এই মন চায় যে মোটিভেশন | MEHBUB.NET

এই মন চায় যে মোটিভেশন

আমরা এখন আসলে খুবই প্রতিযোগিতার একটা জগতে বসবাস করছি।আমাদের এ প্রতিযোগিতার জগতে অনেক খাটুনি আর পরিশ্রমের পরও আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে ব্যর্থ হই।আসলে এত খাটছি কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি কোথায়।

এরকম একটা পরিস্থিতিতে দরকার হয় মোটিভেশনের।MOTIVATION শব্দটির অর্থ প্রেরনা বা প্রেরনামুলক কথাবার্তা।যে সকল কথাবার্তা বা ঘটনা আমাদের নিরাশ মনে আশার সঞ্চার করে ,নতুন করে ব্যর্থতার পর কর্ম উদ্দীপনা জাগায় তাই ই মোটিভেশন।আমাদের দেশে অনেক নামি দামি থেকে শুরু করে অখ্যাত অনেক মোটিভেশনাল স্পিকার এবং লেখক দেখি।

মোটিভেশনাল স্পিচ এর একটা ভালো দিক হল এটা দুর্বল মনকে শক্তিশালী করবার কোচ হিসেবে কাজ করে।অনেকে ব্যর্থ হতে হতে মন এবং মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।মোটিভেশনাল স্পিচ এ ক্ষেত্রে অনেকের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।   

কিন্তু মোটিভেশনাল স্পিকার রা মোটিভেশন বক্তৃতা দিতে গিয়ে অনুপ্রেনার গল্পের আইকন বা সফলদের ভালো আর উজ্জ্বল দিকটাই আমাদের সামনে তুলে ধরা হই।আমরা হই অনুপ্রানিত।

আসলে মোটিভেশন নিয়ে আমার লেখার ইচ্ছাটা আচমকা হল বলা চলেনা।গতকাল একটা ফেসবুক গ্রুপে একটা পোস্ট দেখলাম, একজন ফ্রিল্যান্সার সাথে তিনি একটা ছোটখাটো কোচিং সেন্টারের মালিক,অনলাইন এ টুকটাক টিউটোরিয়াল সিডিও বিক্রি করেন ।সেখানে লেখা ছিল দেখুন ২০ বছর পড়াশোনার পর ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি কেন করবেন?দেখুন বাইরের দেশের একজন প্রোগ্রামার একটা ওয়ার্ডপ্রেস থিম বিক্রি করে বাংলাদেশি টাকাতে ১০ কোটি টাকা ০৫ থেকে ০৬ বছরে ইনকাম করেছেন ।কিন্তু কথা হল আর যে হাজার হাজার পোলাপান আছে যারা রাতদিন চেষ্টা করে ১০ ডলার আয়ও করতে পারেনি। envato তে এমন শয়ে শয়ে থিম পাবেন বা ফিভার এ এমন শয়ে শয়ে গিগ পাবেন যা একবারও বিক্রি হয়নি।এই কঠিন বাস্তবতার কথা কিন্তু শোনানো হয়না।যদি ধরেন এখানে সাকসেস রেট কত পারসেন্ট সেটা যদি বলে দেওয়া হয় তাহলে কিন্তু যারা যে কাজের যোগ্য না তারা কিন্তু ব্যর্থ হয়ে সময় নষ্ট করতোনা বা নিজের ক্ষমতা সম্বন্ধে জানতে পারতো।নিজের যোগ্য কাজটি বেছে নিতো।ফেইলিউর রেট কমে আসতো।

অনেকে বলেন অমুক নায়ক বা অমুক নায়িকা ,গায়ক গায়িকা বা অমুক মিডিয়া কর্মী হিসেবে সফল হয়েছেন।কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।কিন্তু বলা হয়না কতজন এই জগতে পা রাখতে গিয়ে পড়াশোনা নষ্ট করলো ,কতজন প্রতারকদের ফাদে পরে দেহ ব্যবসাতে জড়িয়ে পড়লো ,সামাজিক রক্ষনশীল দৃষ্টিভঙ্গির ফাদে পড়ে ভালো আর্থিক অবস্থার একটা পরিবারে বা ভালো একটা ছেলের সাথে বিবাহ করে সুন্দর জীবনের সুযোগ হারালো।

