কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৫+২৫৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৫+২৫৬

পান। তিনি একজন কৃষকের কাছ থেকে একখন্ড জমি কিনে খনন কার্য্য শুরু করেন। কিন্তু তিনি খনন কার্য্য জীবদ্দশায় সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। ১৮৭০ সালে জার্মান প্রত্নতত্তবিদ হাইনরিখ শ্লীম্যান এই এলাকায় খনন কাজ শুরু করেন এবং হারিয়ে যাওয়া ট্রয় নগরী আবিষ্কার করেন। এর বর্তমান অবস্থান হল তুরস্কের আনাতলিয়ার হিসারলিক নামক যায়গাতে।এখনকার কানাক্কাল প্রদেশের সমুদ্রসৈকত এর কাছে এবং আইডা পর্বতের নিচে দার্দানেলিসের দক্ষিন পশ্চিমে হিসারলিক এ ইলিয়াড এর সেই ট্রয় । ১৯৯৮ সালে এই যায়গাটি ইউনেস্কো ওয়ার্লড হেরিটেজ বা বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষনা করে। আবার ধরুন পবিত্র কুরানে বর্ণিত ইরাম শহর, যেটার ব্যাপারে বলা আছে এটি ছিল এমন এক শহর যেটা ছিল পাহাড়ের ভিতর, এর ভিতর ছিল আধুনিক যুগের মতো সকল অবকাঠামো ।বলা হয় সেই শহরের যে অবকাঠামো আবিষ্কৃত হয়েছিল তা বর্তমানের অনেক আর্কিটেক্ট এর কাছেও বিস্ময় । ১৯৭৩ সালে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক এটি আবিস্কার করেন, তৎকালীন প্রত্নতাত্ত্বিক দের মতে শহরটি ৪৩০০ বছরের পুরনো । মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পার  সভ্যতার আবিষ্কার ঘটে রাখালদাস বন্দোপাদ্ধ্যায়ের(১৮৮৫-১৯৩০) হাতে।সেখানেও আধুনিক যুগের মতো অবকাঠামো বা নগর সভ্যতার প্রমান পাওয়া গেছে । বর্তমান গবেষণার একটি ধারা বলছে সিন্ধু ,হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর সভ্যতা আর্যদের প্রতিষ্ঠিত নয় ।অধিবাসীরা ছিলো অন্য কোন জাতি ।

আচ্ছা এবারে আসি মিথের একটা বাস্তব উদাহরণ এ, মিথের যে উদাহরণটি আমাদের সামনে একেবারে জীবিত এবং সত্য হিসেবে এবং সত্যের নিদর্শন হিসেবে  রয়েছে ।সেটা হল আমাদের সকল মুসলমানের বা ইসলাম ধর্মাবলম্বী দের প্রিয় জমজম কূপ । এটি বর্তমানে কাবাশরীফ থেকে দূরত্ব কুড়ি মিটারের(ষাট ফুটের একটু বেশি) মতো ।এই কূপের কিছু অত্যাশ্চর্য বৈশিষ্ট্য নিম্নে তুলে ধরা হল –

১) জমজম কূপের পানির স্তর মাটি থেকে ১০.৬ ফূট নিচে মাত্র ।বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি উত্তোলন করা হয় ২৪ ঘণ্টা ধরে কখনো হজ মৌসুমে । এতে পানির স্তর নেমে যায় ৪৪ ফূট পর্যন্ত ।প্রতি সেকেন্ড এ ৮০০০ লিটার পানি উত্তোলন মানে দিনে ৬৯০ মিলিয়ন লিটার পানি ওঠানো । কিন্তু পাম্প বন্ধ করার মাত্র ১১ মিনিট এর মাথায় এই পানি আবার পূর্ণ হয়ে যায় !!! ।

(২৫৫)

২) এই পানিতে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম এর আধিক্য আছে । ফলে এই পানি পানে হাজী সাহেবরা দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠেন ।

৩)৪০০০ বছর এই কুপের বয়স হওয়া সত্ত্বেও এর পানি কমেনি বা দুষিত হয়নি ।

৪) প্রাকৃতিক ভাবে ফ্লুরাইড থাকার কারণে এতে শ্যাওলা জন্মায়না বা পানি দুষিত হয়না ।

৫) জাপানি অধ্যাপক মাসারু ইমোটো এর মতে জমজমের পানির স্ফটিকের গঠন সাধারন পানির থেকে আলাদা, এই পানির একফোঁটা সাধারন পানির হাজার ফোঁটার ভিতর পড়লে সবটুকুই জমজমের পানির মত হয়ে যায় এবং জমজমের পানির সমতুল্য কোন পানি পৃথিবীতে নেই ।

৬) মাইক্রোস্কোপ এর নিচে পরীক্ষা করেও বা ল্যাব পরীক্ষায় এই পানিতে কোন জীবানু পাওয়া যায়নি ।

    আরবী ভাষাতে জমজম অর্থ অঢেল পানি আর তিবরানী ভাষাতে জমজম অর্থ থামো থামো ।এর নামকরনের পিছনের কাহিনী হলো হযরত ইবাহীম (আঃ) মহান আল্লাহর নির্দেশে বিবি হাজেরা কে জনমানবহীন ও পানীয় জলবিহীন মরূভূমিতে নির্বাসনে পাঠান। ঘটনাটি প্রায় ৪০০০ বছর আগের । তো হযরত ইব্রাহীম আঃ এর চলে যাবার  পরে সাথে আনা খাদ্য এবং পানীয় শেষ হয়ে যাবার পর বিবি হাজেরা সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করতেই শিশুপুত্র ঈসমাইল আঃ এর ক্রুন্দন শুনে ছুটে এসে দেখেন ঈসমাইল আঃ এর পায়ের আঘাতে মাটি থেকে অনবরত অবিরত ধারায় পানি উঠছে ।তখন যদি বিবি হাজেরা পানি দেখে জমজম বলেন তবে আরবিতে বলেছিলেন আর যদি অবিরত পানির ধারা দেখে থামতে বলেন তবে প্রাচীন তিবরানী ভাষাতে বলেছিলেন । এই হলো জমজম নামকরণের ইতিহাস। থামতে বলে তিনি যখন পানি ওঠার ধারার চারিদিকে পাথর দিয়ে ঘিরে দেন তখন এই কুপ তার সীমায় বন্দী হয়ে যায়। কথিত আছে তিনি যদি এই পাথর দিয়ে একে না ঘিরতেন তবে এটি সীমাহীন হয়ে যেতো। এই কুপের বদৌলতে এখানে জনবসতি গড়ে উঠলো। কারণ উষর মরুর বুকে যেখানে পানি থাকে সেখানে মানুষ মানববসতি গড়ে তোলে ।এ সময় জুবহাম বা জারহাম নামের

(২৫৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!