কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫১+২৫২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৫১+২৫২

তবে বিজ্ঞানীদের গবেষণা মতে ০২ থেকে ০৩ লাখ বছরে পর ও এর পরিবর্তন ঘটতে পারে। এভাবে ধরুন আজ কে আমাদের আবিষ্কৃত শক্তি যদি কখনো তাঁদের পরিচিত ধর্ম পরিবর্তন করে ফেলে তখন কী হতে  পারে , হতে পারে অনেক কিছু। আজকে যে শক্তি গূলো আমরা ব্যাবহার করে উন্নত জীবনযাপন করছি , সেই শক্তি গুলোর যদি বিকল্প না থাকে তবে আমরা পড়ে যেতে পারি বিপদে ।ধ্বংস হয়ে যেতে পারে মানব সভ্যতা , এক টানে আমরা ফিরে যেতে পারি কূপি-বাতির যুগে ।এখনকার বিদ্যুৎ শক্তি যদি অচল হয়ে পড়ে তাহলে বলা যেতে পারে বর্তমানের যত ডিভাইস আছে কোনটাই কাজ করবেনা ।অচল হয়ে যাবে পুরো সভ্যতা । বিদ্যুৎ শক্তি কে বলা যেতে পারে সভ্যতার প্রান শক্তি ।কখনো যদি বিদ্যুৎ শক্তি তার কার্যকরীতা হারায় তবে কি হবে ভেবে দেখেছেন, কে দিয়েছে এই গ্যারান্টি যে বিদ্যুৎ বা চুম্বক তার কার্যকরীতা বা ধর্ম চিরকাল এক রকম রাখবে এটা ও তো কোথাও লেখা নেই। যে কোন সময় যদি প্রকৃতির আপন খেয়ালে যেমন এটা আবিষ্কার হয়েছে তেমন যদি প্রকৃতির আপন খেয়ালে এই চালিকা শক্তি গুলো যদি কখনো কার্যকারিতা হারায় তবে কি হবে ভেবে দেখেছেন কি হতে পারে , পৃথিবী চলে যেতে পারে এক প্রাচীন অবস্থাতে ।প্রতি ০৭ লাখ ৮৬ হাজার বছরে পৃথিবীর চুম্বক মেরু উল্টে যায়, মিনিমাম প্রতি ০২ থেকে ০৩ লাখ বছরের ভিতর এটা ঘটবার সম্ভাবনা থাকে, চুম্বক মেরু উল্টে গেলে অনেক কিছু ঘটতে  পারে পৃথিবীর ।পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের কারন হল পৃথিবীর ভিতরের  বিভিন্ন গলিত তরল  ধাতু । পৃথিবীর সৃষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে প্রথমে গ্যাসীয় গোলক থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে হতে আজকের পৃথিবী , কিন্তু পৃথিবীর ভূগর্ভের গভীরের দিকে এখনো জমাট  হয়ে পারেনি।এই কারনে চুম্বক ক্ষেত্রের কোন বিরুপ সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা ।পৃথিবীর সকল পরিবর্তন হল বেশ ধীর।যেমন ধরুন পৃথিবীর সমস্ত স্থলভাগ পানির উপর ভাসমান ।পানি বলতে সে এক মহাসমুদ্র ।বলা চলে প্রত্যেকটি মহাদেশ একেকটা ভাসমান মহাদেশীয়  প্লেট ।এই প্লেট গুলো কয়েক কোটি বছর আগে এক যায়গাতে ছিল । আবার ভুকম্পন বা যে কোন কারনে হোক না কেন এগুলো আলাদা হয়ে যায় ।

(২৫১)

         আপনি আমি টের পাচ্ছিনা বটে, কিন্তু এই প্লেট গুলোকে বোঝার সুবিধার্থে তুলনা করা যেতে পারে যে একেকটি মহাদেশ ধরুন একেকটি জাহাজ , আর এই জাহাজের প্রত্যেকটি কক্ষ একেকটি দেশ, জাহাজ যেমন সাগরে স্থির থাকেনা ,স্থান পরিবর্তন করে তেমন আমাদের মহাদেশ নামক জাহাজটি বিভিন্ন দেশ নামক কক্ষ নিয়ে ঘোরাফেরা করছে ।এই পরিবর্তন  লক্ষ করলে দেখা যাবে ১০০ মিলিয়ন বছর আগে দক্ষিন আমেরিকা মহাদেশ আর আফ্রিকা এক যায়গায় ছিল ।কিন্তু এখন দুটো মহাদেশ এর ভিতর দূরত্ব হাজার মাইল ।আবার দেখা গেলো ১০০ মিলিয়ন বছর পর আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ মানে বাংলাদেশের সাথে লেগে আছে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ ।এই পরিবর্তনটা সর্বপ্রথম লক্ষ করেন আলফ্রেড ওয়েজেনার নামক একজন বিজ্ঞানী ।তার এই তত্ত্বের নাম দেওয়া হয় কন্টিনেন্টাল ড্রিফট তত্ত্ব । এভাবে আমাদের মহাদেশ গুলো প্রতি বছর স্থান পরিবর্তন করছে । আমাদের খালি চোখে সেটা দেখা বা বোঝা সম্ভব নয় ।দেখা যাচ্ছে এই সরে যাওয়ার হার হল প্রতি ১০০ বছরে মাত্র ০২ ইঞ্চির মত বা সর্বোচ্চ ০১ ফুটের মত।এ জন্য বিবর্তন ও ভূপ্রকৃতির পরিবর্তন মানুষ টের পায়না ।এই প্লেটের সঞ্চারন ভুমিকম্পের ও কারন।তেমনি এই চুম্বক ক্ষেত্রের ব্যাপার । চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব বা পরিবর্তনটা  ওইরকম অনেক বছর পর হয় ,  পরিবর্তন টা ০২ থেকে ০৭ লাখ বছরের মধ্যে হয়। চুম্বক ক্ষেত্রের যে প্রভাব পৃথিবীর উপর বিরাজ করছে সেটার প্রভাব পৃথিবীর উপর সুদূরপ্রসারী ।এই চুম্বক ক্ষেত্র না থাকলে সৌর ঝড় সংঘটিত হয় , পৃথিবীর উপর ক্ষতিকর বিভিন্ন রশ্মির পতন , বিদ্যুৎ শক্তির গরমিল পরিলক্ষিত হতে পারে । আমার মনে হয় যে একেকটা পরিবর্তনে একেকটা ইতিহাস তৈরির পরিবেশ তৈরি হয় পৃথিবীতে । এই লাখ বছর পর একেকটা পরিবর্তনে পৃথিবীতে একেকটা প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর রাজত্ব তৈরি হয়েছে। এভাবে ডাইনোসর থেকে মানুষ অগনিত প্রাণী এসেছে , আবার এভাবে বিলুপ্তি বা ধংশের ধারাতে আমরাও একদিন বিলুপ্তও হয়ে যাবো হয়তোবা।আবার এই যে চালিকা শক্তির কথা বলি , সেই চালিকা শক্তি যে যুগে আবিষ্কার হয় দেখা যায় যে সেই শক্তিকে সেই যুগের মানুষ ব্যাবহার করে যতগুলো কাজে লাগানো যায় মানুষ সেই সব রকম কাজে লাগায় ।

(২৫২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!