কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৭১+৭২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৭১+৭২

আগে কেউ শোনেনি তাই আপনি আমি বলতে পারবোনা ।এই ধরুন ফ্লোরিগান , আরুমানিস , কালাপাহাড়ী ইত্যাদি ।হতে পারে এর কোনটার ভিতর লুকিয়ে আছে দুরারোগ্য রোগ বিধান ঔষধ, বা বার্ধক্য প্রতিরোধী গুণ, বা অজানা অত্যাশ্চর্য কোন গুণ ।পৃথিবীর সব প্রাণীর সন্ধানও কিন্তু আমরা পাইনি , পৃথিবীর জলে , স্থলে , পাহাড়ে , গুহাতে , বনে ও ভূগর্ভে এখনো লুকিয়ে আছে অনেক অদেখা অজানা সভ্যতার মানুষ , বিভিন্ন অদেখা পশু পাখি , যে মানুষদের বর্ণণা বা যে সকল পশু বা প্রাণীর বর্ণনা আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানীদের ও জানা নেই ।হয়তো ভবিষ্যতে পৃথিবীতে কোনদিন তাদের খোজ পেয়ে যাবো । মানুষ কালে কালে বিভিন্ন অতি আশ্চর্য শক্তির সন্ধান পেয়েছে , আশ্চর্য দ্রব্যগুন আবিষ্কার করেছে, সভ্যতাকে চরম উন্নতিতে নিয়ে গেছে, অদৃষ্টের প্রভাবে যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা ভৌগলিক পরিবর্তনের কারণে ধবংশ হয়ে গেছে । আমার মনে হয় আমাদের এই যুগের মত সভ্যতার ছোয়া পৃথিবী অনেকবার পেয়েছে আবার ধবংশ ও হয়ে গেছে ,আলকেমি নামক ৫০ জনের একটা সংগঠনের অনেক অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার আজ পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত । কতবার মানুষ সভ্যতার চরম শিখরে আরোহন করেছে আবার অনুন্নত অবস্থায় ফিরে গেছে তার ঠিক নেই । যত উন্নত আমরা হই না কেন আমাদের বসবাসের ভূখন্ড ২০০ ফুট মাটি বা পানির নিচে যাবেনা এটা বলতে পারিনা বা নিশ্চয়তা দিতে পারিনা, কারন আমরা ভেসে আছি পানি আর তেলের উপর মাটির জাহাজে । নিশ্চয়তা দিতে পারিনা বা ঠেকাতে পারিনা প্রাকৃতিক দূর্যোগ , ভূমিকম্প, সুনামী, ভূমিধ্বস, মহাযুদ্ধ। তাহলে আজ যেটা আছে / নেই সেটা ভবিষ্যতে আছে বা নেই হয়ে যাবেনা এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে কি ? জ্বীন –ভূতের গল্প বা হন্টেড প্লেসগুলো নিয়ে চলে আসা কাহিনীগুলো শুধু কাহিনী হোক বা লোকশ্রুতিই হোক এগুলো চলে আসছে যুগ যুগ ধরে, সুদুর অতীত থেকে ।

         বিজ্ঞান যেমন বলেই দিয়েছে ভুত-প্রেত-জ্বীন-আত্বা –প্রেতাত্বা এ সব অবচেতন মনের নিছক খেয়াল বা অলস মস্তিস্কের কল্পনা প্রসূত গল্প মাত্র, তেমনি আধিভৌতিক এসব ব্যাপারগুলোর পক্ষে বলা মানুষ ও গবেষকের ও অভাব নেই । হ্যারি প্রাইস, স্যার উইলিয়াম ক্রুকস , কার্লিস ওসিস উল্লেখযোগ্য নাম ভৌতিক গবেষণাতে ।

(৭১)

 আর আমাদের সামনেই তো আধুনিক যুগে সৌদি আরবে ওয়াদি আল জ্বীন নামক যায়গা(মদিনার আল বায়দা উপত্যাকা তে) এই ওয়াদি আল জীন                                                                                    এ কোন গাড়ি ইঞ্জিন বন্ধ করলে চললে ১২০ কিমি গতিতে মদিনার দিকে উল্টো চলতে শুরু করে, যে কোন জিনিস ফেলে দিলে সেটাও পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠতে থাকে, সৌদি সরকার এই এলাকা সাম্প্রতিক কালে চলাচলের জন্য অনেক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, অনেকে মনে করেন এটা ওই এলাকাতে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত সুত্র এবং কেউ কেউ একটা মিথ এর দাবি করেন যে যদিও এটার একেবারে কোন সঠিক ভিত্তি নেই , সেটা হল একবার হুজুর সাঃ এর একদল জীনের সাথে দেখা হয় , তারা কোন এক কারনে চুক্তি করে যে আমাদের এলাকায় মানুষ আসবে না , তখন থেকে এখানে কোন মানুষ বা গাড়ি যাই আসুক তাকে উল্টো দিকে মানে মদিনার দিকে ফেরত দেওয়া হয় । সৌদি সরকার এই যায়গাতে বিকাল ০৪ টার পর চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছে । ভারত সীমান্তের লাদাখ, বাংলাদেশের গানস অফ বরিশাল নামক মিথ (১৮৯০ সালে টিডি লাটুস এর এক প্রতিবেদনে ১৮৭০ সালে প্রথম শোনা এক বিকট শব্দের উল্লেখ আছে, মিস্টপুফার্স বা গঙ্গা ব্রক্ষপুত্র ডেল্টার অব্যাখ্যাত শব্দ বলে যাকে আর কি, এটা বরিশালের তৎকালীন অববাহিকাতে শোনা যেতো , ১৮৮৬ সালে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী খুলনা ও নারায়নগন্জেও এ শব্দ শোনা গেছে বলে জানা যায় , সাধারণত নদী অববাহিকায় ভুকম্পন ও নদীর তলদেশের প্লেটের স্থানচ্যুতির মাধ্যমেও এই বিকট  রহস্যময় শব্দের উৎপত্তি । কামানের গোলার শব্দের সাথে এর মিল আছে ।এমন একটা শব্দ শুনলেন যেটা শুনে আপনার মনে হল বোমা বিস্ফোরণের মত , গুলির শব্দ এর মত , কিন্তু বাইরে এসে দেখলেন কোন বোমা গুলি কিছুই বিস্ফোরিত হয়নি ।প্রকৃতি আপনা থেকে উৎপন্ন করেছে এ শব্দ এই রহস্যময় শব্দই রহস্য ইতিহাসে গানস অফ বরিশাল হয়ে আছে । তবে ১৯৫০ এর পর এরকম শব্দ আজ পর্যন্ত কউ শোনেনি), হিমালয়ের অমর মানুষ মিথ, হিমালয়ের ইয়েতি বা তুষারমানব রহস্য , হিমালয়ের রক্ত তুষার এ সব সহ হাজার হাজার মিথ সারা পৃথিবীজুড়ে এই যুগেও রয়েছে ।।বিজ্ঞানীদের জানামতে পৃথিবীর মরুভূমি , জঙ্গল ও সমুদ্রের নির্দিষ্ট কিছু যায়গা বিজ্ঞান , চুম্বক ও মাধ্যাকর্ষণের সুত্র মানেনা , বিজ্ঞানীদের কাছে অনাবিষ্কৃত এ রকম অনেক যায়গা এখনো থাকতে পারে ।

(৭২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!