কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৭৩+৭৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৭৩+৭৪

**** গ্রাম বাংলাতে বা শহরে প্রচলিত কিছু কমন ভৌতিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা ***

ঘরের চালে গভীর রাতে ইট পাটকেল পড়া – ঘরের চালে গভীর রাতে ঢিল পড়া , কিছু যেন চালের বা ছাদের উপর দিয়ে হেটে যাচ্ছে এরকম অনেক কিছু আমরা প্রায়ি শুনে থাকি ।এগুলো সাধারনত ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাড়াই আমাদের কাছে । এগুলোর ক্ষেত্রে সাধারনত অতিপ্রাকৃত কিছু হবার কারন গুলো অস্বীকার করে ফেলা যায় খূব সহজেই । কারণ ইট-পাটকেল ঢিল এগুলো সাধারণত কারোর ছোড়া হতে পারে ।আবার হতে পারে লক্ষ করে দেখবেন কোন কোন বাড়ির পিছনে দিকে নারকেল গাছ থাকে , সুপারী গাছ থাকে ।সেসব থেকে টিনের চালে এগুলো পড়ে । কেউ দুষ্টুমী বশত ঢিল ছুড়তে পারে । আগে শোনা যেতো মানুষ গ্রামে বা পাড়াতে এটা সেটা দেখতো । এখন দেখে না কেনো ,আচ্ছা আপনার আমার বাড়ীর আশেপাশে কি আপনি বা আমি আধিভৌতিক কি কিছু দেখি ? দেখিনা বলা যায় ১০০ % নিশ্চিত। তাহলে প্রকৃত ঘটনাটা কি ? । এখন  বলতে গেলে সবজায়গাতে মানুষ এর কোলাহল, বলতে গেলে লোকে লোকারণ্য, বলতে গেলে মানুষ দখল করে নিয়েছে সব যায়গা । যেটুকু যা ফাকা যায়গা ছিলো সেটাও ও দখল হয়ে যাচ্ছে দিন দিন নতুন উন্নয়নের ধাক্কাতে । বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে ঊল্লেখ পাওয়া যায় জ্বীন ,ভূত এগুলো নির্জন স্থানে থাকে , মানব বসতি থেকে বেশ দুরে থাকে । তাহলে এরা বসবাস করে সব নির্জন স্থানে । কিন্তু সর্বক্ষণ নির্জনে গেলেই কী দেখা যায় এদের । আজ পর্যন্ত যত মানুষ এসব দেখেছে তারা কেউই এগূলো দেখাতে পারেনি ,  অন্য কাউকে যখন তখন ডেকে নিয়ে দেখাতে । কিন্তু তারপরেও মানুষ কী এগুলোর গল্প বা ভয় কে সম্পূর্ণ রূপে ছাড়তে পেরেছে । ছাড়তে পারেনি । আচ্ছা এখন কী নির্জন স্থান গূলো আছে , তেমন নেই ।আর মানুষের বিজ্ঞানমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক মানব সৃষ্ট ভৌতিক কাহিনী বিলুপ্ত হয়েছে ।

         তবে  এখনকার যুগে মানুষের বাড়ীর ছাদ গূলো বলা চলে দিন এবং রাতে সম্পূর্ণ রূপে নির্জন । ছাদে কেউ যায়না বললেই চলে । রাতের ছাদ গুলো আড্ডাখানা নয়তো এসবের !!। হয়তোবা । বর্তমানের বহুতল ভবনের  ছাদগুলো এদের জন্য নিরাপদ আড্ডার যায়গা হয়ে যায়নিতো

(৭৩)

 আমার এসব গাজাখুরী গল্প না বিশ্বাস  করলেও চলবে । তবে বইটার বিষয়বস্তু গূলো আজগুবী  ব্যাপার নিয়ে হলেও , যুক্তি , সম্ভাবনা আর হারানো কিছু জ্ঞান নিয়ে এর আলোচনা । সব কিছু এখানে প্রমাণিত সত্য হবে তা নয় । ইন্টারনেট ঘেটে পৃথিবীর অনেক ভৌতিক যায়গার নাম দিতে পারতাম ।কিন্তু দিলাম না এজন্য যে সেগূলো আপনাদের ভূত কাহিনী প্রেমী পাঠক দের কারো না কারো পড়া । আসলে আমি মনে করি ভূত দেখার পিছনে বা ভৌতিক কাহিনীর পিছনে দুটো কারন থাকতে পারে ।

প্রথমত মানুষের সবার চোখ থেকে লাখে বা হাজারে একজনের ভিন্ন রশ্মি ধরার ক্ষমতা থাকতে পারে । সে ওই রশ্মি রং ধরতে পারার কারনে সে অদ্ভূত যে জিনিসটি দেখলো সেটা বাকি নয় লক্ষ নিরানব্বই হাজার মানুষের কাছে অদেখাই রইলো । ফলে সবাই ব্যাপারটা সত্যি হওয়া সত্ত্বেও গাজাখুরি বলে উড়িয়ে দিলো । পূর্বেই অধরা সিক্সথ সেন্সের কথা বলেছি ।

দ্বিতীয়ত অনেকে বিশেষ কারণে বা ব্যাক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারে ভৌতিক কাহিনীর রটনা করতে পারে বা জ্বীনে ধরার অভিনয় করতে পারে । যেমন আমরা ভন্ড সাধুদের জ্বীন তাড়াতে বা রোগ সারাতে নানা  রকম অদ্ভূত সব কুকীর্তির খবর প্রায়ই পত্রিকায় দেখি । ভূত দেখানোর ফ্রড অনেক ট্রিকস আছে । বইয়ে সেগুলো আর লিখলাম না । বিজ্ঞানের এই স্বর্ণ যুগে ভূত দেখানো বা ভৌতিক পরিবেশ তৈরি কোন ব্যাপারই না ।

**** আগুন উড়ে যাওয়া  -গ্রাম এ একটা গল্প প্রায় শুনি আমরা ,আজ থেকে বেশ আগে ছোটোবেলাতে শুনতাম, এখনো অনেক সময়ে শুনি, কেউ একজন রাতে যখন সে  বের হয়েছে হঠাৎ তার থেকে খানিকটা সামনে দিয়ে আগুন এর পিণ্ড উড়ে গেছে

         আগুণ এর পিণ্ড উড়তে দেখাটা এমন কোন ব্যাপার নয় । অনেক কাল আগে থেকে সেই সুদূর প্রাচীন থেকে জাহাজ এর নাবিক, রাতের মরুযাত্রীরা সবাই দেখত যে আকাশ ঠিক আগুন ছুটে আসছে । এটাকে অনেকে বলেন তাঁরা খসা বা উল্কাপাত

(৭৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!