কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪৫+২৪৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৪৫+২৪৬

সেই নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠীর হাতে মাত্র । তখন বিষয়টা কি দাড়াবে একবার ভেবে দেখেছেন । আজকে যে জিনিষ অতি সাধারন মনে হচ্ছে আপনার আমার কাছে , সেই জিনিসটাই হয়ে উঠতো দৈবিক বা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সম্পন্ন একটা বিষয় । ধরুন সারা পৃথিবীর মানুষেরা যুদ্ধ করতো লাঠিসোটা, তলোয়ার নিয়ে, কোথাও যুদ্ধ লাগলো আমরা নেমে পড়লাম লাঠিসোটা, ঢাল-সড়কি হাতে নিয়ে, এবার দেখা গেলো আমাদের বিপক্ষ সেই গোষ্ঠী অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর আক্রমন করে বসলো। তখন আমরা কি আমাদের বিপক্ষ সেই দল কে দেবতা ভাবা শুরু করবনা? সবাই কি তাদের অধীনতা মেনে নিতোনা । যেহেতু বন্দুক আমাদের কাছে অসাধারন কিছু নয়, কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে এটা হয়ে যাবে দৈব, স্বর্গীয়, ব্রহ্মাস্ত্র, ইত্যাদি অস্ত্র নামে। মোবাইল তো কানে লাগিয়ে ভালোই কথা বলেন, যখন খুশি কল দেন, আগে তো বাটন প্রেস করা লাগত , এখন তো সেটাও লাগেনা। টাচ করলেই হল । ফেসবুক, ইউটিউব ব্যবহার করছি ,  নিজেকে হেভি স্মার্ট আর মহাজ্ঞানী ভাবছি অবশ্যই। তো কখনো যদি এই টেকনোলজি সাতদিনের জন্য ধংশ হয়ে যায় তবে আপনার বা আমার মত যে ছেলেটা স্মার্টলি ফোন রিসিভ করে , যে মেয়েটা বা ছেলেটা  রাতের পর রাত ফোনে কথা বলে সময় এবং ঘুম দুইটায় নষ্ট করে, যারা বেশ স্মার্টলি এন্ড্রয়েড বা আইফোন এর সমস্ত ফাংশন মেইনটেইন করেন, বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তাদেরকে বলছি যদি আপনাদের এই টেকনোলজি ধবংশ হয়ে যায় কোন আকষ্মিক কারনে , তখন এই ওভারস্মার্ট জেনারেশন বলি আর আর আমাদের উন্নত বিশ্বের লোক বলি কারোরই ক্ষমতা হবেনা একটা মোবাইল ফোন আবিস্কার বা মোবাইল ফোন তরঙ্গ রিসিভ করবার টাওয়ার আবিস্কার করবার মতো ক্ষমতা কারো হবেনা ।  অনেকদিন আগে কোন একজন বিখ্যাত লেখকের হিপনোটাইসিস ও মেসমেরিজম নিয়ে লেখা একটি বই এর কয়েকটি লাইন ছিল এরকম প্রাচীন ভারত , মিসর , সহ বিভিন্ন যায়গাতে অদ্ভুত ক্ষমতাশালী কিছু বিদ্যার আবিস্কার তৎকালীন যুগে হয়েছিলো তৎকালীন বিজ্ঞানী বা সাধু সন্তুদের হাতে

(২৪৫)

– যেটা তারা সরল মনে মানবকল্যানে ব্যবহার করেছিলেন এবং সরল মনে মানুষ কে শিক্ষা ও দিয়েছিলেন যাতে মানুষ নিজেই তার নিজের প্রয়োজন মেটানো এবং বিপদ এড়াতে  পারে  । কিন্তু একটা সময় তে দেখা গেলো জিনিস গুলো মানবকল্যানের পরিবর্তে বুমেরাং হয়ে দেখা দিলো । যে হিপটোনাইজেশন  এবং বশিকরন জানে সে খুশিমত যে কাউকে তার অবৈধ প্রয়োজনে বশীভূত করে তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও কার্য্য সিদ্ধি করে নিলো ফলে সরকার বাধ্য হয়ে সেই বিদ্যাগুলি নিষিদ্ধ করে দিলেন সাধারন মানুষের জন্য ।      

কয়েকটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে আপনাদের কাছে। ধরুন আগ্নেয়াস্ত্র তথা বন্দুক বা পিস্তল হলো আমাদের কাছে  অতি সাধারন একটা বিষয়, যদিও সবার নাগালের বা সাধ্যের ভিতরে নেই, তারপরেও এটা আশ্চর্য কিছু নয় আমাদের কাছে। এখন এই পিস্তল বা বন্দুক যদি আমাদের সবার হাতে থাকতো তবে আমাদের ভিতর চলে আসতো এক ধরনের উগ্রতা, কারো উপর রাগ হলেই আমরা হয়তো গুলি চালিয়ে দিতাম। যখন তখন ন্যায় বা অন্যায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য যোদ্ধা হয়ে উঠতাম, ফলে দেখা যেতো সমাজ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়ে যেতো। কারন তখন সবাই অস্ত্রের ক্ষমতাতে ক্ষমতাবান। ফলে একসময় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতো। কারন পৃথিবী চলছে একটা উচু নিচু কম্যান্ড সিস্টেম এর মাধ্যমে ।দেখুন স্রষ্ঠা যে ক্ষমতাতে ক্ষমতাবান তার অসংখ্যা অনুভাগের এক ভাগ ক্ষমতা পুরো সৃষ্টি জগতের সমস্ত সৃষ্টির নেই। সে রকম ভাবে আমাদের ক্ষুদ্র পৃথিবী ও সমাজ চলছে সেই একই সিস্টেম এ, আধুনিক যুগের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান হবার চাবিকাঠি এই অস্ত্র , কিন্তু দেখুন কত সুন্দর আইন নামক এক সিস্টেম এর মাধ্যমে এই অস্ত্রের ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে শাসক, সেনাবাহিনীর মধ্যে। তার ভিতর কেউ কেউ ওভার দি রুল হিসেবে অস্ত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে তারপরেও। তারাই আমাদের সমাজে চাঁদাবাজ , খুনি, অরাজকতা সৃষ্টিকারী হিসেবে তথাকথিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত আমাদের কাছে।

(২৪৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!