কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪৭+২৪৮ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪৭+২৪৮

         এখন দেখুন প্রত্যেকটি রাষ্ট্রে রয়েছে ভয়ানক সব অস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী। এখন মানুষের ভিতর আনুগত্য বলে যদি কোন জিনিস না থাকতো তবে নিশ্চয় এই লক্ষ লক্ষ লোক (সেনাবাহিনী বা মিলিশিয়া)নিশ্চয় কথা শুনতোনা , ফলে ধ্বংস হয়ে যেতো রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ।দেখা দিতো ঘন ঘন বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধ। সুদান, আফগানিস্তান, সোমালিয়া এই সব রাষ্ট্র গুলো তো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তো মানুষের মধ্যে এই যে আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিবেক এই গুলা না থাকতো তাহলে আমরা কেউ কি কারো কাছে সমাজে , রাষ্ট্রে ও পরিবারে কারো কাছে কি নিরাপদ থাকতাম? এই আনুগত্য, দেশপ্রেম, বিবেক এই গুলা কি মানুষ বশীকরণ , বা সমাজে শৃঙ্খলা রাখার জন্য এক প্রকার ‘সাইকোলজিক্যাল হিপনোটাইজেশন বিদ্যা নয় কি ? এটা ও এক প্রকার যাদু বিদ্যা । এখন যদি কোন দেশের সরকার মনে করতো আধুনিক যুগের এই মিসাইল , বন্দুক , রাইফেল এগুলো কারো কাছে নিরাপদ নয় , তখন দেখা যেতো তার সেনাবাহিনীর হাতে দিতেন আদি যুগের ঢাল-তলোয়ার-তীর। আর নিজেদের হাতে থাকতো এখনকার অত্যাধুনিক অস্ত্র আর সেগুলো আবিস্কারের ফর্মুলা। ফলে লাভ হতো বহুমুখী । সৈনিক দের বললেই তারা ভয়ে যুদ্ধ করত আর যারা বিদ্রোহ করতো তারাও দমন হতো অতি সহজে । কারন আধুনিক যুগের এসব অস্ত্রের কাছে ঢাল তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে বন্দুক , রকেট লাঞ্চার ধারীরা হতো ঢাল তলোয়ার ধারী সৈনিক ও সাধারন মানুষের কাছে হয়ে যেতো অতিমানব ,  অবতার এবং দেবতার সমান। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ তখন খুব সহজে এদের কে দেবতার আসনে বসাত। এই ধরুন আমাদের এই যুগের একটা প্রয়োজনীয় বস্তু হল ক্যামেরা । চাকুরির পরীক্ষার জন্য হোক , স্কুলে ভর্তি , বৈষয়িক কাজ , ভ্রমন এবং যে কোন অনুষ্ঠানে হোক এর ব্যবহার অনস্বীকার্য । আজ থেকে দশ বছর আগেও ক্যামেরা আমাদের কাছে এতোটা সহজলভ্য বাপার ছিলোনা । কিন্তু এখন প্রত্যেক মোবাইল সেট এর সাথে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা থাকার কারনে এটি  এখন ঘরে ঘরে , হাতে হাতে । এবং এর ফলে আমরা যেমন প্রচুর উপকৃত হচ্ছি , পাশাপাশি এর অপব্যবহার ও কম হচ্ছেনা ।

(২৪৭)

         প্রায়ই শোনা যায় মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করা আপত্তিকর সব ভিডিও ক্লিপ্স এর কথা, বিভিন্ন অপহরন, পরকিয়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যোগসাযোগ সহ নানা রকম অপব্যাবহার এর কথা ।আবার এই মোবাইল এর আবিস্কারের না হলে কত সুন্দর মুহূর্ত গুলো মিস করতাম আমরা, প্রিয়জন চোখের আড়াল হলে আর কথা বলতে পারতাম না, প্রবাসে গিয়ে পরিবার পরিজনদের সাথে দেখা হতোনা,  আপনি মিস করতেন রাতের পর রাত প্রিয়তমার সান্নিধ্য , যোগাযোগ ব্যাবস্থা হতো না এত উন্নত আর এত দ্রুত। ভাবুন তো যদি সরকার মোবাইল এর  উপর অতিষ্ঠ হয়ে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে মোবাইল ব্যবস্থা বন্ধ করে দিতো তাহলে কি হতো ! ভাগ্যিস মোবাইল এ জালিয়াতি বন্ধ করবার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতির প্রচলন করা হয়, ফলে আশাতীত ভাবে হ্রাস পায় মোবাইল এর মাধ্যমে সব অপরাধ ।যদিও এর জন্য তৎকালীন ডাক ও টেলি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী (তারানা হালিম ম্যাডাম)  এর বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনার ঝড় ওঠে,  কিন্তু অচিরেই এর সুফল পেতে শুরু করে জনসাধারণ, অনেকে আবার একটা আশঙ্কার কথা বলেছিলেন যে বিদেশি কোম্পানির কাছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চলে যাবার ভয় আছে, তবুও সিস্টেম টা ভালো। ফলে ফোন দিয়ে কিডন্যাপ ও হুমকি, নারীদের উত্যক্ত করা , একজনের অনেকগুল সিম এরকম ভেজাল গুলো বন্ধ হয়ে যায় । আবার ঘন ঘন শোনা যায় ফেসবুক এ প্রশ্ন ফাস এর কথা, ফলে মাঝে মাঝেই সাময়িক ভাবে ফেসবুক বন্ধের প্রস্তাব আসে ।আবার ধরুন এখনকার সময়ে মানুষ ইচ্ছামত ভিডিও এডিটিং করতে পারে , কিন্তু তবু ভিডিও এডিটিং এ কিছুটা প্রযুক্তিগত ঘাটতি আছে ।কিন্তু ধরুন ভিডিও এডিটিং যদি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, একটা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এ দেখা গেলো মিস্টার মিস্টার কে হত্যা করলো, কিন্তু মিস্টার কে বাঁচাতে গিয়ে নামক একজন ব্যাক্তিকে  দেখা গেলো খুন করতে ।এবং এই নিরপরাধ কে ফাঁসানো হল সম্পূর্ণরূপে ভিডিও এডিটিং করে ।ভিডিও এডিটিং যদি কখনো এই পর্যায়ে যায় তাহলে দেখা যাবে ভিডিও করবার সমস্ত যন্ত্র সাধারন মানুষের থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে ।

(২৪৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!