অনেক পোলাপান পড়াশুনা বাদ দিয়ে খেলাতে মজে থাকে।খেলা ছাড়া আর কিছু তাদের মাথাতে থাকেনা।সপ্ন টা অনেক বড় ,ভালো কথা ,কিন্তু খেলে তো সবাই সাকিব আল হাসান হবেনা।

অনেকে ঘর দরজা আটকে শুধু বিসিএস বা নিজের বর্তমান যোগ্যতা ও পরিস্থিতির সাথে অসামন্জস্য পূর্ণ বড় কিছু এর চিন্তায় মশগুল থাকেন।ছোটখাটো চাকরির চেষ্টায় করেন না।ফলে একসময় দেখা যায় বিসিএস টাও হয়না ,উপরন্তু ভালো ভালো কিছু ২য় শ্রেণীর বা ৩য় শ্রেণীর চাকরি তথা ডাল ভাত খেয়ে বাঁচার নিশ্চয়তা হাতছাড়া হয়ে যায়।

এখন আপনারা বলবেন চেষ্টা করার মত চেষ্টা করলে কেউ ফ্রিল্যান্সার হতে গিয়ে ব্যর্থ হবেনা।চেষ্টা করার মত চেষ্টা করলে কেউ বিসিএস এ ব্যর্থ হবেনা ,চেষ্টা করার মত চেষ্টা করলে কেউ নায়ক নায়িকা গায়ক গায়িকা হতে গিয়ে ব্যর্থ হবেনা।

আমার কথা হলো ভাই কথা ঠিক আছে ,কিন্তু আপনি যত চেষ্টা করেন বা একটা ক্লাসে যদি ১০০ ছাত্র থাকে আর যদি সবাই চেষ্টার মত চেষ্টা করে তবে ফার্স্ট কাকে বানাবেন ,আমাদের দেশে আছেন চলচ্চিত্রে বর্তমানে ০১ জন শাকিব খান ,কিন্তু যদি ২০ জন শাকিব খান থাকতেন ২০ জনকে নিয়ে কাজ করা সম্ভব হতোনা।২০০০ বিসিএস ক্যাডার সিট দেশে থাকলে যদি ০৫ হাজার পাশ করে ,মেধাক্রম অনুযায়ী বাকি তিন হাজার কে কিন্তু নন ক্যাডার হিসেবে ২য় শ্রেণীর চাকরি করা লাগে।

তো কথা হল আপনি প্রচুর চেষ্টা করুন আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে।সমস্যা নেই।কিন্তু সাকসেস না হলে কি করবেন ,সেটা কিন্তু ঠিক করে রাখবেন।একটা জিনিস ভাববেন যাই করুন বাবার টাকাতে ব্যবসা,পড়াশুনা করে একটা ছোটখাটো চাকরি ,বা নিজে উদ্দোক্তা হয়ে কিছু করা এগুলোর যে কোন একটা কিছু করবার নিশ্চয়তা মনে মনে রেখে বড় টার্গেট কে স্থির করুন।অন্তত যাতে আকাশ থেকে মুহূর্তের মধে মাটিতে না পড়েন।বর্তমানে হাজার হাজার ছেলে মেয়ের হাতে স্মার্ট ফোন আর পি.সি ।অনলাইনে ইনকাম ,শর্ট ফিল্মে অভিনয় ,ইউটিউবিং সহজে এদের কাছে টানে।কিন্তু ভাবুন তো এগুল কি আদৌ হাল্কা ভাবে নেবার মত পেশা?।এগুলো তে সফল হতে গেলে বিসিএস এর থেকে কম খাটতে হয়না ,কম ডেডিকেটেড হতে হয়না ।

তাই যে কোন কাজ করবার আগে সেই কাজের ফেইলিউর রেট টা জানুন।তারপর সেই কাজে নামুন।

HAPPY MOTIVATION ……………………………  

error: Content is protected !!