অমরত্বের প্রয়োজনে | MEHBUB.NET

অমরত্বের প্রয়োজনে

এই পৃথিবীতে মানুষ যে দিন থেকে এসেছে সেদিন থেকে জেনেছে এই পৃথিবী কত সুন্দর।এই পৃথিবীতে আসাটা যত সুখকর ,বেঁচে থাকাটা যত আনন্দের ,চলে যাওয়াটা ঠিক ততটা বিষাদের।সব মানুষের আর্থিক অবস্থা ,জীবনের পাওয়া না পাওয়ার হিসাব এক রকম থাকেনা।তবুও যত অপ্রাপ্তি আর অসুখ থাকুক না কেন পৃথিবী ছেড়ে কেউ যেতে চাইনা।কুরআনে লেখা আছে কুল্লু নাফসিন যাইক্কাতুল মাউত ,প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে।ধর্মগ্রন্থের অমোঘ এসব বানী সত্ত্বেও ধার্মিক বলি আর অধার্মিক ব্যাক্তি বলি কেউই মরতে চাইনা।তো তো যাক সেসব কথা,ভাবুন তো আসা যাওয়ার এই যে সব ব্যাপার চলছে এতে কি লাভ আর ক্ষতি হচ্ছে সেসব নিয়ে একটু ভাবা যাক।

পৃথিবীতে আমরা গড়পড়তা সাধারন মানুষ যা আছি তারা পৃথিবীতে এসে কি করি?এই ধরুন একটা চাকরি,বিয়ে শাদী,তারপর সন্তান সন্ততি বড় হয়ে যেতে তাদের বিবাহ হয়ে যেতেই আমাদের মারা যাবার সময় হয়ে যায়।আসা আর যাবার খেলা।মোদ্দা কথা আমাদের দ্বারা পৃথিবীর তেমন কোন উপকার হচ্ছেনা।কিন্তু এই পৃথিবীতে জাস্টিন ট্রুডোর মত একজন শাসক , আইনস্টাইনের মত ,হকিন্স এর মত একজন বিজ্ঞানী ,রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মত একজন কবি, এরকমটা তৈরি রাতারাতি হয়না।এরকম মানুষ তৈরি হতে অনেক সময় লাগে,কালে ভদ্রে হয়তো তৈরি হয়।কিন্তু এইরকম মানুষেরা পৃথিবীতে যত বেশি বেঁচে থাকবেন পৃথিবীর তত কল্যাণ হতো।এনারা কত কষ্ট করে নিজেদেরকে পৃথিবীর জ্ঞান গরিমা এর চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।কিন্তু মৃত্যু বোঝেনা এইসব মানুষের মূল্য।মৃত্যু মানেই ধ্বংস।ধরুন অদ্যাবধি ইবনে সিনা,আইনস্টাইন,রজার বেকন,নজরুল ,রবি ঠাকুর,সত্যজিৎ রায়,একজন ভালো গীতিকার সুরকার ,কিশোর কুমার বা কুমার শানুর মত কণ্ঠশিল্পী,মাদাম কুরি এনাদের মত শত জ্ঞানী মনিষী বেঁচে থাকতেন তবে পৃথিবীর অভূতপূর্ব কল্যাণ সাধন হতো।আবার আমরা সাধারন মানুষও অনেক ভালো জীবন যাপন করতে পারতাম ।

আর পৃথিবীর কিছু মানুষের জন্য আবার মৃত্যু অপরিহার্য না হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত।এই যেমন ধরুন চেঙ্গিশ খান,হিটলা্‌র,মুসোলিনির মত লোকেরা।এরা না মারা গেলে পৃথিবী নরক এর থেকে বেশি কিছু হয়ে যেতো।

আবার মৃত্যু না হলে পৃথিবী ক্রমাগত আমাদের বংশ বৃদ্ধির কারনে যায়গা দিতে পারতোনা।মানব জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে হয়তো বাসযোগ্য অন্য কোনও পৃথিবী খুজে পেতে হতো আমাদের।বা বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে দিতে হতো।ফলে ভারসাম্য হারানোর মত একটা ক্ষতি হয়ে যেতো।

একটা কথা বলা যায় মৃত্যুর সব থেকে বড় ক্ষতিকর দিক হল পৃথিবীর সুন্দর আর কল্যাণকর মানুষগুলোকে নিয়ে যাওয়া।কত ঘাত প্রতিঘাত,জ্ঞান অর্জন,পড়াশুনা আর অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে জন্ম হয় একজন অভিজ্ঞ আর প্রতিভাধর মানুষের।যে মানুষটা এত কষ্ট করে তৈরি হলো সেই মানুষটা যত বেশি পৃথিবীতে থাকবে পৃথিবী হবে তত সুন্দর।অথচ সেই মানুষটাকে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সে মৃত্যূ ভারি অবিবেচকের মত নিয়ে যায়।দেখা যায় একটা গুণী মানুষ মরলে এমনও হয় বা ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায় তার সমমান গুণী বা প্রতিভাবান মানুষ হাজার বছরেও জন্মেনা ,ফলে এ রকম মানের একজন মানুষের মৃত্যূতে পৃথিবীর ও মানব সভ্যতার অমোচনীয় ক্ষতি হয়ে যায়,কিংবদন্তীর গুণী মানুষের মৃত্যূতে পৃথিবী পিছিয়ে যায় হাজার বছর। আর জানেন তো ভালমানুষ আবার বেশিদিন বাঁচেনা ।আর বাঁচেনা কেন জানেন ,কেন আবার ,মৃত্যুর কারনে।আমাদের প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসগুলোর মতে ভালো কাজ করলে সে হবে স্বর্গ বা বেহেশতবাসী।হয়তো পৃথিবীটা খারাপ মানুষের , সেজন্য হয়তো বন্যরা বনে সুন্দর ভাব সম্প্রসারনের মত ভালো মানুষ শুধু স্বর্গে সুন্দর, সে জন্য স্বর্গের সম্পদ ভালো মানুষ খারাপ মানুষের এই পৃথিবীতে আগাছা ।মৃত্যুর কি এই বোধদয় কোনদিন হবে একজন ভালো মানুষ আর মানুষ আর মানুষের মত মানুষের পৃথিবীতে কত দরকার ?

error: Content is protected !!