কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৯৯+২০০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৯৯+২০০

         বর্তমানে এখানে আছে ১০৬ কি.মি লম্বা ও ১৫ কি.মি চওড়া ডেডসি বা মৃত সাগর, ডেডসিতে অতি লবনাক্ততার ঘনত্বের কারণে কোন কিছু ডোবেনা, কোন জীবিত প্রানী ও নেই এর পানিতে, এটাও সিমালঙ্ঘঙ্কারীদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন ) দ্বারকা ছিল (বর্তমান ভারতের উত্তর পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের সমুদ্রে অবস্থিত ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন ছিলো, ২০০০ সালে অনুসন্ধানী এক অভিযানে সমুদ্রের আনুমানিক স্থানে পুরাতন কিছু স্থাপনার ধ্বংশাবশেষ পাওয়া যায়, বিজ্ঞানীদের পরীক্ষাতে স্থাপনাগুলো ৩৫০০ বছর আগের মনে হয়, শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যূর কিছুকাল পর প্রবল ভূমিকম্পে সমুদ্রগর্ভে ডুবে যায় এই নগরী ), অযোদ্ধার রাজা রাম ও ছিল এবং তারঁ সত্যযুগও ছিল,  কিন্তু বাবরি মসজিদের কাছে ছিল কিনা সেটা কে জানে, হয়তো উগ্র হিন্দুরা ভাল বলতে পারবে, মুসলিম হিন্দু ,খ্রিস্টান,বৌদ্ধ,ইহুদীদের নবী বা অবতারেরা সবাই একই বাণী দিয়েছেন জীবের সেবা ঈশ্বর সেবা ,সব মানুষ এক সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি, ‌ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষদের ভিন্ন স্থানে প্রেরনের কাছে তাদের অনুসারীরা ভিন্ন ধর্মের হয়ে গেছে, ‌ ইহুদীদের নবী মুসা আঃ,আর খ্রিস্টানের যীশু বা ঈশা আঃ কে কি আমরা নবী মনে করিনা মুসলমানেরা ? তাই আসুন সব ধর্ম কে শ্রদ্ধা করি ,ধর্ম বা মানুষকে ঘৃনা নয়, ঘৃনা করুন যিনি অপরাধ করেন তাকে, সব ধর্মের এক বানী মানুষের সেবা, যে গৌতম বুদ্ধ একটা পিপড়া মারতে পারতেন না তার অনুসারী বার্মিজ বৌদ্ধরা যদি ০১ লাখ রোহিঙ্গা মেরে ফেলে সে দোষ গৌতম বুদ্ধের নয়, দোষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও  পথভ্রষ্ট মানুষটির, কোন মুসলমান  বিনা অপরাধে মানুষ হত্যা , বিশৃঙ্খলা, সুদের কারবার, মানুষকে অযথা অত্যাচার, মজুতদারী,  অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অত্যাচার করলে সেটা নবী ও আল কোরআনের দোষ একেবারেই বলা যাবেনা। পৃথিবীর মানুষের যত ইতিহাস, জনশ্রুতি, কিংবদন্তী,  লিখিত ইতিহাস বা সভ্য মানুষের ইতিহাস টা এই বিগত ০৬ হাজার বছর ।আমরা আজ পর্য্যন্ত সৃষ্টি নিয়ে যত তত্ব দিয়েছি বা পরিক্ষীত ও প্রমাণিত তত্ব বলছি সেটা একেবারে মিথ্যাও হতে পারে । যত কিছু হতে পারে সেটা ০৫ লাখ বিশ্বকোষ এ লিখে ও শেষ করা যাবেনা।

(১৯৯)

         একটা জিনিস অবশ্যই মেনে নিতে হবে এই সৃষ্টির জন্য স্রষ্ঠা কে মানব হিসাবের সময়ের প্রচুর সময় নিতে হয়েছে আর একেকটা সৃষ্টি একেকটা মহাবিজ্ঞানের একেকটা প্যাকেজ ।আচ্ছা আমরা এই যে এত বিখ্যাত হচ্ছি যাতে মারা যাবার পরেও আমাদের কে পৃথিবীর ভবিষ্যত মানুষেরা হাজার বছর ধরে মনে রাখে। এর জন্য আমরা কবি সাহিত্যিক, দেশপ্রেমিক, নেতা, গায়ক-গায়িকা ,নায়ক-নায়িকা, খেলোয়াড়,দার্শনিক,বিজ্ঞানী কত কিছু হতে চাচ্ছি। একটা জিনিস ভেবেছেন যদিও ভাবাটা অনর্থক, বা ফালতু বলবেন বটে, সৌরজগতে হাজার কোটি গ্রহ নক্ষত্র আছে। সেই হাজার কোটির ভিতর পৃথিবী একটি গ্রহ মাত্র। এখানে গড়ে উঠেছে মানবজাতি নামক এক অতি বুদ্ধিমান প্রানীর এক সভ্যতা। কোন কারনে হোক এই মানবজাতি বা পৃথিবী যদি পুরোপুরি ধংশ হয়ে যায় তবে মহাকাল কি আমাদের সক্রেটিস, প্লেটো,  উত্তম,  সুচিত্রা, শাহরুখ খান, আইনস্টাইন , মেসি , নেইমার এর কোন চিহ্ন রখবে। পৃথিবীর মানবজাতির এত বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস একেবারেই ডিলিট হয়ে যাবে। আর আপনি লক্ষ করুন মানবজাতির প্রাচীন যত সভ্যতার উল্লেখ আমরা পাই সেগুলো তো যখন উন্নতির চরম শিখরে উঠেছে তখন ধংশ হয়ে গেছে। তাহলে আমরাও কি ধংশের দারপ্রান্তে। পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ, বিভিন্ন দেশে জাতিগত নিধন, গনহত্যা, গাজওয়াতুল হিন্দ, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা, বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধি ও এন্টার্কটিকার বরফগলা , ভুমিকম্পের সম্ভাবনা এ সব কিছুই কি এসবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একবার এভাবে ধবংশ হলে মহাকাল পরবর্তী সৃষ্টির কাছে আমাদের কে বিস্মৃত করে রাখবে।পরবর্তী সৃষ্টি বলতে ধরুন মানবজাতির আগে থাকতে পারে এমন কোন সৃষ্টি যারা  ধবংশ হবার পর আমরা সৃষ্টি হয়েছি ,যাদের কথা আমরা জানিনা। ধর্মগ্রন্থ মতে শোনা যায় মানব জাতি সৃষ্টির বহু পুর্বে জ্বীন জাতির সৃষ্টি। তাহলে জ্বীন জাতি যদি মানব জাতির থেকে ৩০ হাজার বছর আগেও তৈরি হয় আর তারা মানুষের মত জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করে তাহলে তাদের অবস্থানটা কি প্রযুক্তির পর্যায়ে একবার ভাবুন তো, আমাদের মানুষদের জিন প্রকৌশল ধরুন এখন এমন পর্যায়ে যে ইচ্ছা মত একজন মানুষ কে বলতে গেলে সুপার পাওয়ার দেওয়া সম্ভব।

(২০০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!