কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২২১+২২২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২২১+২২২

নজরুল, শরৎচন্দ্র, সত্যজিৎ, সক্রেটিস, প্লেটো, মানব সৃষ্ট অসংখ্যা সুরেলা গান, কুমার শানুর গান, সুরস্রষ্ঠা তানসেন, বিটোভন, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, শেক্সপিয়ার, এডগার এলান পো, জ্যাক লন্ডন, রোম্যান্টিক আর হিট সিনেমা ও  জুটি, প্রকৃতির নাম না জানা অসংখ্যা শক্তিকে যুগের পর যুগ ধরে চেষ্টা করে মানবের জন্য ধরে নেওয়ার মাধ্যমে করা বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার সবই মূহুর্তে মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাবে । কত কষ্ট করে , কত দিনের পর দিন রাতের পর রাত জেগে,  কত সাধনা করে , কত সুখ পরিত্যাগ করে কীর্তিমানেরা সুর,সংগীত, সাহিত্য আর সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলেছেন এর মূল্য বা মর্ম কখনো ধ্বংশলীলা বা মহাপ্রলয় বুঝবেনা, সময় হলে সে সবকিছু ধ্বংশ করে দেবে । কোনদিন কেউ বা মহাবিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডের কেউ সুন্দর পৃথিবী আর এই সুন্দর পৃথিবীর এত সৌন্দর্য্য, মানুষ নামক জীব ও তার জ্ঞান বিজ্ঞানের ইতিহাস মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাবে, কোন গ্রহবাসী বা মানবজাতি ধ্বংশের পর ভবিষ্যতে সৃষ্ট কোন বুদ্ধিমান  সৃষ্টি বা জাতিও জানতে পারবেনা, সাক্ষী থাকবে শুধু বোবা মহাকাল। দুঃখ বা আফসোস শুধু এটাই থাকবে যে, হিসাবের ও অতীতকাল থেকে পৃথিবীতে তিলে তিলে গড়া কৃতিমানদের কৃতিত্ব ধুলিসাৎ হয়ে যাবে , মহাকালে বিলীন হয়ে যাবে, ধ্বংশের পর যদি কেউ এই কৃতিমানদের কৃতিত্ব, মানবজতির ঘরবাড়ি, গঠনশৈলী, এগুলো জানবার কেউ না থাকে তবে মন উদাস হয়ে যাবার কথা। শুধু পৃথিবী ধ্বংশ হলে হয়তো তবুও ভবিষ্যতে মানুষ অন্য গ্রহে বসতি করে মানবজাতির এই রূপকথা টিকিয়ে রাখবে , কিন্তু মহাপ্রলয়ে ধ্বংশ হবে পুরো মহাবিশ্ব ও বিশ্বব্রক্ষ্মান্ড । তখন কে বলবে একদিন এ রকম সুসজ্জিত প্রকৃতি, ঘর বাড়ি মানুষ ও তাদের বিজ্ঞান আবিষ্কার কর্ম ও জীবনগাথা ছিলো  ? এ গুলো নিয়ে গর্ব , কদর বা স্মৃতিচারণের কেউ থাকবেনা, না জানি পৃথিবী কতবার এরকম ধবংশ হয়েছে, যুগে যুগে কতবার তার এ রকম মূল্যবান সন্তানদের লালন করেছে, কতবার এ রকম উন্নত সৃষ্টি সভ্যতা আর জ্ঞান উৎকর্ষতা হয়েছে কে বলতে পারে  ? স্রষ্ঠাকে টানছিনা , কারণ তিনি সর্বজ্ঞ, তিনি আলিমুল গায়েব|

(২২১)

         এই সৃষ্টিজগতের সবকিছুই ওনার কাছে মুল্যহীন, হও বলামাত্রই সবকিছু যেমন সৃষ্টি হয়েছে তেমনি ওনার হুকুমে হযরত ঈসরাফিল ফেরেশতার সিংগার ফুঁকে সব ধ্বংশ হয়ে যাবে, কিন্তু বলছি এখানে শুধু আমাদের মানুষদের অনুভূতির কথা। বয়স একদিন চলে যায়, যুবক বুড়ো হয়, মরেও যায়, পৃথিবীতে আসার আগে যেমন আপনি বা আমি মিস্টার অমুক সাহেব নামে কেউ ছিলামনা তেমনি মরার পরে অমুক সাহেব নামে কেউ ছিল তার অস্তিত্বও থাকবেনা। মানে সৃষ্টির আগে অস্তিত্ব বা আকারবিহীন যেমন এক “কিছু নেই” ছিলাম মরার পরে তেমন মরার পরে অস্তিত্ব ও আকারবিহীন এক “কিছু নেই” হয়ে যাবো। তবে কর্মগুণ আর মানুষটির ছবি থাকলে কেউ কেউ হয়তো স্মরণ করে ।কৃতিত্বের বা রেকর্ড গড়ার কাজ করার পর যদি সেটা  করা বা সম্মান করার মত লোক না থাকে, কৃতিত্ব আর বীরত্ব  যদি দেখা বা কদর করার মত লোক না থাকে তবে সেই অব্যক্ত দুঃখটা প্রকাশের ভাষা থাকেনা । ১৯৭৭ সালে ভয়েজার-১ ও পরবর্তীতে ১৯৮১ তে ভয়েজার-২ নামক দুটি স্বচালিত মহাকাশযান ছেড়ে দেওয়া হয়, উদ্দেশ্য ছিলো পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বের খবর জানা, মহাবিশ্বের ও আমাদের সৌরজগতের, এতদিন এরা আমাদের হাই রেজুলেশনের সব ছবি পাঠিয়েছে ।আর দু এক বছর হয়তো ছবি পাঠাতে আর তথ্য পাঠাতে পারে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল নাগাদ এর জ্বালানী সব শেষ হয়ে যাবে , তারপর আর কোন খোজ পাবোনা এর, কিন্তু অসীম মহাকাশের পানে অনন্ত ছুটে চলবে , ধ্বংস হবার সম্ভাবনা নেই এর, এটা এখন আমাদের সৌরজগৎ পার হয়ে ওর্ট ক্লাউড নামক এক মেঘের রাজ্য পার হচ্ছে, এই মেঘের রাজ্য পার হতে লাগবে ৩০০০০ বছর, আমাদের কাছের সোলার সিস্টেম প্রক্সিমা সেন্টরাই এ পৌছাতে লাগবে ৭৪৪০০ বছর, যদিও ৮০০ কেজি ওজনের ভয়েজার প্রতি ঘণ্টাতে  ৬২১৪০ কিলোমিটার বা সেকেন্ডে ১৭ কিলোমিটার গতিতে যাচ্ছে তারপর ও এতদিন লাগবে, আর মহাবিশ্বের তো কোন শেষ নেই, আর ভয়ঙ্কর কথা হল মহাবিশ্ব আয়তনে দিন দিন বাড়ছে, ৩০০০০ বছর বা ৭৪৪০০ বছর কি আমরা মানব জাতি বা পৃথিবী থাকবে, থাকবেনা বোধ হয়|

(২২২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!