কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১৩+২১৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২১৩+২১৪

কিন্তু এখন ইন্টারনেট এ ইউটিউব এবং ফেসবুক এর কল্যাণে দেশ বিদেশের প্রত্যেকদিন আপলোড হওয়া সত্য ভিডিও গুলোর দিকে ঝুঁকছে। এগুলতে মানুষ ভেরিয়েশন পাচ্ছে। তখন যেহেতু  সকল সিনেমা হলের ও বাংলা সিনেমার বাজার রমরমা, বাবার পকেট কেটে হোক, বাড়ির ডিম বেচা ধান বেচা টাকা হোক আর টিফিনের পয়সা বাচিয়ে হোক হলে গিয়ে সুস্থধারার আর সুন্দর কাহিনীর সিনেমা দেখার অনুভূতিই আলাদা । আর সাথে স্কুলের মাঠ থেকে কেনা নানা রকম গল্পের বই (ভূত-গোয়েন্দা –রূপকথা) পড়ার মজা তো ছিলোই,  আবার গ্রীষ্মে আর শীতে স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র বাবা-মার কাছে বায়না ধরে ভাইবোন সহ  নানী বাড়ি বেড়াবার মত প্রধানতম এক  মহা আনন্দদায়ক সংস্কৃতির কোন বিকল্প ছিলোনা।মনে হতো যেন সূদীর্ঘকাল কারাবরনের যন্ত্রনা শেষে এক স্বর্গভ্রমনে যাচ্ছি ।এটাও ছিলো বাচ্চাদের আত্ত্বিক সম্পর্ক গঠনের এক অন্যতম সংস্কৃতি।একটা কবিতার কথা মনে পড়ে গেলো । নানীবাড়িতে মেজোমামার ঘরের দেয়ালে একটা ক্যালেন্ডারে ওই কবিতাটা শোভা পেতো, কবিতাটি বিখ্যাত কবি আল মাহমুদের লেখা , ওই কয়েকটা লাইনই গ্রীষ্মের ছুটির গ্রামে বেড়ানোর মজা বহুগুণে বাড়িয়ে দিতো –

গাঁয়ের শেষে বটের তলে

আমিও ছিলাম ছেলের দলে

উদোম দেহে গাছের ভীড়ে

খেলেছিলাম নদীর তীরে

আজ মনে হয় মনের ছায়া

সেই সুদুরের সজল মায়া

বুকের নিচে রোদন করে

চোখের পাতায় বৃষ্টি ঝরে

(২১৩)

         যদিও শহরের স্কুলের ছেলে বলে গ্রামের ছেলেদের সাথে গ্রাম বাংলার খেলাগুলোতে পেরে উঠতাম না । তবে ভরসা পেতাম আমার সমবয়সী ছোট মামা সাথে থাকলে । গ্রামের কোন ছেলে বা মেয়েদের তখন আর ভয় পেতামনা । সমানে খেলা আর গায়ের জোরে পারদর্শী ছিলো আমার ছোট মামাটি । যদিও এখন হ্যাংলা পাতলা শরীরের শিরোমণি তিনি। অন্যদিকে গ্রামের সমবয়সী শিষ্ট ছেলে মেয়েদের দেখলে অন্য রকম একটা আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয়ে যেতো । এখন তাদের প্রায় সবাই কর্মক্ষেত্রে মহা ব্যস্ত, মেয়েরাতো পুরোপুরি বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সংসারী ।এতদিন পর এগুলো মনে হলো এজন্য যে , সময় যখন অতীত হয়ে যায় তখন মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যায় স্বর্ণালী অতীত। রেশ থেকে যায় তার শুধু নিজের মাঝে । এ ইতিহাস আর কেউ জানেনা । অধিকাংশ মানুষের জীবন কাহিনী  সাহিত্যিকের লেখা উপন্যাসের চেয়ে বেশি কিছু, অনেক মানুষের জীবন ও সংগ্রামের কাহিনীতো অষ্কার পাওয়া চলচ্চিত্রকেও হার মানিয়ে দেয় ।আজ নানী গত হয়েছেন কয়েক বছর, সেই ছোটবেলার খেলা ধুলার বন্ধু গুলো কর্মজীবন সুত্রে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে । কর্মজীবন আর সংসারজীবনের ব্যস্ততাতে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনা শৈশবের স্বর্ণালী দিনগুলো ফেলে আসা গ্রামে । অনেক বছর যাওয়া হয়না । গেলেও কেমন যেন মনে হয় সেই সময়টা হারিয়ে গেছে, এখনকার গ্রামতো সেই গ্রাম নয়। এ আমার সম্পূর্ণ অপরিচিত এক গ্রাম । আমাদের হারানো সেই যায়গাটা দখল করেছে সেই সময়ের নবজাত শিশুরা, আজ তারা বিশ এর যুবক।তাদের থেকে আমাদের বয়স দূরত্ব মাত্র ১০ বছর তাই এতটা দূরত্ব। আসলে পৃথিবীতে আপনার আমার একটা নির্দিষ্ট কাজ আছে, নিজের একটা সময় আছে । তারপর আর কেউ আমাদের মনে রাখেনা, সময় তার প্রয়োজন ফুরালে আমাদের ছুড়ে ফেলে । আপনি টিনেজ বা যুবক বয়সে অনেক আশা দেখছেন, আপনার এখন স্বণালী সময়, আত্বীয় – বন্ধু – বান্ধবী – স্ত্রী সন্তান পরিবেষ্টিত কত সঙ্গময় জীবন , কত বর্ণালী রঙ্গিলা জীবন। কিন্তু যত বয়স হয়ে যাবে দেখবেন আপনি কেন জানি একা হতে থাকবেন। অনেকটা (যদি পরিমাপের মেশিন থাকতো তবে দেখতেন অন্তত ৮৫% ) একা হয়ে যাবার পর দেখবেন

(২১৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!