কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭১+১৭২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৭১+১৭২

কিভাবে বাসা বাধে , ডাকের ভিতর সুরের ভিন্নতা আছে কিনা , কিভাবে বাচ্চা উৎপাদন করে ইত্যাদি ইত্যাদি । একটা জিনিস খেয়াল করুন ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের যন্ন একটা মুরগী বা কবুতর কতদিন ডিমে তা দেয় , তা দেবার সময়ে দিনে কবার ডিম রেখে কতক্ষনের জন্য ওঠে , বাচ্চাদের কি কি খেতে দেয় এসব পর্যবেক্ষণ করলেই আপনার কাছে অনেক কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে ।তো এরা যদি শুধু কীটপতঙ্গই হয় তবে , এদের জীবনাচরণের ভিতর এত বিজ্ঞান আসে কোথা থেকে ?  কথা হলো কবুতর এর কাজ কি খাওয়া  আর ওড়া ? তাকে সৃষ্টির কি আর কোন উদ্দেশ্য নেই , শুধু মাত্র খাওয়া আর ওড়ার জন্যই কি স্রষ্ঠা তাদের সৃষ্টি করেছেন ? ছাগল শুধু খায় আর জবাই হয়ে মানুষের পেটে যাবার জন্য কি ওর সৃষ্টি , ঘোড়া কি শুধু দৌড়ানোর জন্য জন্ম গ্রহন করেছে , এই প্রানী গুলো সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি শুধু এই ঠুনকো কাজ গুলো , নাকি আমরা শুধু এই সব প্রানীগুলো বা গাছ গুলো আমাদের যে যে কাজে লাগে শুধু সেই কাজ গুলোতে এদের শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যবহার করে যাচ্ছি বলে এদের ক্ষমতা আমরা শুধু এই দুই একটা কাজে আবদ্ধ করে রেখেছি , সাথে সীমাবদ্ধ করে রেখেছি আমাদের জ্ঞানের জগতকে ও।ধরুন আপনি সুন্দরবনে বেড়াতে গেলেন , সেখানে একটা বাঘ আপনাকে আক্রমন করলো , আপনি মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব–এই কথাটাও কিন্তু আপেক্ষিক ভাবে ব্যাখ্যা করে বিতর্কিত করে দেওয়া যায় , কারণ বাঘ সিংহ দের কি মানুষের থেকেও বেশি হিংস্র মনে হয় ? বনের পশু কি মানুষের মত বিকৃত যৌনকামী ? । আপনার অনেক জ্ঞান গরিমা আছে , কিন্তু বাঘের কাছে আপনি খাদ্য মাত্র , আপনার জ্ঞান – বিদ্যা সবই বাঘের দৃষ্টিতে অজানা অর্থহীন এবং একই সাথে তা মূল্যহীন ও বটে । বাঘের কাছে আপনি এই সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ শুধু মাত্র সুস্বাদু মাংশপিন্ড  মাত্র । অন্যদিকে  কথিত আছে হযরত সুলাইমান আঃ সকল জীবজন্তুর ভাষা বুঝতেন । আর বর্তমানে কিছু বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পশুপাখির ডাকের ভিতর ভেরিয়েশন খোজবার জোরদার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।যাতে করে পশু পাখির  ডাকের অর্থ খুজে বের করা যায় ।পশুপাখির ডাক ও আমরা শুধু একটা ধ্বনি তে শুনি মাত্র , ধরুন গরু ডাকলে আমরা শুনি হাম্বা , কিন্তু একেক সময় এই হাম্বা একেক রকম অর্থ বহন করে । মানুষের ভাষাও এই অনর্থক এক ধ্বনির কিচিরমিচির

(১৭১)

ছাড়া আর কিছু নয়  আমি এই বইএর শুরুর দিকের ভাষা অধ্যায়ে একবার এ বিষয়ে বলেছি ,‌ আবার ও বলছি|

আপনি আমি বাংলা ভাষা ভাষীরা চাইনিজ বা তামিল দের ভাষা মোটেই বুঝবোনা , এদের কথাবার্তার সময় যদি আমরা পাশে থাকি তাহলে আমরা শুনবো কি  অনর্থক একরকম শব্দে কিচিরমিচির এরা করে যাচ্ছে । কিন্তু যদি ওই ভাষা দুটো বুঝি তাহলে ওই কিচিরমিচির তখন বিরাট জ্ঞান বা গল্পের ভাণ্ডার হয়ে যাবে ।  বিজ্ঞানীরাও চেষ্টা করছেন এই শুধুমাত্র এই হাম্বা ডাক ‌ বা কুকুরের ঘেউ ঘেউ থেকে সময় ও পরিস্থিতি ভেদে অর্থের ভিন্নতা বের করে আনতে ।মানুষ আমরা শুধুমাত্র যেটুকু বুঝি শুধু সেটুকু নিয়ে আমরা মাতামাতি করি , মনে করি শুধু আমাদের এই জানাটাই  সবকিছু জেনে ফেলা, এই জ্ঞান এর বাইরে আর কিছু নেই ।   আমাদের এই ধারনাটাই বড় ভুল , অসীম মহাবিশ্ব এর অসীম শক্তি ভাণ্ডার আর জ্ঞান ভাণ্ডার এর সন্ধান লাভ এর ক্ষেত্রে এটাই আমাদের সংকীর্ণতা । আমাদের ইসলাম ধর্মমতে স্রষ্ঠা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন ০৭ দিনে । হিন্দুদের ধর্মমতে ব্রহ্মা সবকিছু সৃষ্টি করেছেন । আমরা ঠিক মত মানব জীবন এবং পৃথিবী সম্বন্ধে ধারনা রাখিনা , আর পৃথিবী এবং তার বাইরের জগত তথা সুবিশাল মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর বাইরের জগতের এবং পৃথিবীর ভিতরের সমস্ত মাখলুকাত বা সৃষ্টির প্রত্যেকটি সৃষ্ট জীবের জীবনযাত্রা একেকটা অজানা মহাজ্ঞান এর ভাণ্ডার । এই জ্ঞান ভাণ্ডার কি কখনো আমাদের জন্য উন্মোচিত হবে ? হবেনা বোধহয়ই কখনো ।  কারন ব্যাপারতা এত সহজ নয় । যদি আমরা বা আমাদের সভ্যতা প্রাণীর ভাষা বোঝবার মত উন্নত হবার আগে আমরা ধবংশ হয়ে যাই ।যদি কিছু মানুষ বেঁচেও থাকি তবে আবার এরকম উন্নত হতে দু হাজার বছর লাগবে ।যত উন্নতই হোন কতদুর মানবজাতি যাবে , কতদূর বিজ্ঞানের উন্নতি করবে তার সিদ্ধান্ত বা নিশ্চয়তা মানুষের হাতে নেই । এটা অদৃষ্টের লিখন বা স্রষ্ঠার লেখা নিয়তি এটা মানতেই হবে । বিশ্বাস হবেনা আপনাদের , তাই স্বল্প জ্ঞানে কিছু উদাহরন দিই । আপনি বা আমি এই যে মৌমাছি দেখি এগুলোর মধু আহরন থেকে শুরু করে মৌচাক বানানো , এদের একেকটা চাক এ পরিচালনাকারী মাছি পর্যন্ত কত বিজ্ঞান মেনে চলে একবার ভেবে দেখেছেন ? মৌমাছির চাক কেন ষড়ভুজ জানেন , চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে মিল রেখে এবং অজানা

(১৭২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!