Sunday, January 26, 2020

কি আমি ?

মেডিটেশন

এই পৃথিবীতে মানব হিসেবে আগমন ।তো এই পৃথিবীতে মানব হিসেবে তো ভালোই আছি । আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে স্থায়ী একটা কর্মে কর্মরত আছি ,বেশ আছি ।দিব্যি অবসরে আত্বীয় বাড়িতে ঘুরে ,ভালো মন্দ খেয়ে ,কর্মদিবস থেকে ছুটির দিন ভালোই কেটে যাচ্ছে । মোট কথা আমার পরিচয় হলো ছোটখাটো পদে কর্মরত একজন কর্মচারী মাত্র ।মাসশেষে বেতনের সামান্য অর্থে সাধ আহলাদ যথাসম্ভব পুরণের চেষ্টাকারী একজন মানুষ মাত্র ।আর দশজন মানুষ যেভাবে চলছে আরকি ।সমাজের দশটা গড়পড়তা সাধারণ মানুষ বলতে যা বোঝায় আমিও তাই । এই হলো সংক্ষেপে আমার পরিচয় ।




যা ছিল পরিচয় সমস্যা ছিলোনা ।এই হঠাৎ করে কোন একদিন পড়ছিলাম আধ্যাত্ববাদ বিষয়ক একটা আর্টিকেল , আর ছোটকালে পড়েছিলাম যে নিজেকে চিনতে পারে তার আর কাউকে চিনতে বাকি থাকেনা , নিজেকে জানলে আল্লাহ বা স্রষ্ঠাকে জানা যায় । আসলে তাকে আমার এই ক্ষুদ্র মানব মনে ধারণের চেষ্টা যে বৃথা ,আমি কেন পৃথিবীর কোন মহামানবই এই রহস্যের কিনার করতে পারেননি ।




তো এই যে নিজেকে চেনা , এই নিজেটা কে ? এই আমি তো স্রষ্ঠার সৃষ্টি একটি মাটির পুতুল ।আপনারা যাকে দেখেন বাইরে থেকে যে দৃষ্টিতে আমি আপনাদেরও দেখি যে চোখে ।




আসলে এই আমি ,এই নিজেটা , নিজেকে চেনাটা আসলে আমরা আমাদের খোলা চোখে যাকে দেখি সে না ।এটা হলো আমরা যে মূর্তিকে বাইরে থেকে দেখি সে ।তাহলে সে কে ? যাকে চেনার কথা মনিষীরা বলেছেন ? সে কি আমার মন ? না মন না ।মন বলে কিছু হয়না ,মনের আনন্দ অনুভূতিতে বুকে অনুভবের ছোয়া লাগে , আর মনের কষ্টে বুকে ব্যাথা হয় । মন বলে আসলে কিছু হয়না ।মস্তিষ্কের চিন্তা চেতনাকে আমরা মন বলে নাম দিয়েছি ।তাহলে মন বা হৃদয় বুকে থাকেনা ,থাকে মস্তিষ্কে ।




তাহলে দেখা চোখের অনুভূতিতে তাকে আন্দাজ বা অনুমান করার শেষ চেষ্টাটা ব্যর্থ হলো ।




আচ্ছা এই আমি কে ।এই আমির দুইটি অংশ , খোলা চোখে আর বন্ধ চোখে ।এতক্ষণ যা দেখলাম , যা বললাম , খোলা চোখে যা দেখা যায় সেটা ।




মনটা আপনমনে গেয়ে উঠলো চোখ বুজিয়া ভাবোরে মন ,চোখ বুজিয়া ভাবো , কোথায় আমার নিজের বাড়ি কোথায় আমি যাবো ?




