কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৩৭+২৩৮ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৩৭+২৩৮

কিন্তু আমাদের পৃথিবীর ভিতরের অনেক রহস্য আমাদের কাছে অজানা ও অমীমাংসিতই রয়ে গেছে, ধরুন আমাদের ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত কিয়ামতের আলামত ইয়াজুজ মাযুজ নামক মানব জাতি পৃথিবীতেই আছে কিন্তু তারা কারা আমরা জানতে পারছিনা বা পারিনি আজও, বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, ফ্লাইং সসার এগুলো নিয়ে এখন সামান্য ধারণা দিতে গেলে বই এর কলেবর আরো ৫০ পৃষ্ঠা বৃদ্ধি পাবে । এ জন্য এ আলোচনাতে যাবোনা। তবে ইউএফও বা UNIDENTIFIED FLYING OBJECT  ফ্লাইং সসার নিয়ে আমার কিছু ভাবনা আছে, ব্যাপারটা হলো এটা শুধু আমেরিকা ও তার আশেপাশের দেশ গুলোতে দেখা যায় কেন ? এরকম আকাশ যানের কথা প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতাতেও উল্লেখ আছে, তাহলে এই প্রাচীন  গুপ্তবিদ্যার কোন সুত্র ব্যবহার করে কোন মানব বা মানবগোষ্ঠী এই প্রাচীন যান নিয়ে কোন পরীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনা করেছিলনাতো ? সত্তর থেকে নব্বই এর দশকে এগুলো বেশি দেখা গিয়েছে। এগুলো  বিগত বিশ বছর তেমন দেখা যায়নি। তবে কয়েকবার দেখবার কথা অফিসিয়ালি কয়েকটি দেশ বিগত বিশ বছর স্বীকার করেছে।১৯৭৬ এ ইরানের রাজধানী তেহরান এ এরকম একটা ইউএফও দেখা গিয়েছিল। এর পরও বেশ কবার দেখা গেছে, ভারতের  ছত্রিশগড়ের চারামা, কানকের এ প্রাগৈতিহাসিক পাথরচিত্রেও (যেটা ১০ হাজার বছরের পুরাতন) এরকম যানের অদ্ভুত চিত্র অংকিত আছে। কয়েকবার ভারতের মানুষ ইউএফও স্বচক্ষে দেখার বিষয়টা দাবি করেছে। কিন্তু ইউএফও অমিমাংসীত রহস্য আর  মিথ হিসেবে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই রহস্য হয়ে আছে ।

০৭)নাগমনি ও ইচ্ছাধারী নাগ সিরিয়াল বা সিনেমাতে আমরা নাগমনি বা ইচ্ছাধারি নাগ দেখে অভ্যস্ত।কিন্তু বাস্তবে কি সেটা সম্ভব ? বিজ্ঞান কিন্তু এটা একেবারে গাজাখুরি বলে উড়িয়ে দিয়েছে ।কারন এটি সরীসৃপ জাতের বিষধর প্রাণী ছাড়া আর কিছু নয় , কিছুদিন আগে ভারতের বিখ্যাত মহিলা প্রযোজক ও পরিচালক একতা কাপুর এর নির্মিত সিরিয়াল নাগিন এ মৌনী রায় কে নাগমনি পাহারা দিতে দেখে এবং যখন তখন মানুষ থেকে সাপে রুপান্তরিত হতে দেখে মনে হল ব্যাপারটা নিয়ে লিখবো।

(২৩৭)

         আগেই বলেছি বিজ্ঞান সরাসরি এরকম নাগমনি বা ইচ্ছাধারি নাগের ব্যাপারটা নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের ইসলাম ধর্মেও কিন্তু বলা হয়েছে একপ্রকার জীন কিন্তু সাপের রুপ ধারন করে বসবাস করে।আর কুকুর, উট, গাধা এরা কিন্তু জীনদের তাদের নিজস্ব আকারে দেখেতে পারে । যেটা আমরা মানুষেরা পারিনা ।আবার সাপ জিনিসটা কিন্তু রহস্যময় চলাফেরার অধিকারীও। যে কেউ এটাকে হঠাৎ দেখলে অবশ বা বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে পারেন ।আবার হিন্দুধর্মে দেবী মা মনসার পুজাতো আছেই , সুতরাং ধর্মীয় দিক থেকে দেখলেও সাপের একটা রহস্যময়তা আছে । সাধারনত সাপের বিষ তাদের মাথাতে মানে তাদের লালাক্ষরণ কারি গ্রন্থি বা বিষ থলিতে থাকে । এই বিষ থলি যখন বয়সের ভারে শুকিয়ে যায়, তখন এটা শক্ত হয়ে চকচকে কাল পাথরের রুপ ধারন করে, তখন এটাকে ভণ্ড লোকেরা বা  সাপুড়েরা  সাপের মনি বলে চালিয়ে দেয় ।ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী বা মিথলজি অনুযায়ী শ্রী কৃষ্ণের এরকম মনিধারি নাগের সম্মুখিন হতে হয়েছিল, বৃহৎ সংহিতা (বরাহমিহির)নামে একটি গ্রন্থে এর উল্লেখ আছে ।এই গ্রন্থ অনুযায়ী এই মনি যদি কোন রাজার কাছে থাকে তবে তার রাজ্যে সময়মত বৃষ্টি হবে, প্রজারা সুখে থাকবে এবং মণি ধারী কে পৃথিবীর কোন রোগই স্পর্শ করতে পারবেনা ।বরাহমিহির(৫০৫-৫৮৭)ছিলেনপ্রাচীন গুপ্তসাম্রাজ্যের রাজা বিক্রমাদিত্যের সভার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও জ্যোতিষী ।পশ্চিমা কয়েকজন গবেষক এর মতে ক্লোরফেন নামক এক প্রকার পদার্থের কারনে সাপের মণি তৈরি হতে পারে, তবে সেটা কালো,তবে বরাহমিহির এর মতে এক ধরণের কালি নাগ সাপ আছে, ভারতের নাগাল্যান্ডে পাওয়া বিরল প্রজাতি, বর্তমানে বিলুপ্ত বলা যেতে পারে, যেটা ১০০ বছর আয়ু পেতে পারে, যদিও সাধারণত কোন সাপ ৩০ বছরের ঊর্ধে আয়ু পাওয়ার কথা নয়, তবে সেই এই কালিনাগ সাপ যদি ১০০ বছর আয়ু পায় তবে এর মাথার মণি কালো থেকে রংধনু আকারে দ্যুতি ছড়াবে, আর এই সাপটিও হয়ে উঠবে ইচ্ছাধারী, তখন সে মানুষসহ যে কোন প্রাণীর রুপ ধারণ করতে পারবে। এটাও একটা প্রাচীন গল্প , ইতিহাস আর বর্তমান সিনেমা সিরিয়ালে প্রচলিত ভয়ানক অমিমাংসীত মিথ কথাটা গুরুত্বহীন নাও ভাবা যেতে পারে|

(২৩৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!