কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০৫+২০৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২০৫+২০৬

সে জন্য এরকম আলাদীনের দৈত্য টাইপের ম্যাজিক সর্বশক্তিমান দেখান না। আপনি সাহায্য চেয়ে পেলেননা মানে এটা নয় যে আল্লাহ নেই, তিনি আদি,অনন্ত,সর্বজ্ঞ, সকল স্থানে বিরাজমান। সমস্ত সৃষ্টি জগত কে তিনি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন বলেই আপনি আমি সব কিছু চাওয়া মাত্র পাইনা , তবে মহান স্রষ্ঠার রহমতের দৃষ্টি কার উপর পড়বে আর কে কি পাবেন সেটা একমাত্র আলিমুল গায়েব মহান আল্লাহ ভাল জানেন। বলা যায় ক্ষমতাতে আছে কিন্তু দেওয়ার নিয়মে নাই ।

৩) মহাবিশ্বের শেষ কোথায় বা মহাবিশ্ব আসলে কতটা বড় ? – প্রথমে বলতে হবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ ভাল জানেন , তিনি সর্বজ্ঞ। তবে কয়েক বছর আগে আল্লামা ইবনে কাসীর ও আল্লামা জালাল উদ্দিন সুয়ুতি রহঃ (১৪৪৫-১৫০৫ -মিশর) এর লেখা একটি বই যেটার বাংলা অনুবাদ জ্বিন ও ফেরেশতাদের বিষ্ময়কর ইতিহাস – মাওলানা আজিজুল হক আনসারী সম্পাদিত ” বই  এ পড়েছিলাম সাত আসমান সাত জমিন নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব জগত। এক জমিনে আছি আমরা ।বিজ্ঞানমতে সেই জমিনের বা মহাবিশ্বের শেষ মাথা আমরা এখনো আমরা খুজে পাইনি। এই বই মতে সাহাবী ও তাবেয়ীগনের মতে আরশ ও কুরসী দুটি আলাদা।ইবনে জারীরের তাফসির অনুযায়ী কুরসী হলো আরশের নিচে। সপ্ত আসমান ও পৃথিবী কুরসীর ভিতর অবস্থিত ।আর কুরসী আরশের সম্মুখে। ইবনে জারীর ও ইবনে আবু হাতিম যাহহাক সুত্রে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে সাত আসমান ও সাত জমিনকে যদি এক সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় তবে তা কুরসীর তুলনায় বিশাল মরু প্রান্তরের মধ্যে পড়ে যাওয়া হাতের আঙুলের আংটির সমমান। আবার আবুযর (রা.) থেকে বর্ণিত হুযুর (সাঃ) কে বলতে শুনেছি আরশের মধ্যে কুরসী ধু ধু প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত লোহার আংটির চাইতে বেশি কিছু নয়। আর সেই সাত আসমান সাত জমিনের এক জমিনে অবস্থিত এক জমিনের বেহিসাবী ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি গ্রহের ভিতর আমরা পৃথিবী নামক সামান্য এক গ্রহের বাসিন্দা মাত্র। আর এই ১ম জমিনের ই শেষ মাথা আমরা পাইনি। বর্তমান সময়ের রকেটের গতি দিয়ে কয়েক বিলিয়ন বছর চললেও আমাদের আসমানের শেষ সীমাতে পৌছা সম্ভব নয়।

(২০৫)

         মহানবী সাঃ এর মিরাজ এর একটি ঘটনাবলী সম্বন্ধে এক যায়গাতে বলা আছে ফেরেস্তারা এবং রুহ ঊর্ধালোকে এমন এক যায়গায় আল্লাহর দিকে আরোহন করে যেখানে একেকটি দিন পৃথিবীর ৫০ হাজার বছরের সমান। মিরাজ এর আলোকে সর্বশেষ সীমা সিদরাতুল মুন্তাহার কথা বলা হয়েছে সুরা নযম এ ।আর সাধারন ভাবে বলা হয়েছে বেহেস্ত বা দোজখের একেকটি দিন পৃথিবীর ১০০০ বছরের সমান। বিজ্ঞানের ভাষাতে মহাবিশ্বের বিশালতা তো পড়েছেন অনেক, ধর্মীয় ভাবে মহাবিশ্বের বিশালতার বর্ণনাটা ব্যতিক্রম ও বিষ্ময়কর মনে হলো বলে এই ব্যাখ্যাটা দিলাম, এতেই বোঝা যায় মহাবিশ্ব কত সুবিশাল। বিজ্ঞান ও মহাবিশ্বের বিশালতা সম্বন্ধে তাই ই বলে ।

০৪) বেহেস্তে থাকবে এমন সব নিয়ামত যা আমাদের চোখ কোনদিন দেখেনি, কান কোনদিন শোনেনি। আমরা হয়তো পুন্য কর্ম করছি একদিন আমরা মারা যাবো, তখন যাতে কর্মফল দিয়ে মহান আল্লাহতায়ালার একান্ত করুনাতে বেহেশতে যেতে পারি, সেখানে ইচ্ছা মত খাওয়া, যা চাওয়া হবে তাই পাওয়া এবং আছে হুর ।আবার বলা হয়েছে  বেহেস্তে থাকবে এমন সব নিয়ামত যা আমাদের চোখ কোনদিন দেখেনি, কান কোনদিন শোনেনি। সব কিছুর রহস্য জানেন মহান আল্লাহ তায়ালা আলিমুল গায়েব, কারো কাছে হয়তো পৃথিবীতে থাকা উপাদেয় পদের সকল খাদ্য মূল্যবান,  কারো কাছে নারীর সৌন্দর্য  মুল্যবান, কিন্তু আল্লাহ বেহেস্তে  এমন কিছু সৃষ্টি করে রেখেছেন যে গুলো পাবার জন্য আপনার কাছে পার্থিব রমণীকুলের সৌন্দর্য,খাবার, টাকা, হীরা জহরত সব মিথ্যা হয়ে যাবে।সেরা আনন্দ, পানীয়, বা নর নারীর প্রেম হয়তো আপনি তখন চাইবেননা(আল্লাহতায়ালা সর্বজ্ঞ তিনিই ভালো জানেন, শুধুমাত্র আলোচনা উদাহরণের সুবিধার্থে), এমন অসংখ্য জিনিস হয়ত আপনি দেখবেন যেগুলো আপনি কোনদিন দেখা তো দূরে থাক ,শোনেনওনি, কল্পনাও করেননি। সে গুলো হয়তো পৃথিবীর এই সব পানীয়, নারী এবং গাড়ি বাড়ি থেকে আকর্ষণীয় কিছু দেখবেন, তখন আপনি পৃথিবীর সকল দামী জিনিস ফেলে বেহেসতী জিনিস বা নিয়ামত চাইবেন, পৃথিবীর মূল্যবান জিনিস হয়ে যাবে আপনার কাছে মূল্যহীন

(২০৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!