে।




প্লেগ-প্লেগ অফ মিসর(৫৪০-৪১)খ্রিঃ তে ১০ লাখ লোকের মৃত্যু।প্রতিদিন ০৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটতো।১৩৩৪ সালের প্লেগ অফ লন্ডন চীন থেকে ইউরোপ এর বিস্তৃতি ,এতে ০২ বছরে ২.৫ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে। ১৩৪৬ থেকে শুরু হওয়া ব্ল্যাক ডেথ নামে অভিহিত প্লেগ এ ২০০ বছরে পুরো ইউরোপে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে,।




স্মলপক্স-১৬৩৩ সালে দুই বছরের জন্য মহামারী হিসেবে এই স্মল পক্স উত্তর আমেরিকাতে ০২ কোটির মত মানুষের মৃত্যু ঘটায়। ১৫১৯ সালে ০২ বছরের জন্য উত্তর আমেরিকাতে ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটায়।




দুর্ভিক্ষ -১৭৭০ সালে ভারতবর্ষে ০১ কোটি মানুষের মৃত্যু।১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ভারতবর্ষে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ লোকের মৃত্যু।




স্প্যানিশ ফ্লু-১৯১৮ থেকে শুরু হয়ে ০২ বছরে ১.৫ কোটি থেকে ০৫ কোটির মত মানুষ মারা গিয়েছিলো।




১ম বিশ্বযুদ্ধ(১৯১৪-১৯১৮)- সামরিক বেসামরিক মিলে দেড় কোটি মানুষের মৃত্যূ।




২য় বিশ্বযুদ্ধ(১৯৩৯-১৯৪৫)- সামরিক বেসামরিক মিলে ০৫ থেকে ০৮ কোটি মানুষের মৃত্যূ।




১৯৭১ সালে আমাদের দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধে-৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু।




এছাড়া জিকা,ডেঙ্গু, পোলিও,এইড্‌স,ক্যান্সা্‌র,আফগান ,ইরা্‌ক, সিরিয়া ,ফিলিস্তিনে মুসলিমদের উপর হওয়া আগ্রাসনে মৃত্যুর কথা বাদ দিলাম।তারপর ধরুন ভিয়েতনাম আর কম্বোডিয়ার যুদ্ধের কথা বাদই দিলাম।






https://bn.wikipedia.org/wiki/ছিয়াত্তরের_মন্বন্তর






https://bn.wikipedia.org/wiki/স্প্যানিশ_ফ্লু






http://bn.banglapedia.org/index.php?title=দুর্ভিক্ষ,_১৯৪৩






https://en.wikipedia.org/wiki/Black_Death




উপরোক্ত পরিসংখ্যানগুলো থেকে দেখুন এই পৃথিবীতে সব কালেই যুদ্ধ বিগ্রহ হোক আর মহামারী হোক আর দুর্ভিক্ষ হোক কোনও না কোনও ভাবে একেক সময় আচমকা লক্ষ কোটি মানুষ মারা যাচ্ছে।মানে আমরা যত সভ্য আর উন্নত হই না কেন দেখুন যুদ্ধ ,মহামারী,দূর্ভিক্ষ,এগুলো কিন্তু ২০ থেকে ৫০ বছর অন্তর অন্তর অসংখ্যা প্রান কেড়ে নিয়ে যাবার এই যে ধারা সেটা কিন্তু ঠিক রেখে চলেছে।বলা চলে এটা প্রকৃতির এক রকম ভারসাম্য রক্ষা নিতি।আমরা যেমন পশু পাখি খেয়ে ভারসাম্য রক্ষা করছি ,তেমনি পৃথিবী বা প্রকৃতি হয়তো মানব জনসংখ্যা এভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে চিরকাল।এক সময় মানুষ সামান্য এই জ্বর ১০২-১০৩ ডিগ্রিতে উঠলে মারা যেতো ,সামান্য ডায়রিয়া,জলবসন্ত এসবে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেতো।এখন কিন্তু এসবে মানুষ মরেনা ,বা মানুষ এইগুলা কোনও রোগের ভিতর ফেলেনা আতংকিত হয়না।আমি ভাবি যে এই যে পৃথিবীর এই একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর বড় বড় অংকের প্রাণঘাতী কার্যক্রম কি মানব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রকৃতি অথবা স্রষ্ঠার পক্ষ থেকে একটা রুটিন ওয়ার্ক ?।প্রকৃতি যখন মনে করে মানবজাতির এই বিস্তার তার জন্য ক্ষতিকর তখন কি এভাবে সে নিজেকে মানে পৃথিবীর পরিবেশকে বসবাস উপযোগী করে নেয়?দেখুন একটা রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে না করতেই আরেকটা মহামারী বা যুদ্ধ যোগাড় হয়ে যায় মানব জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য।হয়তো এটাই সাইন্স ,এটাই সিস্টেম ।