সে দিন বাসায় কেউ ছিলোনা । অফিস , খাওয়া দাওয়া প্রাত্যাহিক সব কিছুর পাট চুকিয়ে রুমে একা বসে আছি । চা ,সিগারেট এসবের নেশা নেই । টিভিতে সনি আট এ প্রিয় প্রোগ্রাম সিআইডি চলছে ।ভালো লাগলোনা । আজ অন্য মুডে আছি ।জাগতিক জটিলতা , মানুষের কুটিলতা , নিষ্ঠরতা আর সিআইডির অন্তর্ভেদী দৃষ্টির এ জটিল কমপ্লেক্স আজ ভালো লাগলোনা ।মন আজ অন্য একটা ভাবনায় আচ্ছন্ন ।এবার কানে দিলাম গোল্ডেন নাইন্টিজ এর কিছু গানের মেমোরি কার্ড কালেকশনে ।মাইকেল ক্রেটুর সামুরাইয়ের বিগিনিং মিউজিক টা বার বার বেজে চলেছে এরপর Leo Rojas এর pastor solitario এবং bansuriflute.co.uk থেকে কয়েক বছর আগে ডাউনলোড করা বাঁশির সুর মৃদূ সুরে বেজে চলেছে ।ভালো লাগছে এটা ।সহজে একাকী মনকে রিলাক্স আর হিপটোনাইজ দুইটাই করে দেয় ।এই বাঁশিতে সুর তোলার কত শখ ছিল । অন্যদিন হলে ভূত এফ এম টা ইয়ারফোনে দিয়ে শুয়ে পড়তাম ।




আজ মন অন্য কোথাও বেড়াতে যেতে চাইছে ।এই সুন্দর শরীরের বাইরের মানুষটা কত যায়গায় ঘুরতে যায় , মনের মানুষটাকে নিয়ে একদিন ঘুরতে বের হবো হবো করে তা আর হয়ে ওঠেনা ।লাইট অফ করে চুপচাপ বিছনায় আসন দিয়ে বসে পড়লাম ।শীতকালের শুরু ,তাপমাত্রা সুসহনীয় ।না আছে শীতের কাপুনি , গরম তো নেইই । শরীরের এবং মনের স্নিগ্ধ ভাব ধরে রাখতে এ আবহাওয়ার বিকল্প নেই ।সাথে বাড়তি পাওনা ঘরে ফ্যনের শব্দ নেই ।




