কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯৩+৯৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯৩+৯৪

০৮) একটা প্রচলিত গল্প আছে যে একজন লোক  বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে গিয়েছিল শ্মশান এ একটা ডাল পুতে রেখে আসবে, সেটা করতে গিয়ে নিজের লুঙ্গিতে ডাল পুতেছিল,  ভুত নিয়ে এ রকম একটা নির্মম হাসির গল্প আছে । এক লোক গল্প করছিল তার বেশ কিছ বন্ধুদের সাথে ।গল্পে গল্পে কথা উঠলো যে কে কত সাহসী তার প্রমান দিতে হবে । তার ভিতর এক জন ছিল যে সে খুব সাহসী লোক  ।সে বলল আমি সাহসী কি প্রমান দিতে হবে বলো । তখন বন্ধুরা বলল তুমি রাত ০২ টার সময়ে শ্মশানে গিয়ে একটা ডাল পুতে আসবে আমরা তুমি আসার পর সবাই মিলে সেই ডালটা দেখে আসব যে তুমি পুতে এসেছ কিনা ।তাহলে তোমাকে সবাই মিলে তোমার ইচ্ছা মত ভরপুর খাওয়াবে  । তো বন্ধুটি তো বুঝে গেল ভয়ে তার হাত পা সেধিয়ে যাচ্ছে ।কিন্তু উপায় নেই, বাজি যেহেতু ধরেই ফেলেছে ।সাহস তো দূরে থাক সে কখনো ভাবেনি যে রাত ০২ টার সময় শ্মশান এর নিঝুম পরিবেশের ভয়াবহতা , বা লোকালয় থেকে ০২ কিলোমিটার দুরের স্রোতস্বিনী নদীর ধারের শ্মশান এত ভয়ংকর হতে পারে। দূরে চাঁদের আলোয় নদীর দিকে তাকালেও গায়ের ভিতর ঝাড়া দিয়ে উঠছে ।ব্যাপারটা এত ভয়ংকর যে কোন দিন বন্ধুদের কাছে বসে গল্প করে ভেবে দেখেনি । আজ একটা মড়া পুড়িয়েছে, সেই একটা মড়া পোড়া গন্ধ  আসছে ।যাক এত কিছু ভেবে লাভ নেই।ডাল টা পুতে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে বুকে যায় । এই দিলাম পুতে এবার ফিরতে গিয়ে দেখে ওরে বাবা কে যেন পিছন থেকে টেনে ধরে রেখেছে।এবার সে ভাবলো এবার কাকে যে দেখতে হবে  ভয়ে গা ঘেমে সেখানেই বন্ধুটি মরে পরে রইলো ।সারা রাত বন্ধুটির জন্য অপেক্ষা করে সকালে তার বন্ধুরা সবাই চলে গেল বন্ধুর বাড়ি, সেখানে না খুজে পেয়ে শ্মশানে গিয়ে দেখল বন্ধুটি মরে পড়ে আছে ।কিন্তু একটা অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করলো দেখলো বন্ধুটির লুঙ্গির একটা কোন সেই ডাল এ আটকানো আছে  ।মানে ও ডাল পুততে গিয়ে নিজের লুঙ্গিতে পুতে ফেলেছিল, ডাল পুতে ফেরবার পথে ওর মনে হয়েছিল ওর লুঙ্গি কেউ টেনে ধরে রেখেছে।এই ভয়েই সে মারা গিয়েছিল ।আসলে মানুষকে  বনের বাঘ এ খায়না, খায় মনের বাঘ এ , ভূত থাকে আপনার অন্তরে ।

(৯৩)

         ০৯) গ্রামে একটা  গল্প প্রচলিত ছিল যে রাতে মাছ ধরতে গিয়েছে কেউ ,  সেখানে ভুত এ সব কাচা মাছ খেয়ে ফেলছিল, ভুতটা ছিল তার বন্ধুরুপী ভুত। ঘটনাটা ছিল এমন যে সে রাতে দুই বন্ধুতে মিলে মাছ ধরতে গিয়েছিল এক বন্ধু মাছ ধরছিল আর এক বন্ধু নৌকার এক কোনে বসে ছিল হঠাৎ খেয়াল করল যে হাড়িতে যে কটা মাছ রেখেছে সেই মাছ আর নেই, গেল কোথায় , হঠাৎ দেখলো যে সেই বন্ধুটির মুখে রক্ত লেগে আছে আর সে হাঁসছে । তখন সে ভাবলো যে এ আমার বন্ধু নয় । এ হলো অন্য কিছু, মানুষ কি কাঁচা মাছ খেতে পারে।বলি কেন পারেনা,নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজ বাদে মানুষ পারেনা এহেন কোন কাজ আছে কি, যারা সাইকি বা মানসিক রোগের এর ডাক্তার তাদের কাছে এরকম হাজারটা অদ্ভুত চরিত্রের রোগী আসে  ।কত বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ আছে না দেখলে বোঝা যাবেনা  । মানুষের কলিজা খেকো মানুষ আছে , মানুষের মাংস খায় এমন মানুষ আছে ,  বালি পাথর খায় এমন মানুষ আছে, টিকটিকির লেজ খাই এমন মানুষ আছে , আর মাছ তো মামূলী ব্যাপার মাত্র  ।জাপানীরা তো কাচা মাছ খায়, সাপের জুস খায় কোরিয়ানরা ।কুকুর খায় ভিয়েতনামীরা, কোরিয়ানরা  ।তাই বলে আপনি আমি তাদের বলবো ভূত সেটা তো হয়না  । দেখা গেলো ঐ বন্ধুটির কাঁচা মাছের নেশা ছিলো , রাতে নৌকায় বসে খেতে খেতে কত খাচ্ছে সেই দিকে খেয়াল ছিলোনা, সব মাছের পুরো খাবে এমন কথা নেই, আধা খেয়ে খেয়ে ফেলে দিয়েছে  ।বাচ্চাদের কে অনেক সময় দেখেছেন চক অথবা বালি খেতে, এটা সাধারনত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষাতে pica (পিকা) বা আয়রন অভাব বা রক্তস্বল্পতা নামে পরিচিত । অনেকে বলে থাকেন কিছুটা যকৃতদুষ্টি হতেও পারে। এখন আপনি বা আমি নিজের কাছের মানুষদেরই অনেক বিকৃত অভ্যাস এর খবর রাখিনা। পত্রিকাতে এমন পাওয়া গেছে যে একটা লোক খুন বা ধর্ষন করে এসে নিজের পরিবারের সাথে এসে রাতের খাবার খেয়েছে , আনন্দের সাথে টিভি দেখেছে , কিন্তু তার পরিবার সামান্যতম আচও করতে পারেনি ব্যাপারটা ।সেখানে কাঁচা মাছ খাওয়া তো কোন ব্যাপার না  ।এখন ওই বন্ধুটি কাঁচা মাছ খাওয়ারত অবস্থাতে ওই রুপে ধরা পড়ে চরম  লজ্জিত হয়ে বন্ধুটির সাথে ধস্তাধস্তি করে বন্ধুটিকে আঘাত করে নৌকা থেকে পালিয়ে এলো ।

(৯৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!