কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৮৫+৮৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৮৫+৮৬

এখন ব্যাপারটা  কে কি বলবেন ? বাস্তবতার নিরিখে যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে বটে, কিন্তু ভৌতিক বা অভিশাপ বলার যুক্তিও এখানে কম নেই ।কারন পুর্বের বিশ্বকাপ এ তারা যে টিম নিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল, পরবর্তী বিশ্বকাপ এ ও সেই টিম নিয়ে আসছে,বাছাই  পর্বেও ভাল খেলছে, কিন্তু বিশ্বকাপ এ এসে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দের বেহাল দশা হয়ে যায় । আছে এটার কোন ব্যাখ্যা আপনার কাছে ।আর আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হওয়ার কারণে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ফ্রান্সের কাছে হেরে বন্ধু ও সহকর্মী মহলে আর্জিতিনার সাপোর্টার হয়ে গেলাম ।

২) আবার দেখুন LM-LIONEL MESSI

            LM- LUKA MODRIC

         দুজনেরই জার্সি নাম্বার ১০, দুজন যথাক্রমে ২০১৪ এবং ২০১৮ তে সবার অনুমান ভুল করে, ফেভারিট এর বাইরে থেকে সবার অনুমান ভুল করে ওনারা ফাইনাল এ উঠে যান । কিন্তু দুজন কেই রানার্স আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ।কি কাকতালীয় মিল তাইনা । আসলে এর অনেক যুক্তিযুক্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে তাইনা ।রহস্যময় এবং কাকতালীয় বা ভৌতিক জিনিসের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অবশ্যই হয় ।কিন্তু এত ব্যাখ্যা এত, এত বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা থাকার পর ও রহস্য এবং কাকতালীয় ঘটনা পৃথিবীতে অতীতে ঘটেছে, বর্তমানে ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে ।বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলেও সকল রহস্য আর ভৌতিক ঘটনার একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে কিন্তু এত ব্যাখ্যার পরেও রহস্যময় ঘটনা ঘটে ।পৃথিবীতে সব সত্য প্রকাশ করা যায়না,কিছু চরম সত্য আড়ালেই থেকে যায়, সব কিছুর প্রমাণ দেওয়া যায়না,সৃষ্টি ও ঘটনার কারিগরেরা আড়ালেই থেকে যায় ,সব সত্য প্রকাশ পেলে আপনার বা আমার অস্তিত্ব অথবা জীবনের রং থাকতোনা ,একেই বলে ভৌতিক বা রহস্যময় ঘটনা ও তার কারিশমা হতে পারে এটাই মানুষের ভুত দেখার কারন যে ভুত দেখবে সে মস্তিস্ক দোষে হোক, আর সত্যিই দেখুক সে ভয় পাবে, বিশ্বাস করবে, কিন্তু যারা দেখেনি তারা সন্দেহের চোখে দেখবে, হয়তো কিছুটা বিশ্বাস করবে কেউ, কেউবা করবেনা । 

৩) একদিন আমি অফিস শেষে বাসাতে ফিরছিলাম । সালটা ২০১৬ এর শেষে দিক ,শীতকাল, আকাশে বড় পুর্ণিমার চাঁদ ।যশোর ভোলা ট্যাঙ্ক রোডের অফিস থেকে ডিউটি শেষ করে  বাসাতে ফিরছি ।

(৮৫)

সেদিন অফিস এ একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটু বেশি রাত হয়ে গেল ।প্রায় ১১ টার মত বেজে গেল, অফিস ডিউটি থেকে বের হতে হতে, সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করিনা যেহেতু, ইজিবাইক বা মোটর লাগান রিকসাই ভরসা । তো কোন রিকসাই সেই রাতে কিসমত নওয়াপাড়া শেষে বাহাদুরপুর বিলের নতুন হওয়া আবাসিক এলাকা হাইওয়ে টাউন এ যেতে রাজি হলোনা ।যায়গাটা যশোর যুব উন্নয়ন অফিস এর পাশে অবস্থিত হাইওয়ে টাউন নাম হলে হবে কি ? পুরাটাই গ্রাম এর ফাকা মাঠের মাঝে নির্জন এলাকা ।বাহাদুরপুরের বিল কালের পরিক্রমায় ও বিবর্তনে পানিশূন্য হয়ে মানব বসতি গড়ে উঠেছে ।তবে এখনও শুকনো মাটিতে ঘাসের সাথে বিলবাওড়ের জলজ উদ্ভিদ হেলেঞ্চা, কলমি, বিন্না ঘাস (যশোরের আঞ্চলিক ভাষাতে পেতেল বন) জন্মে। প্রায় চতুর্দিকে গ্রাম ঘেরা এ রকম একটা যায়গাতে ভাড়া বাসাতে থাকি । উপশহর এর পাশে  হয়েও সম্পূর্ণ গ্রাম আবহের যায়গাটা খুব ভালো লাগতো। এই মুল জমজমাট শহর এলাকা দড়াটানা ছেড়ে কোন রিক্সাওয়ালা নির্জন ওই এলাকাতে যেতে রাজি হলোনা, এমনকি দিনের বেলার ৪০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা দিতে চেয়েও রাজি হলোনা । অগত্যা দড়াটানা মোড় এ একজন ইজিবাইক চালক পাওয়া গেল ।যার বাড়ি বাহাদুরপুর এর কোন এক জায়গাতে । সদর হাসপাতালে রোগী দিতে এসেছিলেন ।এখন একা যেতে হবে, আমাদের পেয়ে ওনার বেশ ভাল হলো । তো ইজিবাইক এ আমি, এক বুড়ো চাচা, আর মধ্য বয়সী একজন লোক । মাত্র মোবাইল এর ঘড়ি দেখে লাফিয়ে উঠলাম, ১২ টা প্রায় বাজতে চলেছে ।শীতের রাত ১২ টা প্রায় মানে বেশ রাত ।গায়ের সোয়েটার টা খুলে ফেললাম, বুড়ো চাচা গ্রামের সরল হাসিতে বললেন, কি হলো ,শীতের রাতে জ্যাকট খুলছো কেন, আমি বললাম খেয়েই মাত্র দৌড় দিয়ে দড়াটানা পৌছেছি । সে জন্য এ অবস্থা । বেশ হাপাচ্ছি তখনো ,যদিও দড়াটানা এসেছি ২০ মিনিট হয়ে গেছে । আগের বুড়োরা যেমন বলেন, ঠিক তেমনি করে উনি বলা শুরু করলেন ,তোমাদের বয়সে আমাদের এরকম শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটতো । শীতের রাতে রস চুরি করেছি, মাঘের শীতের কনকনে সকালে  কোমর পানিতে নেমে মাছ ধরেছি ।

(৮৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!