কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯১+৯২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৯১+৯২

আমাদের বর্তমান ঘনবসতি পুর্ণ, আলো ঝলমল যায়গাতে এটা দেখা বা অনুভব করা যাবেনা একদমই । আসলে মানুষের সুন্দর চেহারা বা পোশাকের আড়ালে যে ভয়ংকর ক্ষতিকর বা কুৎসিৎ মানসিকতা থাকে সেটাকে ভূতের থেকে কম কিছু বলা যাবেনা । পৃথিবীর সব থেকে হিংস্র আর ভয়ংকর প্রাণী বাঘ –সিংহ-সাপ এগুলো । কিন্তু এরা আর কটা মানুষ বা প্রাণী হত্যা করে, তার থেকে মানুষ কয়েকশো গুন বেশি হিংস্র। আর  ভুত দেখার পরিবেশে থাকতে হয় একা । আসলে কেউ যদি ভুত দেখতে চান, বা ভুত কি, আছে কি নেই জানতে চান তাহলে বেরিয়ে পরুন সম্পুর্ণ একা এবং শুধুমাত্র এমন এক পরিবেশে যেখানে মাইল এর পর মাইল ধুধু মাঠ আছে, কোন মানব বসতি নেই, নেই কোন বিদ্যুৎ বাতি, একা একা হাটুন সেই মাঠ দিয়ে, সেই রাস্তা দিয়ে, যদি সত্যিই ভুত অনভুব বা দেখার ইচ্ছা থাকে তাহলে এরকম পরিবেশে একা বের হলে আশা করি আপনার উত্তর আপনি নিশ্চিত পেয়ে যাবেন । তবে এরকম চেষ্টা করে কেউ কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমি দায়ি নই । সম্পুর্ণ নিজ দায়িত্বে নিজ ঝুকিতে কাজ করুন । পৃথিবিতে যা দেখা যায়না তা নেই বলে দেওয়াটা বোকামি । আপনার গায়ে যদি আঘাত বা কোন কারনে ব্যাথা হয় তাহলে আপনি কি ব্যাথা দেখাতে পারবেন, মাথা ব্যাথা হলে সেটা কি দেখাতে পারবেন, পারবেননা, শুধু বলতে পারবেন ব্যাথা হয়েছে কিনা । কিন্তু আমি যদি বলি ব্যাথা বলে কিছু নেই, সেটাও সঠিক হবে এই যুক্তিতে যে আপনি যে মিথ্যা বলছেননা, ব্যাথা নিয়ে তার প্রমান কি ? আপনি তো কোন সুবিধা আদায়ের জন্য ও মিথ্যা ব্যাথার নাটক করতেই পারেন ।

৫) আমি চাকুরির বদলিজনিত কারনে উন্নত বাসা না পাওয়াতে কিছুদিন পুরাতন  একটা বাসাতে থাকতাম , বাসাটা অবশ্য বেশ পুরাতন , তা অন্তত পক্ষে ৬০ বছরের কম হবেনা । তো বাসার আশে পাশে অনেক গাছ আছে ।রাতে মনে হতো আমি একটা জঙ্গলের ভিতর কোন পোড়োবাড়িতে আছি। একদিন আমি বারান্দাতে দাড়িয়ে আছি। এমন সময় একটা গাছ এর পাতা নড়তে দেখলাম ।মনে করলাম বাতাস বইছে হয়তো । কিন্তু অদ্ভুত লাগলো এটা যে আশেপাশের চালতা, লম্বু, সজনা কোন গাছের পাতা নড়ছেনা ।কিন্তু ওই আতা গাছটির পাতা নড়ছে ।

(৯১)

         নড়ছে মানে বেশ আলোড়িত হচ্ছে ।আলোড়ন টা এমন যে বাতাস এ পাতা নড়া নয় ।গাছ এর এ ডাল থেকে ওই ডালে কেউ গেলে যেমন হয় তেমন নড়ছে ।

৬)একদিন আমি বাসাতে একা । আমার স্ত্রী গেছে বাবার বাড়িতে । এমন দিনে প্রচন্ড কর্ম ব্যস্ত দিন কাটিয়ে আমি রাত ০১ টার দিকে ঘুমাতে গেলাম  ঘরের বৈদ্যুতিক আলো বন্ধ করে দিয়েছি । বিছানায় বালিশে যেই  না একটু চিৎ কাত হয়েছি অমনি মনে হলো কেউ যেন আমার গলা টিপে ধরল । মনে করলাম হয়ত সারাদিন অত্যন্ত কর্মব্যস্ততা গেছে বলে এ ভ্রম, ব্যাপারটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আবার ঘুমালাম, ০৫ মিনিট হয়নি, এমন সময় মনে হলে কালো করে কেউ আমার পাশে শুয়ে আছে, আমার গলার উপর হাত দিয়ে । এবার আমি সম্পুর্ণ সজাগ হয়ে গেলাম, কিন্তু অনুভব করলাম আমার সারা শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে,গলা বন্ধ হয়ে গেছে , চিৎকার করতে পারছিনা, কিছু সময় পরে দেখলাম পাশে আর কেউ নেই, ধড়মড়িয়ে বিছানা থেকে উঠে সাহস করে ঘরের লাইট অন করে  দিলাম, দেখলাম ঘরে অবশ্য কেউ নেই । তাড়াতাড়ি মোবাইল দিয়ে ফোন করে রাতে ডিউটি করছে এমন দুজন লোক ডেকে সব ঘটনা খুলে বলতে ওনারা আমাকে বললেন লাইট অন করে ঘুমান, কোন ভয় নেই, পরে শুনলাম কেউ একজন এই রুম এ অনেক আগে  মারা গেছে এবং পাশের রুমে আমাদের একজন অতি সিনিয়র কলিগ চাকুরিরত অবস্থাতেই বুড়ো বয়সে মারা গেছিল। ব্যাপারটা মানসিক বিভ্রমের কারণে হওয়া বোবা ভুতের ব্যাপার হবে।চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটা স্বাভাবিক মানসিক সমস্যা বা ডিজঅর্ডার বলা হয় ।

৭) ঘটনাটা ২০০১ সালের নভেম্বর মাস ।  একদিন খবর পেলাম আমার বোন ভয় পেয়েছে নানি বাড়িতে প্রচন্ড জ্বর ১০০ ডিগ্রিতো হবেই । কি করে জ্বর এল , কেন ভয় পেলি বলতেই ও যা বলল সেটা শুনে আমি বেশ ঘাবড়ে গেলাম।এরকম ব্যাপার হলে তো আমি মুর্ছা যেতাম । ও নানু বাড়িতে গিয়ে পানির কলের দিকে এগিয়েছিল মাত্র । হঠাৎ নজর এ এলো যে ওর সামনে দিয়ে একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড উড়ে গেল  ব্যাপারটা তা নয়, আরো সিরিয়াস হলো যে আগুনটা সামনের কদবেল গাছের ডালে বেশ অনেক্ষন জ্বলন্ত থেকে নিভে গেল । গাছে কোথাও পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি পরে  ।

(৯২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!