একেবারে উপযুক্ত পরিবেশ ।




চোখ বন্ধ করলাম ।বাইরের দুনিয়ার অনেক কিছু মনে পড়ছে । সারাদিন কি করেছি , কি খেয়েছি , কি দেখেছি সে সব । এসব ভাবনাগুলো ভুলতে হবে ।বহুদিন চেষ্টা করেছি ।এগুলোর খেয়ালে অন্তর্জগৎ কে আর দেখা হয়নি । বাইরের সব কিছু ভুলে চোখ বুজে কি দেখছি , সেদিকে মন দিলাম ।সব ভুলে গেলাম ।শুধু অন্ধকার ,নিকষ কালো অন্ধকার ।কিছু দেখছিনা । এভাবে কতক্ষণ কাটলো । আস্তে আস্তে অন্ধকারে পরিষ্কার অনেক দৃশ্য ফুটে উঠলো ।হ্যা, চোখ বুজেও দেখতে পাচ্ছি । সে আরেক জগৎ ।মুহুর্তে অনেক আগের জীবনের মরচে ধরা স্মৃতিগুলোতে ঘুরে আসছি ।স্মৃতির আয়না থেকে ধুলো সরে যাচ্ছে , স্মৃতির আয়নার নিজের স্নিগ্ধ চেহারা ফুটে উঠছে ,চেহারায় অপার্থিব ইনোসেন্স ভর করছে ।আকাশে থালার মত বিশাল এক চাঁদ উঠেছে , জ্যোৎস্নায় গ্রামের মেঠোপথ প্লাবিত । বাবার হাতে হাত রেখে হেটে চলেছি শৈশবের অজানা এক গ্রামের মেঠোপথ ধরে ।রাস্তার দুই পাশে ঝিঝি পোকার ডাক ,পায়ের নিচে ধূলি ধূসরিত মেঠোপথ , সাথে বাবা , ছোট এক বালক বলছে চাঁদটা আমাদের সাথে বাড়ি যাচ্ছে , বসন্তের হাওয়ায় শুকনো পাতাগুলো গাছ থেকে পড়ার দৃশ্য আর মেঠোপথের দুই ধারের ধান ক্ষেতে ঢেউ আর দুর থেকে কারো বাজানো বাঁশির সুর ।এই যে অন্ধকারে যাকে দেখছি , এই আমি টা কে , খোলা চোখে যখন কোন সরিষা ক্ষেতের পাশ দিয়ে হেটে যায় , দুর দিগন্তে তাকাই , সেখানে আমি আসলে কে , চোখ দেখে ভালো কথা , কিছু খেলে জিহ্বা স্বাদ নেয় ভালো কথা , কিন্তু এই যে কিছু দেখার অনুভব , খাবারের স্বাদ পাবার অনুভব , এই অনুভবটা হলো অমর আমি ।এক সময় সুন্দর এ মাটির দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে । থাকবো শুধু অনুভব রূপের আপনি আমি ।বেঁচে থাকতে হবে হয়তো লক্ষ কোটি ধুলিকণা হয়ে । উত্তর পুরুষ কারো গায়ে লাগলে ধুলো বলে ঝেড়ে ফেলে দেবে ,বলতে পারবোনা আমি তোদের আদি ।চোখ বুজে যে অনুভবটা পাচ্ছেন এটাই আপনার সব পরিবর্তিত রূপের সাথে থাকবে ।বলতে পারেন এটাই আপনি , এটাই রুহ , আত্বা , নাস্তিকের ভাষায় ইলেকট্রিসিটি। আসা যাওয়ার এ খেলায় ভিতরের আমির সাথে কথা বলবার একটু সময় ব্যস্ততার মাঝে করা হয়ে ওঠেনা ।এই যে পৃথিবীতে এলাম , সেই জন্ম লগ্ন থেকে দুটো ভালো খাওয়া পরার যোগ্য হবার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি ।যথেষ্ট লড়াই হয়েছে ।একবার ভেবেছি কি মরণের গ্যারান্টি আছে , জীবনের গ্যারান্টি নাই ।এই মানবজীবন পেয়ে পৃথিবীতে খাওয়া পরার চিন্তা ছাড়া আর কি করেছি ।এত টেনশন বাদ দেন নারে ভাই , জীবন কদিনের? আপনার কর্মগুণ আর রুজিতে যেটুকু বরাদ্দ তার বেশি খেতে পারবেন না ।নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন পৃথিবীর প্রকৃতি ,জীব ,সংগীত ,সাহিত্য কতটুকু দেখেছেন ,শুনেছেন আর পড়েছেন ? নিজের পরিবারকে কতটুকু সময় দিয়েছেন ? কতটুকু আনন্দ উৎসবে অংশ নিয়েছেন ? ইউটিউব ইন্টারনেটের যুগ , আমরা ধন্য যে এই যুগে আল্লাহ পাঠিয়েছেন ,হাতে ইন্টারনেট থাকলে বাইরের ভিন্ন দেশ ,ভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ,উৎসব সংস্কৃতি দেখতে স্ব শরীরে যেতে হয়না । মহান স্রষ্ঠার ইশারায় পৃথিবী নামক জগতে আমরা একেকজন একক ভূমিকায় অভিনয় করে পৃথিবীকে লীলা মুখর করে রেখেছি । যার যার পালা শেষ হলে মঞ্চের পিছনে চলে যেতে হবে ।




লেটস স্ট্যার্ট এন্ড গো অ্যকটর নাম্বার ৫১০৯৮০০০০০.........মিষ্টার মেহবুব রহমান




হা!হা!হা!হা!হা!