কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৩+২৫৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫৩+২৫৪

         ধরুন একসময় ঘোড়া কে মানুষ আবিষ্কার করেছে যাতায়াতের দ্রুতগামী মাধ্যম হিসেবে ।তখন মানুষ তাড়াতাড়ির  সব কাজে দেখুন ঘোড়া কে ব্যাবহার করতো ।দ্রুত যাতায়াতের জন্য মানুষ ঘোড়াতে চড়ে যেতো, যেহেতু ঘোড়ার গতি ঘণ্টাতে ৪০-৮৮ কি়মি ।দ্রুত কোথাও যেতে ঘোড়ার পিঠে যেতো , অনেক মালামাল বহনের জন্য, যুদ্ধ ক্ষেত্রে দ্রুত আক্রমন এর জন্য ঘোড়া, দলেবলে কোথাও বেড়াতে যাওয়া সবকাজেই ঘোড়ার ব্যাবহার ছিল ,এর বিকল্প নিরাপদ ও দ্রুত কিছু ছিলোনা ।এখনকার যুগের দিকে খেয়াল করুন ,জেমস ওয়াট এর বাস্প ইঞ্জিন আবিষ্কার এর পর বর্তমান পৃথিবীর পরিবহন ব্যবস্থাতে বিপ্লব ঘটে, পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা পালটে যায়। ধরুন বর্তমানে রুপকথার সকল যাদুর জিনিস বিজ্ঞান আমাদের উপহার দিয়েছে, উড়ে যাবার রথের বা গালিচার যায়গা পুরন করেছে বিমান, দূর থেকেই কোন স্থান দেখতে পাবার যাদুর আয়নার যায়গা নিয়েছে সিসি ক্যামেরা । ঘোড়া দিয়ে যত কাজ করা হতো সবগুলো দখল করে নেয় বর্তমানের বাষ্পীয় ইঞ্জিন। আস্তে আস্তে এই থিম ধরে বিভিন্ন ইঞ্জিন আবিষ্কার হয়ে বর্তমানের যান্ত্রিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে , আসলে কি পৃথিবী কখনো অনুন্নত ও প্রাচীন ছিলো, মানুষ কি কোন দিন প্রাচীন ছিল কিনা সেটা ও বিতর্কিত , মানুষের উৎপত্তি, পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চলে আসা তত্ত্ব  সবই বিতর্কিত, যতই সেটা আমাদের বই পত্রে লেখা থাকুক না কেন। ডারউইনের বিবর্তনবাদ (১৮৫৯-অন দ্যা অরিজিন অব স্পিসিস গ্রন্থ) তত্ত্ব মতে মানুষের উৎপত্তি বানর জাতীয় প্রাইমেট থেকে ধাপে ধাপে বিবর্তনের মাধ্যমে আজ এসেছে মানুষ , এতদিন এই তত্ত্ব বিশ্বাস করে এসেছে মানুষ , আবার ২০১৮ তে এসে বলা হচ্ছে মানুষ হল শিম্পাঞ্জী এবং শূকরের ক্রস বা সংকরায়নের মাধ্যমে আসা এক নতুন প্রাণী(জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেসিস্ট ইউজিন ম্যাকার্থীর তত্ব-সংকরায়নের ক্ষেত্রে এনার খ্যাতি বিশ্বজোড়া )।তবে যে তত্বের কথা বলা হোক না কেন মানুষের উৎপত্তি সম্বন্ধে সেক্ষেত্রে বলা যেতে পারে এবং মানুষের উৎপত্তির ক্ষেত্রে মানুষ এসেছে পৃথিবীর বাইরে থেকে, সেটা হতে পারে ভিনগ্রহ থেকে এসেছে বলুন আর বেহেশত থেকে এসেছে মানুষ এটাই সত্য, বানর বা শুকর থেকে নয়|

(২৫৩)

