কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১২৯+১৩০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১২৯+১৩০

তবে ১৯০৩ সালে রাইট ভ্রাতৃদ্বয় চুড়ান্তভাবে এটা আবিষ্কার করে ফেলেন মনুষ্য আরোহণ সহ। বলা হয় রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের পূর্বের দুজন উপযুক্ত আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সফল হননি, যেটা রাইট ভ্রাতৃদ্বয় পেয়েছিলেন। ফিরে আসি ক্যামেরার ব্যাপারে। ১৬৮৫ সালে জোহান জ্যান নামে একজন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম ক্যামেরার একটা ডিজাইন তৈরি করেন । জোসেফ নাইসফোর নিপসে ১৮১৪ সালে ক্যামেরার প্রথম ক্লিকটি করেন ।

আশ্চর্য, বিষ্ময়, গুপ্তবিদ্যা(কারো না কারো হাতে আবিষ্কৃত বিদ্যা অথবা বিজ্ঞান যেটার নিয়ন্ত্রন সাধারণের হাতে আসেনি বা যে বিদ্যার সুবিধা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয়নি , এর অধিকাংশই পদার্থবিদ্যা , রসায়ন , বিশেষ পাউয়ারফুল কিছু ধ্বনি শব্দ বা ম্যাজিক স্পেল এর অজানা সব অধ্যায় ছাড়া আর কিছু নয়), অলৌকিক আর ভৌতিক ব্যাপারটা বোধ হয় অনেকটা এরকম রহস্যময় আর প্রাগৈতিহাসিক ।

    হয় ধরুন আপনি শুনলেন অমুক রাস্তাটা হন্টেড, ওই রাস্তায় কেউ খুন হয়েছিল, অমুক বাঁওড়ে, অমুক মাঠে, অমুক জঙ্গলে এটা দেখা যায় সেটা দেখা যায়,  এই ভয়ে ওই রাস্তাতে চলেনা কেউ, পুলিশ অনেক তদন্ত করে দেখলো, খুনটা ক্লুলেস । এসব শোনা যায় প্রচলিত ভৌতিক কাহিনীগুলোতে ।হঠাৎ শুনলেন কোন বাচ্চাকে হঠাৎ করে পাওয়া যাচ্ছেনা ।আপাত দৃষ্টিতে এগুলো মানুষের কাছে ভয়ানক ব্যাপার এবং একটা সময় এগুলো কোন এলাকাকে ভয়ের বানিয়ে ফেলে।দেখা যায় যে এসব ঘটনার কারনে আমরা কোন একটা এলাকাকে হন্টেড ভেবে বসি, সন্ধ্যার পর সেখান দিয়ে লোকজন চলাচল করিনা, নানা কেচ্ছা কাহিনী শোনা যায় সেই যায়গা গুলো নিয়ে ।শুধু শুধু ভয় না পেয়ে আমরা কিন্তু কেউ সাহস করে ব্যাপারটা তলিয়ে দেখিনা ।ভাল মত তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে এগুলো হয়তো ওই এলাকা বাবহারকারী কোন স্বার্থান্বেষী লোকের একটা সিন ক্রিয়েশন মাত্র।যেমন বেশ কয়েক বছর আগে আসামের কোন এক প্রত্যন্ত গ্রামে সন্ধ্যার পর ভুত দেখা যেতে লাগলো ।গ্রামের পাশ দিয়ে ছোটখাটো একটা জঙ্গল আছে ।

(১২৯)

সেই জঙ্গল পার হয়ে আবার একটা রেল স্টেশন আছে ।প্রতিদিন সন্ধ্যার পর যে লোক ই বাইরে যায় সেই লোকই ভুত দেখে ।

         বিশেষ করে সন্ধ্যার পর জঙ্গল আর রেল রাস্তার পাশ দিয়ে তো যাওয়া যায়না বললেই চলে ।গ্রামবাসীরা তো ভয়ে আতঙ্কে সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়া বন্ধ করেই দিল ।অতি উৎসাহী কিছু যুবক ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আর কিছুটা ভয়ের মিশেলে অনুসন্ধিৎসু হয়ে উঠলো ।কয়েকদিন ব্যাপারটা নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেলো তাদের সাথেও বিভিন্ন রহস্যময় ব্যাপার ঘটছে ।প্রকৃত অর্থেই আতঙ্কিত হয়ে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলো।পুলিশের কয়েক সপ্তাহ তদন্তে আর কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণের ফলে দেখা গেলো সবই সন্দেহজনক ব্যাপারস্যাপার । ফলশ্রুতিতে থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো, ধরা পরলো কয়েকজন কালপ্রিট যারা গ্রামের ওই জঙ্গল আর রেলওয়ের সাইড টার নির্জনতার সুযোগ  নিয়ে মাদক চোরাচালান করতো আর মাদক চোরাচালান এঁর যায়গাটা সংরক্ষিত রাখতেই এই ভুতের নাটক ।তাহলে কি বঝা যায়, যে ভুত বলে কিছু নেই ? মনে হয় না, ভুত অবশ্যই আছে, সেটা ভুত বলেন, অতি প্রাকৃত বলেন, অবচেতন মনের হালুসিনেসন বলেন আর যাই বলেন ভুত বলে কিছু অবশ্যই হয়।কেউ হয়তো দেখে, কেউ জীবনে কখনো দেখেনা।আর ভুতের অস্তিত্ব কেউ শিকার করুক আর নাই করুক জ্বীন বলে একটা জিনিস যে আছে এটা আমাদের মুসলমান ধর্ম সহ প্রাচীন বিভিন্ন দেশের সাহিত্যে গ্রন্থে জ্বীনের  উল্লেখ আছে।জ্বীন হল অদৃশ্য একটা জাতি।যারা মানবজাতিকে দেখতে পায় কিন্তু মানুষেরা তাদের দেখতে পায়না।জ্বীন আগুনের তৈরি।এরা মুহূর্তে চোখের পলকে হাজার মাইল পথ অতিক্রম করতে পারে , যে কোন পশুপাখির রুপ ধারণ করতে পারে ।

(১৩০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!