কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩+১৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩+১৪

প্রকৃষ্ট উদাহরন হিসেবে বলা যেতে পারে ব্রিটেন এর লৌহযুগ শেষ হয় রোমান বিজয় এর মাধ্যমে , এর পর হতে ব্রিটেন এর লিখিত ইতিহাস এর শুরু । এক লাখ (১,০০,০০০) খ্রিষ্ট পূর্বাব্দ থেকে শুরু করে চল্লিশ হাজার(৪০,০০০) বছর পূর্ব পর্যন্ত সময়কাল এই প্রস্তর যুগ ।এই যুগের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো কৃষির উদ্ভাবন, বন্যপ্রানীকে গৃহপালিত পশুতে রূপান্তর ও তামার আকরিক গলিয়ে তামার ব্যবহারের মাধ্যমে ধাতুর ব্যবহার শুরু । কথাটা এখানেই কপার বা তামার গলনাংক ১০৮৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস । কাঠের চুলার আগুনের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ৫৯৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্য্যন্ত উন্নীত করা সম্ভব ।তো সেই সময়ে (আমাদের ভাষাতে অনুন্নত যুগ) তামা আকরিক সংগ্রহ থেকে শুরু করে তামার ১০৮৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস গলনাংকে পৌছে তামার ধাতব বস্তু বা তৈজস তৈরি করাটা যে গল্প কথা নয় সেটা নবম শ্রেনীর একজন সায়েন্স স্টুডেন্ট মাত্র খুব ভালোভাবে বুঝতে পারবে

কিন্তু একটা জিনিস কি জানেন , আমার কিন্তু মনে হয় মানুষ তার আদিমতম পর্যায় থেকেই চির উন্নত । মানুষের সমাজ ব্যবস্থা , খাদ্য , বাসস্থান চিরকালই এমন । যুগে যুগে তার জীবনযাত্রা ও সুযোগের রূপ পরিবর্তন হয়েছে মাত্র । যুগে যুগে  ভিন্ন রুপে ভিন্ন মাত্রাতে বিজ্ঞান ফিরে এসেছে তার কাছে । বিজ্ঞান ছাড়া কোন যুগেই চলতে পারেনি মানুষ । মানুষ তার সৃষ্টির শুরু হতে যত শতাব্দী অতিক্রম করেছে তার সাথে ছিলো বিজ্ঞান অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে ।

তাহলে প্রশ্ন এসে যায় তাই যদি হবে তাহলে আমরা অনুন্নত বিজ্ঞান বিহীন মানুষের ইতিহাস পাই কি করে ? আসলে পৃথিবীর সব অংশে মানব সভ্যতার সমান পত্তন হয়নি সকল কালে, সকল যুগে । প্রাচীন সভ্যতায় উল্লেখযোগ্য হিসেবে গ্রীক, রোমান, মিশরীয়, ভারতীয়, ইনকা সভ্যতার উল্লেখ আমরা পাই । এই সভ্যতা গুলোর অবদান হিসেবে ইউনানী ঔষধ, আয়ুর্বেদিক ঔষধ, মিসরের পিরামিড, অ্যাস্ট্রোলজি  উল্লেখযোগ্য । এ ছাড়া এই সভ্যতাগুলোর থেকে আমরা বিভিন্ন মহা কাহিনী আখ্যান নির্ভর গ্রন্থ পাই ।

(১৩)

 মহাভারত, হোমারের ইলিয়ড ও ওডিসি উল্লেখযোগ্য (ইলিয়ড ও ওডিসির ট্রয় প্রসঙ্গে পরে আসছি ) | আসলে একটা সভ্যতা উন্নত না অনুন্নত ছিলো সেটার  রায় দিতে গেলে শুধু মাত্র বর্তমান যুগের মত আবিষ্কার গুলো ছিলো কিনা বা এখনকার যুগের মত সুযোগ সুবিধা ছিলো কিনা এটা দিয়ে সেই যুগকে বিবেচনা করা চলেনা । উন্নত এবং জীবনের সঙ্গা যায়গা এবং আবিষ্কার এবং আপেক্ষিকতা (আপেক্ষিকতা তত্ব মতে সার্বজনীন সত্য বলে কিছু নেই ,সত্য দৃষ্টি স্থান পরিবেশ ও ক্ষমতা ভেদে ভিন্ন হতে পারে ) ভেদে ভিন্ন হতে পারে । ধরুন আপনি একটা যায়গাতে স্থির ভাবে দাড়িয়ে আছেন, আপনার সামনে দিয়ে একটি ১৫০ কি.মি/ঘন্টা গতিবেগে একটি ট্রেন চলে যাচ্ছে । আপনি তখন ট্রেনটিকে আপনার সামনে দিয়ে আধা দৃশ্যমান ও দ্রুত ধাবমান একটি অবজেক্ট হিসাবে দেখছেন । ধরুন পাশাপাশি দুটি ট্রেন –ÔকÕ  ও ট্রেন – ÔখÕ  রাখা আছে  । এই দুইটি ট্রেন কে রাখা হলো নির্দিষ্ট একটা দুরত্ত্বে  । এই দুইটি ট্রেনের স্টার্টিং পয়েন্ট একেবারে এক দাগে রাখা হলো, এই দুইটি ট্রেনের গতি একই সেকেন্ড রাখা হলো । তখন আপনি ক অথবা খ যে ট্রেনের যাত্রীই হোন না কেন উভয় ট্রেনের যাত্রীরা পরষ্পরকে স্থির ও একই স্থানে স্থির দেখবে । শুধু মাত্র যদি কোন যাত্রী  ট্রেনের চাকার দিকে তাকান তবে তিনি দেখবেন চাকা গতিশীল ।এটাই আপেক্ষিকতা । জীব হতে হলেই যে আমাদের মানুষের বসবাসের মত উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে হবে এমন কথা নেই । কারন মানুষই একমাত্র জীব নয় । প্রত্যেকটি জীব এর ভিতর ভাষাগত ও জীবনযাত্রাতে রয়েছে  বিস্তর ফারাক , একটা দুর্বোধ্য দুরত্ব রয়েছে প্রাণীকুলের ভিতর । আমরা মানুষ হয়ে সকল প্রাণী জগতের ভাষা ও জীবনাচরন কি বুঝি ? । প্রাণীর কথা না হয় বাদ দিলাম । শুধুমাত্র আমরা মানব জাতির ভিতর কত বৈচিত্র , কত প্রকারভেদ প্রকরণ । মানব জাতির রয়েছে কত প্রকার ভাষা, এক জনের চেহারার সাথে আরেকজনের চেহারার মিল নেই । দু জন চাইনিজ বা তামিল যদি তাদের নিজস্ব ভাষাতে কথা বলে আর তার পাশে একজন বাঙালী যদি দাড়ানো থাকে তবে তখন কি কিছু বুঝতে পারবে ? চাইনিজ ও তামিল ভাষায় কথা বলা মানুষ দুটোর ভাষা বাঙালীর কাছে দুর্বোধ্য বা পাখির কিচিরমিচির ছাড়া আর কিছু মনে হবেনা ।

(১৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!