Sunday, January 26, 2020

পারমাণবিক বোমা অভিশাপ নয় আশীর্বাদ

বোমা

পারমাণবিক বোমা নামটি শুনলে ভেসে ওঠে ১৯৪৫ সালের ০৬ আগষ্ট জাপানের হিরোশিমাতে বিস্ফোরিত লিটল বয় এবং ০৯ ই আগষ্ট নাগাসাকিতে বিস্ফোরিত ফ্যাটম্যান নামের দুই বিভিষীকা দানবের কথা ।মানব ইতিহাস সব থেকে সংক্ষিপ্ত সময়ে ধ্বংশলীলা প্রত্যক্ষ করেছিল সেদিন । যার শোকস্মৃতি আজো বিশ্ববাসীর কাছে অম্লান ।U.S এর B-29 মডেলের বিমান থেকে ফেলা বোমাটি মুহুর্তের মধ্য ০৭ মিলিয়ন ডিগ্রী বা ৭০ লক্ষ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা উৎপন্ন করে ফেলেছিল আর সার্বিক পরিবেশের গড় তাপমত্রা হয়েছিল ৩৯০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।ভাবতে পারেন ,যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা মাত্র ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস অতিক্রম করলে আমাদের খবর হয়ে যায়।যদিও উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে হিরোশিমাতে ০১ লাখ ৪০ হাজার আর নাগাসাকিতে ৭৪ হাজার লোক মুহুর্তের ভিতর মারা যায় ।কিন্তু তথ্যটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য নয় ।ধারণা করা হয় আরো কয়েকগুণ বেশি লোক মারা গিয়েছিল সেদিন । আর এর বহু বছর পরও পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তায় প্রচুর প্রাণহাণী ঘটে । নিউক্লিয়ার ফিশান অথবা ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে অল্প পদার্থ থেকে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় এ বিক্রিয়াতে এবং ব্যাপক ধ্ববংশযজ্ঞ চালায় ।একটি ১০০০ কেজি এর পারমাণবিক বোমা ১০০ কোটি কেজি এর যে কোন সাধারণ বিস্ফোরকের সমান বিস্ফোরণ ক্ষমতাধারী । আর হিরোশিমাতে বোমার ধাক্কায় ৭৬ হাজার বিল্ডিং তাৎক্ষণিক ভাবে অর্থাৎ কয়েক মিনিটের ভিতর পুড়ে কয়লা হয়ে গিয়েছিল । কালজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিখ্যাত E=mc2 সুত্রের উপর ভিত্তি করে এটির আবিষ্কার আইডিয়া আসে । হাঙ্গেরিয়ান বিজ্ঞানী লিও জিলার্ড ও আইনস্টাইনের অনুমতিক্রমে ভবিষ্যতের ভয়াবহতা অনুমান স্বত্তেও তৎকালীন আমরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের আমলে তিনি এর অনুমতি প্রদান করেন ।




যাক এটা তো গেলো জানা ইতিহাস ।কিন্তু কথা হলো কনো শিরোনাম দিয়েছিলাম "পারমাণবিক বোমা অভিশাপ নয় আশীর্বাদ" সেটা এখন বলি । প্রথমত ধরুন এটা যদি কোন দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ স্থাপন সম্ভব হয় তবে যা ঘটবে তা হলো , ধরুন বর্তমানে প্রচলিত বৈদ্যুতিক কয়লাচালিত চুল্লী বছরে ৩.৫ বিলিয়ন কিলোওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে , যা সারাবছর ৪০ লাখ ১০০ ওয়াটের বৈদ্যুতিক বাল্ব ২৪ ঘন্টা জালিয়ে রাখতে সক্ষম । (০১ কিলোওয়াট=১০০০ ওয়াট )।১০০ ওয়াটের একটা বাল্ব সারাবছর অন করে রাখতে ৩২৫ কেজি কয়লা প্রয়োজন ।ঘরে যখন লাইট বা ফ্যান অফ না করেই বাইরে বের হই আমরা কখনো কি ভাবি ব্যাপারটা । অপরদিকে একটি নিউক্লিয়র রিঅ্যাকটর বা পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাৎসরিক ৪৬৯৭৬৭৫ মেগাওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ বাৎসরিক উৎপাদন করে ।০১ মেগাওয়াট=০১ মিলিয়ন ওয়াট । ভাবুন পার্থক্যটা কোথায় । যদিও পার্থক্য ভেদে এর বাৎসরিক ব্যয় ৪০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার হতে পারে ।




দ্বিতীয়ত এই পারমাণবিক বোমা পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলোর হাতে মজুদ থাকায় ইচ্ছামত কোন বৃহৎ শক্তি অপর শক্তির উপর চড়াও হতে পারছেনা , কারণটা হলো যুদ্ধের যে কোন পর্যায়ে আচমকা এর ব্যবহারে যে কোন প্রবল পরাশক্তি মুহুর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হতে পারে । ফলে আগের যুগের মত যখন তখন এক পরাশক্তি অপর পরাশক্তির উপর আক্রমণ করতে পারছেনা ।ফলে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত ৭৫ বছর হয়ে গেছে , তবু আর কোন বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি ।যেখানে বর্তমান বিশ্বে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র , রাশিয়া,চীন,উত্তর কোরিয়া ,ভারত ,পাকিস্তান ,ইসরায়েলের বৃহৎ জনশক্তি ও সামরিক শক্তি সম্পন্ন দেশগুলো রয়েছে ।




এই একাবিংশ শতাব্দীতে যদি কাউকে পুরো পৃথিবীর বাদশাহী লাভের জন্য যুদ্ধ করতে হয় , যুদ্ধ করে জয়ী হবার পর বাদশাহী লাভের মজা লুটতে হয় তবে , অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র ফেলে আগের যুগের মত বন্দুক , ট্যাংকের যুদ্ধ করতে হবে । যদি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয় তবে ব্যাপারটা হবে এমন যে না থাকবে বাঁশ না বাজবে বাঁশরী । পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কার করে তাহলে কি লাভ হলো ? এতো , ডায়াবেটিকস সম্পন্ন আর্থিক সচ্ছল মানুষের মত অবস্থা । পারমাণবিক বোমাটা হলো বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে ডায়াবেটিকস এর মত ।দশটা মিষ্টি কেনবার টাকা আছে , ক্ষুধা ও আছে , কিন্তু এক পিস মিষ্টির অর্ধেক খেয়ে বা কখনো শুধু মিষ্টিটা দেখে তৃপ্ত থাকতে হয় প্রাণে বেঁচে থাকবার তাগিদে ।




পারমাণবিক বমা থেকে লাভ হচ্ছে অপেক্ষকৃত কম শক্তিসম্পন্ন খনিজ শক্তি সমৃদ্ধ দেশগুলো ভয় দেখিয়ে সহজে কব্জা করে নেওয়া ।আপোষ করলে সমস্যা নেই ,আক্রমণের শিকার হতে হবেনা । একই খনিজ সম্পদ নিয়ে সৌদি আরব ,কুয়েত ,ওমান ,কাতার ভালো পজিশনে আর যেসব দেশ খনিজ সম্পদের জন্য আমেরিকান আক্রমণের শিকার তাদের কথা নাই বললাম ।নিজ দায়িত্বে গবেষণা করে নিন প্লিজ ।