         আর মানুষের ভিতর কত শত প্রকরণ, মূলত মানুষের নৃতাত্ত্বিক পার্থক্য অনুযায়ী তিন প্রকার মানুষ দেখা যায়, মঙ্গোলিয়ান(চাইনিজ, এই মানবজাতির উৎপত্তি ও বর্ণ সম্বন্ধে ইসলামিক মতবাদ হলো হযরত নুহ আঃ এর চারপুত্র সাম,হাম,ইয়াফিস ও ইয়াম , ইয়াম বা কেনআন প্লাবনে মারা যায় , ইয়াফেসের পৌত্র ছায়েন এর থেকে চীনা বা মঙ্গোলয়েড জাতির শুরু ,এদের ধর্ম ছিল সাবেয়ীন ,ছায়েন এর নাম থেকে চীন নাম হয়তো ),ককেশীয়ান(আরব-এশিয়ান, সাম আরবদের আদিপিতা ),নিগ্রো(কালো-শ্বেতাঙ্গ , হাম কালো মানুষদের আদিপিতা , সাম আরবদের আদিপিতা , ইয়াফেস রোমান ও গ্রীকদের আদিপিতা ),  এই তিন রকম পার্থক্য প্রধানত চোখে পড়ে আমাদের। বর্তমান মানুষ এই তিন প্রজাতির মানুষের সংকর , হযরত আদম আঃ আদিপিতা হলেও হযরত নুহ আঃ এর বংশধরেরাই শুধু মহাপ্লাবনে বেঁচে ছিল , সে আমরা বর্তমান মানবজাতির সবাই হযরত নুহ আঃ এর বংশধর।প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থ , পুরাণ  সহ প্রাচীন সকল উপকথা এবং সর্বশেষ আল কোরআন মতেও মানুষের উৎপত্তি পৃথিবীর বাইরে থেকে।আসলে দেখা যায় পৃথিবীর বাইরে থেকে মানুষের উৎপত্তির পিছনে যতো কথা বলা হয় তাঁর পিছনে যুক্তি হল মানুষের অনুন্নত জীবনের কোন লেখা পাওয়া যায়না, যতো ইতিহাস পাওয়া যায়, সর্বোচ্চ যতো পিছনের ইতিহাস পাওয়া যায় সেখানেই পাওয়া যায় মানুষ ঘর বাড়ী, পোশাক পরিহিত এবং সামাজিক জীবনের অধিকারী ।বলা হয়ে থাকে মানুষ যে জংলি –গুহা  এবং প্রাগৈতিহাসিক জীবনের অধিকারী ছিলো সেটা কোথাও পাওয়া যায়না । আর পৃথিবীর সকল জাতিগোষ্ঠীর ভিতর মানুষের উৎপত্তির কাহিনী এক রকমই (এক জোড়া মানব মানবীর স্বর্গ থেকে আসা )। আর হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে আছে বেশ কজন মনুর আসবার কথা, হতে পারে এনারা একেকজন নৃতাত্ত্বিক দিক থেকে ভিন্ন বৈশিষ্টের অধিকারী ছিলেন, ধর্মগ্রন্থের সব কথা মিথ্যা এবং বানোয়াট বলতে হবে জোর করে এই এই বিশ্বাস করানোটা অযৌক্তিক ।গ্রীক পুরানের ট্রয় নগর বা ট্রয়ের যুদ্ধ ১৮৬৫ সালের আগে মানুষের কাছে ছিল নিছক গ্রীক মহাকবি হোমার(খৃষ্ট পূর্ব ১১০০ সালের দিকে মানে এখন থেকে ৩০০০ বছর পূর্বে) রচিত কল্প কাহিনী মাত্র ।কিন্তু ১৮৬৫ সালে ফ্রাঙ্ক কালভার্ট নামে একজন প্রত্নতাত্তিক বর্তমান তুরস্কের  হিসারলিক শহরে ট্রয় নগরীর সন্ধান

(২৫৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!