কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৮৯+৯০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৮৯+৯০

         সব নিজের মনপ্রান দিয়ে বাজানোর ফল ভেবে উপভোগ করছিলাম সব । কিন্তু হঠাৎ একটা জিনিস আমাকে ভয় ঢুকিয়ে দিল । আচ্ছা এই নুপুরের শব্দ আসছে কোত্থেকে । তার থেকে বড় কথা হলো কারা যেন আমার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে আর হাসছে, তবে হাসিগুলো বেশ নিম্ন স্বরে ।ওই পৌষের শীতেও সামান্য ঘর্মাক্ত হয়ে উঠলাম  । কিন্তু বিচলিত হলাম না মোটেও, একটা কথা শুনেছিলাম যে কেন একা একা ভরদুপুরে আর রাতে মাঠে বাসি বাজাতে নেই, সেই কথার কারনে বাঁশি বাজানো থামালাম না । কারন হলো এখন যদি বাশি বাজানো থামাই আর আমার পাশে যাদের শব্দ শুনছি তারা যদি অশরিরী কিছু হয় তবে বাঁশি থামালেই তারা আরো বিরক্ত হয়ে বংশীবাদক কে আক্রমন করতে পারে । একমাত্র এই বাঁশি তখনি থামবে যখন ফজরের আযান দেবে আর না হয় কোন মানুষের দল যদি আমার দিকে আসে । আমি যেখানে বসা সেখান থেকে জোরে চিৎকার দিয়ে তেমন লাভ হবেনা ।কারনটা হলো শীতের রাতে সবাই লেপ মুড়ি দিয়ে যে যার মত ঘুমাচ্ছে । আর এমন সময় বাঁশি থামালে তেনারা আমার ঘাড় মটকে দিতে পারে । কি বলব হয়ত ভাগ্যে বেঁচে ফেরা ছিল, এমন সময় কয়েকজন লোকের কন্ঠস্বর শুনলাম, এই কেরে বাঁশি বাজায় ? সাথে সাথে সব সুনশান, আমার আশেপাশে নুপুরের ঝুম ঝুম আর নদী থেকে বাঁশির শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে জলতরঙ্গ হয়ে ফিরে আসছেনা । আমি সাহস করে তাকাতেই দেখি কয়েকজন লোক আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার সামনে দাড়ানো, সাজ পোশাকে তেমন খারাপ কিছু মনে হলনা, তবে মনে হয় অন্য কোন গ্রাম থেকে কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াত খেয়ে ফিরছিল ।হয়তো খাওয়ার পর চা বিড়ি আর তাসের আড্ডাতে দেরি হয়ে গেছে ।আমার মত মাঠের ভিতর দিয়ে সোজা চলে এসেছে ।আমাকে পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে সব খুলে বললাম । সে রাতের মত ওনাদের বাড়িতে আমাকে থাকতে হলো । ওনারা এও বললেন ও রকম বাগান যায়গাতে কেউ বসে ! । অত রাতে খাবারের ব্যবস্থাও হলো, আমার বাঁশির সুর শুনে ওনাদের এই কৌতুহল হয় যে গ্রামে তো কেউ বাঁশি বাজায়না, তাহলে কে ওখানে এত সুরেলা বাঁশি বাজাচ্ছে, গরমকাল হলেও এক কথা থাকে, এত পাগল কে যে শীতের এই রাতে বাঁশি বাজাবে ।এই কারনে বোধ হয় আমি বেঁচে যাই সেরাতে ।

(৮৯)

         রাতে ওনাদের বাড়িতে খেয়ে সকালে, ওনাদের এক জনের সাথে গরু খুজতে গিয়ে বেশিদুর দৌড়াতে হলনা । কয়েক বাড়ি পরেই পাওয়া গেল নচ্ছার গরু দুইটাকে ।    

৪) বিল জলেশ্বর আমার নানাবাড়ি বাঘারপাড়া উপজেলাতে , বিল জলেশ্বর অত্র অঞ্চলের বিখ্যাত বিল । সময়টা ১৯৯২ হবে সম্ভবত , আনুমানিক তিন বছর বয়সে একটি ছেলে  হারিয়ে যায় । নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে  ওই বয়সে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দুরের বিলে বছর তিনেকের বাচ্চার পক্ষে একা যাওয়া সম্ভব নয় ।ঘটনা দুপুরের একটু পরপরই । বেশ কয়েকঘন্টা খুজে কোথাও ছেলেটিকে পাওয়া গেলোনা । এমন সময় সন্ধ্যা হয়ে গেছে । গ্রাম এ বিল থেকে ধান কেটে ফেরার সময় একজন ছেলেটিকে পান  যিনি সম্পর্কে ছেলেটির গ্রাম সম্পর্কে আত্বীয় হয় ।যিনি সন্ধ্যার সময় গ্রামে পৌছাতে না পৌছাতেই গ্রামে খবর রটে গেল আসাদ একটা বাচ্চা ছেলেকে পেয়েছে বিল থেকে ধান কেটে ফিরে আসার সময় । এমন কথা শুনে সবাই হৈ হৈ করে ওনার বাড়িতে চলে গেল । বাচ্চা টা কে দেখে সবাই হতচকিত হয়ে গেল । এ তো সেই বাচ্চাটা । কিন্তু এতটুকু বাচ্চা তিন কিলোমিটার দুরের বিল এ গেল কি করে । কেউ কি নিয়ে গেছিল , নাকি নিজে চলে গিয়েছিল , ওই বয়সে নিজে যাবার ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য , নিজে যাওয়া তো সম্ভব নয় ।ফলে গ্রামে তৎকালীন প্রচলনে যা হলো জ্বীনে নিয়ে যাবার গল্প হয়ে গেলো ব্যাপারটা । না সত্যিই অতিপ্রাকৃত কিছু , যেহেতু বিজ্ঞান এই সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়  সেহেতু , ব্যাখ্যা আসতে পারে কেউ কি শত্রুতা বশত ক্ষতি করতে চেয়েছিল বা তৎকালীন ছেলেধরা ব্যাপার নয় তো ? এই গল্পটা কিন্তু আমাকে নিয়ে আমার নানা বাড়ির গ্রামে এক সময় প্রচলিত ছিল , বয়স্ক মানুষেরা আমাকে দেখলে গল্পে গল্পে এই ঘটনাটা বলতো ,  গল্পটা বিশ্বাস হলো আপনাদের ? বিশ্বাস না করাটা স্বাভাবিক  ।ভুতের গল্পের বই নয় এটি বলে গল্প আর বাড়ালাম না , আসলে বিশ্বাস করা না করা যার যার ব্যাপার । ভুত কাউকে জোর করে দেখা যায়না । ভুত বা তার ভয় বা অতিপ্রাকৃত কিছুর অনুভুতি বা দেখার জন্য একটা পরিবেশ লাগে ।

(৯০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!