কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৮৩+১৮৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৮৩+১৮৪

এরকম এক কল্প বা দিনের সমন্বয়ে নিয়ে ১০০ বছর বেঁচে তিনি বিলীন হন যা পৃথিবীর হিসাবে ৩১১,৪,০০০,০০,০০,০০০(৩১লক্ষ১৪হাজার কোটি) বছরের সমান । এই হিসাবে ব্রহ্মা বা স্রষ্ঠার আয়ু সীমাহীন এবং কল্পনাপ্রসুত ও অক্ষয়  মনে হলেও তার  নিশ্চয়তার বা নিত্যতার ভিত্তিতে এটা সৃষ্টির সীমাহীন কালের কাছে  বিদ্যুৎ চমকের মত ক্ষণস্থায়ী ।এটা হলো হিন্দু ধর্ম মতে স্রষ্ঠার সৃষ্টিরহস্য সম্বন্ধে মতামত ।এই হিসাবটা নিশ্চিত বলা যাবেনা , বলা যেতে পারে সৃষ্টি জগতের সৃষ্টির শুরুর সময় ও স্রষ্ঠার  বিশালতা বোঝাতে প্রাচীন বৈদিক মুনি ঋষিদের মতে এই হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে , ভাবুন  এর মাঝে  মহাজগত , সৃষ্টিজগৎ , ধর্ম কতবার পরিবর্তন হবে তারকি  কোন ঠিক  আছে ? সময়ের এই অসীম বিশালতা  এবং  বিপুলতার কারণে স্রষ্ঠা রহস্যময় , এবং আদি ও অনন্ত , আর সময় বলে কি কিছু আছে প্রকৃত অর্থে ?  , সময়  তো সূর্য্য আর ঘড়ির মাপে বেধে মানব গড়া একটা মাপ বানিয়েছি মাত্র ,  কিছু গ্রহে বা নক্ষত্রে বা ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরে  এমন পাওয়া যেতে পারে যে সেখানে দিন বা রাতের কোন ব্যাপার নেই ।মানবকে বা প্রাণীকে বার্ধ্যককে ঠেলে ফেলার নিয়ামক নেই সেখানে , তাহলে সময়ের কি দাম থাকলো সেখানে ।  সবকিছু মিলিয়ে দেখলে মনে হয় ব্যাপারটা এমন যে পৃথিবী এবং মহাবিশ্ব সকল ক্ষমতাশালী বস্তুতে পরিপুর্ণ , আবিষ্কার অভাবে সবকিছু আমাদের অজানা থেকেই যায় , পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সবকিছু নিয়ে যেমন নাড়াচাড়া করলে কিছু না কিছু আবিষ্কার হয় ঠিক তেমন , এই মহাশূণ্য বা একেবারে শূন্য থাকে যখন , যখন কোন কিছুর সৃষ্টি হয়না , মহাশূণ্য গ্রহ , নক্ষত্র বিহীন শূন্য থাকে তখন সেখান থেকে মানে পরম শূন্য থেকে (পরম শূন্য মানে যেখানে বা যখন মাধ্যাকর্ষণ , গ্রহনক্ষত্র , কিছু না  থাকে , সমস্ত শক্তি বিহীন বস্তু বিহীন শুধু শূন্যতা –যেমনটা বলা হয় আমাদের পাক কোরানে যে সবকিছু গুটিয়ে নেওয়া হবে )কোন কিছু সৃষ্টি হতে গেলে একজন সৃষ্টিকর্তার উদয় হতে হবে এবং মেনে নিতেই হবে , যিনি আপনা থেকে সৃষ্ট ,তাকে কেউ সৃষ্টি করেননি , তিনি তার নিয়মমত , ইচ্ছামত একটি মহাজগতের সৃষ্টি করবেন , নির্দিষ্ট নিয়মে চলবে , আবার যদি কখনো ধংশ হয়ে আবার সৃষ্টি হয় তবে পরম শূন্যতা আবার থাকবে ,

(১৮৩)

         সেখানে না থাকবে সময় , না থাকবে  দিন রাত , শুধু থাকবে শূণ্যতা , সেখানে সর্বপ্রথম একজন ঈশ্বরের উদয় হতে হবে , কারন এই যে মহাবিশ্বের বালুকনা থেকে গালাক্সি পর্যন্ত সবকিছু একটা নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন সেই নিয়ম অনুযায়ী মহাবিশ্ব পরিচালিত হওয়ার জন্য অবশ্যই একজন ঈশ্বর থাকতে হবে ।নিয়ম ছাড়া কখনোই সৃষ্টি জগত থাকবেনা । নিয়ম এবং স্রস্ঠার উপস্থিতি আবশ্যিক , আর কেউ কেউ বলছেন স্রষ্ঠার কি ধবংশ বা শেষ নেই , এটা অবান্তর ও অযৌক্তিক প্রশ্ন , স্রষ্ঠার শুরু শেষ বা ধবংশ সম্বন্ধে কৌতুহল  অবান্তর বলছি তার পিছনে কয়েকটি কারন আছে বলে মনে করা হয় –

১)প্রথমেই আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) এর মতবাদটি সম্বন্ধে জেনে নিই আসুন – ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) এর মতে আত্বা ও সৃষ্টির রহস্য এবং আল্লাহর অস্তিত্ব বৈজ্ঞানিক যুক্তি তর্কে মীমাংসা করার বিষয় নয় ।এটা হলো অনুভূতির বিষয় ।পরম সত্য ও অনন্তকে যুক্তি দিয়ে বোঝার কোন অবকাশ নেই ।তার মতে যুক্তি দিয়ে আপেক্ষিকতা বোঝা যায় মাত্র ।এই জ্ঞান সাধকের মতে আত্বা কখনো ধ্বংশ হয়না , কিন্তু দেহ ধ্বংশ হয় ।আত্বা মৃত্যূর পরেও জীবিত থাকে ।হৃৎপিন্ডের সাথে আত্বার কোন সম্পর্ক নেই , হৃৎপিন্ড মৃত্যূর পর দেহে অবশিষ্ট থাকে , কিন্তু মৃত্যূর পর আত্বার পরিপূর্ণ উৎকর্ষ ও মুক্তি সম্ভবপর হয়ে থাকে ।-(মাইকেল এইচ হার্টের দি হানড্রেড এর প্রচলিত বঙ্গানুবাদ থেকে ) ।

তো আমাদের আলোচনাতে আসি , সৃষ্টি হতে গেলেই স্রষ্ঠা থাকতে হবে ।স্রষ্ঠা ছাড়া ভয়াবহ এই বিজ্ঞানময় সৃষ্টি সম্ভব নয় ।স্রষ্ঠা ছাড়া  সৃষ্টি সম্ভব নয় এই কারনে বলছি যে সৃষ্টি হবার আগে অবশ্যই স্রষ্ঠার উপস্থিতি কাম্য , এবং কে কাকে সৃষ্টি করেছে এই খুজতে খুজতে আপনাকে একসময় মহাশূণ্যতা এবং আপনা থেকে একজন ঈশ্বরের আদিতে থাকা মেনে নিতে হবে । এ হিসেবে এক ঈশ্বর তিনি ছিলেন , আছেন , থাকবেন , তিনি আদি ও অনন্ত এবং চির বিরাজমান হিসেবে থাকবেন ।এ হিসাবে হলেও ঈশ্বরকে কে আদি অনন্ত চির বিরাজমান বলা যায়

(১৮৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!