কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১০৫+১০৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১০৫+১০৬

 সবাই ছিলেন অনেককে চরম  দরিদ্রতার ভিতর দিয়ে যেতে হয়েছে , আবার তাদের ছেলেরা কেউ তাদের মত নামী হয়নি বা হবেনা ভবিষ্যতে, হতে পারে সেটা পেলে, ম্যারাডোনা ।মেসি, দি ফেনোমেনন ব্রাজিলের রোনাল্ডো, দ্যা ফিজ মোস্তাফিজ, বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের ক্যাপটেন সালমা খাতুন, বেলজিয়ামের রোমেলা লুকাকু  যেই হোক না কেন ।আবার জীবন থেকে নেওয়া বলে একটা কথা আছে, সে জন্য রবি ঠাকুরের ছেলে রবি ঠাকুর হয়নি, সত্যজিতের ছেলে সত্যজিত হয়নি, আর অভিনেতা অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে যদি আমার লেখাতে সন্দেহ থাকে তবে আপনি ঢালিউড, বলিউড, তামিল সব সিনেমা জগতের  অভিনেতা অভিনেত্রীদের পরিবার নিয়ে একটু পড়াশোনা করুন বুঝতে পারবেন ব্যাপারটা, অবশ্যই তাদের অভিনয় গুণ ও প্রতিভা অসাধারন, তবে এটাই কিন্তু  একেকটা সেক্টরের নিয়ম, আলাদা সিস্টেম আছে, ব্যতিক্রম কিছু থাকতে পারে, কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ হতে পারে তবে সার্বজনীন প্রযোজ্য নয়।খেলোয়াড়দের ছেলেরা খেলোয়াড় হয়তো এ জন্য হয়না কারণ খেলোয়াড়রা অধিকাংশই খেলার প্রতি ভালোবাসা বশত অভাব অভিযোগের ভিতর দিয়ে কষ্টসহিষ্ণু ভাবে উঠে এসেছেন ।তারকা হয়ে যাবার পর অঢেল অর্থের কারণে বাড়িতে আরাম আয়েশের ব্যবস্থা থাকে । ওনাদের সন্তানের সাতপুরুষ বসে খাবার মত অর্থ ও বিলাসিতার ভিতর থেকে কষ্ট করবার, ঘন্টার পর ঘন্টা রোদ থাকবার ক্ষমতা হারায় ।ফলে ঘরে তার বাবার মত গ্রেটম্যান ও বাবার অর্জিত টিপস সত্ত্বেও খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠা হয়না ।খেলোয়াড়দের নিত্যদিনের কষ্ট বা ফিটনেস ক্যম্প এর কষ্ট  সম্বন্ধে তো জানেনই ।মানুষের জীবনে একটি ঘটনা অথবা দূর্ঘটনা বা আইডিয়া তাকে ফকির ও বানাতে পারে, আবার ফকির থেকে রাজা ও বানাতে পারে, সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তোলে ।এখানেই হলো ভাগ্যের বা তকদীরের খেলা । তকদীরের খেল মানে ঘরে বসে ম্যাজিক করে কিছু পাওয়া নয়, ধনী বা গরীবের ছেলে বলে কথা নয় । তকদীর বা ভাগ্য হলো আপনার জীবনে ঘটা কোন ঘটনার রিএ্যাকশন ও পরিশ্রমের বা আপনার মানসিকতার  ফল । ধরুন দুজন দুজন সুদর্শন, অভিনয় প্রতিভাধারী লোক, এর বাবা ধনী এবং পরিচালক ও প্রযোজক, আর এর সুদর্শন ও অভিনয় ছাড়া আর কোন কিছুই নেই, তাহলে নিঃসন্দেহে   এগিয়ে

(১০৫)

 থাকবে পিতার কারনে সবক্ষেত্রে, এটাই ভাগ্য বাকি সব নাম খ্যাতি এর পরিশ্রম এর ফল।আবার একজন উচ্চশিক্ষিত ও বড় পেশাজীবী লোক এর ছেলের কাছে জীবনে বড় হওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়া যতটা সহজ বিপরীত অবস্থার লোকের ছেলের জন্য বিষয় গুলো এত সহজ হবেনা, বাতিক্রম যে নেই তা নয়, কিন্তু বাতিক্রম উদাহরণ নয়, আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাদের কে দেখা যায় খুব সংগ্রাম করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে তাদের অধিকাংশই কিছু না কিছু সহযোগিতা পেয়েছে কারো না কারো কাছে, মানে জীবনে নিচুতলা থেকে উপরের তলাতে ওঠবার জন্য তাদের কে কেউ না কেউ হাত বাড়িয়ে দিয়েছে , সেটা হতে পারে অর্থ দিয়ে, বা কাজ দিয়ে , বা বুদ্ধি দিয়ে । সুতরাং, যেটা বলছিলাম, সব কাজের একটা থিম বা সিক্রেট থাকে । যেটা হঠাৎ করে চাইলে পাবেননা ।যে মুদি দোকানী, সে জানে কোথা থেকে ০৫ টাকায় জিনিস কিনে ০৮ টাকায় বিক্রি করা যাবে, সেই রকম কথা, পুরোপুরি একটা লাভ ক্ষতির হিসাব ।আপনি একজন ধনী লোক, আপনার ছেলে ভালো খেয়ে, গাড়িতে চড়ে, ভালো পোশাকে স্কুলে যাচ্ছে, আপনার ছেলে ভালো রেজাল্ট করে, ভালো নাচতে গাইতে ও পারে, কিন্তু আপনি আপনার বাসাতে যে কাজের ছেলেটাকে বা মেয়েটাকে রেখেছেন, তাকে কিন্তু তিনবেলা পারলে থাপ্পড় দিচ্ছেন, না থাপ্পড় মারলেও মুখে যা তা বলে গালি দিচ্ছেন, আর আপনমনে ভাবছেন আপনি যেমন জ্ঞানে , গুনে ধনে সেরা, আপনার ছেলেও তাই । কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন আপনি বাসায় আপনার ছেলের বয়সী যে ছেলেটাকে দিয়ে , বাজার করা , থালাবাসন পরিষ্কার করাচ্ছেন, গর্দভের বাচ্চা বলছেন, সেই ছেলেটা যদি সম সুযোগ পেতো তাহলে কিছু করতে পারতো কিনা ?আপেক্ষিকতার বিচারে লাঠি আর তলোয়ারধারীর লড়াইকে যেমন এক বা সম লড়াই বলা যাবেনা তেমনি সুযোগ পেয়ে বড় আর সুযোগ না থেকে বড় কে এক নিক্তিতে পরিমাপ করা যাবেনা , লাঠি  হাতে লড়তে আসা প্রতিযোগী কে বন্দুক হাতে করে সহজেই হারিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু তাতে গৌরবের কিছু নেই, যোগ্যতার বিচারটাও আপেক্ষিক, মোগল বাদশাহের ছেলে শাহজাদা বা অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান এর ছেলে সুলতান হওয়া মানে  এটা নয় যে, শাহজাদার থেকে ততোধিক যোগ্যতার আর কোন যুবক ওই দেশে ছিলোনা

(১০৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!