আর আল্লাহ বা ঈশ্বর যে নামেই ডাকুন না কেন ঈশ্বরের অভিশাপের বা গজবের কথা বলছেন।আসলে ব্যাপারটা তা নয়।এই ধরুন আমরা স্বাধীন বিবেক বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও যত্রতত্র ফসলি জমি নষ্ট করে বসতবাড়ি শিল্প কারখানা গড়ে তুলছি,যে কোনও উপায়ে টাকা কামানো কে জীবনের উদ্দেশ্য মেনে নিয়েছি,অবাধ শৃঙ্খলা বিহীন লাইফ স্টাইল ,আর যৌন আচরন এ অভ্যস্ত হয়ে গেছি ।ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য ,সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।প্রকৃতিও তার শোধ নিতে কার্পন্য করছেনা।এটাই প্রকৃতির নিয়ম।পৃথিবীতে ধরুন এই যে করোনা ভাইরাস সেটাও নাকি শুনছি কেউ বলছে চীনের সৃষ্টি ,কেউ বলছে আমেরিকার সৃষ্টি ।একসময় এই যে ডায়রিয়া রোগীর নোংরা কাপড় পর্যন্ত ধোয়া হতো পুকুরে ,আর সেই পুকুরের পানি খেয়ে মরতো হাজার মানুষ।




আর এই যে ইতিহাসের বড় বড় মহামারী আর যুদ্ধে ৯০%ই মরে নিরপরাধ আর নিরীহ মানুষেরা।তাহলে আল্লাহর গজব কি এটা বলা যায়।মুল অপরাধী বা এলিট শ্রেণীর লোকেরা কিন্তু মরেনা। দোষ যদি থাকে তা আমাদের মত মানুষের।এই ধরুন করোনা প্রতিরোধের নিয়মই বা আমরা কজন মেনে চলছি ।যখন গড়ে দেশ জুড়ে আক্রান্ত হবো তখন দোষ দেবো সরকারের ,দোষ দেবো আল্লাহর গজবের।আমেরিকা আর চীনের ক্ষেত্রে কাকতালীয়ভাবে ভাবা যায় আল্লাহর গজব।কারণ তারা মুসলিম নির্যাতন করেছে।কিন্তু এখন কিন্তু সেটা আসলে অমুসলিম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে মুসলিম দেশগুলোতে তো ছড়িয়ে পড়েছে।ফলে আপনি ভাববেন না মুসলিমের ইমান আকিদা ঠিক নেই।এটা ভাবা যুক্তিহীন।কারন আমাদের হুযুর সাঃ মহামারীতে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার কথা বলেছেন।নামাজ বন্ধ বা হ্বাজ বন্ধ এটা কিয়ামতের আলামত ভেবে বিচলিত হবার কিছু নেই।এটা সাময়িক ভাবে মানবজাতির রক্ষাকল্পে গৃহীত পদক্ষেপ মাত্র। গায়েবের বা ভবিষ্যতের খবর একমাত্র আল্লাহ মহান আলিমুল গায়েব জানেন। আমি আলেম নই,আরবী পাঠক্রমে পড়াশুনা নেই ,তবুও বলছি  আসুন এটা আল্লাহর গজব ভাবা বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি,কারন অনেক বড় বড় সম্মানিত আলেমও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।তাই করোনা কে হাল্কাভাবে না নিয়ে সরকারের লকডাউন আর সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি ,সামনে রমজান মাস ,আল্লাহর রহমতের মাসের উছিলায় এই মহামারী থেকে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পুরো মানবজাতির জন্য পানাহ চাই ।