কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৫১+৫২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৫১+৫২

-বিশিষ্ট শুধু মাত্র খেয়ে দেয়ে জীবনধারকারী কিছু মনে করি ।এ জন্যই আমরা স্বল্প

জ্ঞানে ১০০ গরু / মুরগী এক যায়গায় দেখলে ১০০টি গরুর/মুরগীর চেহারায় ভিন্নতা কিছু দেখিনা ।আপনার যদি একটা পোষা টিয়া থাকে আর সেই টিয়াকে যদি ১০০ টিয়ার ভিতর ছেড়ে দিলে আপনি তাকে আলাদা করতে পারবেননা ।কিন্তু পশু পাখিরা তাদের স্ব স্ব প্রজাতিতে এক জন আরেকজনকে আলাদা করতে পারে  কিন্তু আপনার ভাইকে একলক্ষ মানুষের ভিতর ছেড়ে দিলেও আপনি তাকে পৃথক করতে পারবেন ।এটাই বলছি যে মহাবিজ্ঞানী স্রষ্ঠা যে সৃষ্টির রিডারে যতটুকু সীমা দিয়েছেন সে ততটুকু দেখতে পায় ও বুঝতে পারে ।এটা এক প্রকার চেহারা পৃথককারী সফটওয়্যার।এটা যদি আমাদের ভিতর না থাকতো তো আমরা মানুষরা অন্যান্য পশুপাখির চেহারায় যেমন কোন পার্থক্য পাইনা তেমনি আমরা মানুষরাও এক জন আরেকজনকে পৃথক করতে পারতামনা । কারন সবার দুটো চোখ, দুটো হাত, দুটো পা রয়েছে ।একটু এডাল্ট টাইপের কথায় আসি ,পৃথিবীতে সকল নারী পুরুষের শারীরিক ও যৌন গঠন একই,, কিন্তু তারপরেও কেন আমরা কোন বিশেষ পুরুষ বা নারীর ভিতর অনেক বেশি যৌনাকর্ষন অনুভব করি বা কিসের ভিত্তিতে বলতে পারেন ? উত্তরটা হলো তার চেহারা বা মুখশ্রীর আকর্ষন // এটাই এক প্রাণী আরেক প্রাণীতে আলাদা করে সনাক্ত করতে পারেনা, এ জন্যই এক প্রাণী আরেক প্রাণীকে বেসিক স্ট্রাকচারে দেখে, পার্থক্য ধরতে পারেনা ।

         তাহলে কথা হলো আমরা যেটা বুঝি বা দেখি সেটাই কি শেষ কথা ! সৃষ্টি জগতের অগনিত এই সৃষ্টি পশুপাখি কি দেখছে বা তারা কি বুঝে চলে সেই তাদের চোখে যদি আমরা দেখতে পেতাম তাহলে হয়তো অজানা কোন এক বিজ্ঞান আমাদের চোখে ধরা দিত । কে বলতে পারে মানব সভ্যতা কোনদিন তাদের বিজ্ঞান কে এই পর্যায়ে উন্নীত করতে পারবে কিনা ? জগদীস চন্দ্র বসু যদি ক্রেসকোগ্রাফ আবিষ্কার না করতেন তাহলে তো পৃথিবীর মানুষের কাছে গাছের ও জীবন আছে বোধ আছে এটা অজানা থেকে যেতো ।আবার বর্তমানে আবার এক্তা চাঞ্চল্যকর তথ্য আবিষ্কার হয়েছে গাছের সম্বন্ধে ।ক্রেস্কোগ্রাফ দিয়ে শুধু গাছের জীবন আর স্পন্দন সম্পর্কে জানা যেত, কিন্তু তার শতবর্ষ পর এসে এখন নতুন একটি গবেষনা বলছে যে আমরা যে গাছেদের স্থির এবং একজন থেকে একজন কে

(৫১)

পৃথক মনে করি , সেই গাছেরা নাকি একপ্রকার নির্দিষ্ট ছত্রাকের সাহায্যে একটি গাছ

মাটির নিচ দিয়ে মুলের মাধ্যমে বিভিন্ন গাছের সাথে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর মত বাপক ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে, এই কায়দাতে গাছ অন্য প্রজাতির গাছ কে মেরেও ফেলতে পারে । ওহ মাই গড কি বিস্ময়কর বাপার তাইনা। হয়তো একদিন নবী হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এর হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা কাহিনীর সত্যতা মিলবে, যে তিনি সকল মাখলুকাতের বা সৃষ্টিজগতের সকল প্রাণীর ভাষা বুঝতেন ।পশু পাখির ডাক বা পাখির কিচিরমিচির যে শুধু কিচিরমিচির নয়, এর ভিতর লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের মত সমৃদ্ধ সাবলীল ভাষা ও অজানা জ্ঞান তা হয়তো কালের আবর্তে আবিষ্কার হবে ।জ্বীন নামক অতিমানবীয় ক্ষমতাধর একটা জাতি আছে যারা তার হুকুমে কাজ করতো । আবার ধর্মগ্রন্থ মতে কিছু পশুপাখি অদৃশ্য কোন কিছু দেখে ডেকে ওঠে, কুকুর ও গাধার ব্যাপারে এরকমটা শুনতে পাওয়া যায় ।মাঝে মাঝে খেয়াল করবেন বিশেষ করে গভীর রাতে যখন জেগে থাকেন তখন কখনো সখনো দেখবেন কুকুরের হাড় হিম করা ডাক ।হতে পারে একদিন বিজ্ঞানের ডাইমেনশন ভেদী উন্নতিতে এগুলোর সত্যতা আমাদের সামনে আসবে আসলেই কি তারা আমাদের মাত্রা ও দৃষ্টির বাইরের কিছু দেখে ডাক দেয় কিনা ।

         মানব ভাষা – ভাষা বলতে কি বুঝি ? ভাষা হলো আমাদের ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যম । এই ভাষাতেই আমরা কথা বলছি, আমাদের প্রিয় সাহিত্য উপন্যাস পাঠ করছি, পথে ঘাটে চলাফেরা করছি, বন্ধুদের সংগে আড্ডা দেওয়া থেকে শুরু করে সকল কাজ কর্ম যেখানে কিছু বোঝানো বা বলার ব্যাপার রয়েছে সেখানেই ব্যবহার করছি ভাষা । একেবারে সুক্ষ বিশ্লেষনে আসি । গতানুগতিক ক্লাসের বইয়ের বাইরে আসবো অনেকবার এই গ্রন্থে । তো ভাষা কি ? আপনি গরমকালে একটা গাছের তলাতে বসে আছেন । গাছ থেকে একটা ফল পড়লো । ফলটির নাম আম দেওয়া হলো । আপনি বাঙালী । আর এই আম নামটি কবে থেকে বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে এসেছে এ ব্যাপারে বাংলা ভাষার ইতিহাসে কোন উল্লেখ নেই । তো এই আম কে আম নাম না দিয়ে যদি তাল নাম দেওয়া হতো তবে আমকে আমরা আমকে তাল বলে চিনতাম ।

                                      (৫২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!