কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৬১+১৬২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৬১+১৬২

এটা বুঝতে হবে যুদ্ধের সময় বা সম্পূর্ণ নতুন ধর্মমত প্রচারের সময় এর সিচুয়েশন আর আমাদের যুদ্ধবিহীন শান্তিময় সমাজ জীবনের সামাজিকতা ও সিদ্ধান্ত , প্রেক্ষাপট এক রকম হবেনা ।আপনি নিজেকে তাদের যায়গায় , তাদের পরিবেশ এর প্রেক্ষাপটে কল্পনা করলেও অনেক উত্তর পেয়ে যাবেন । আবার ধরুন পরিস্থিতিতে পড়ে মানুষ অনেক কিছু করে বা করতে পারে যেটা স্বাভাবিক সময়ে সম্ভব নয় । আপনি নদীর পানি ভয় পান , দেখা গেলো লঞ্চ ডুবি হলে আপনি প্রান বাঁচাতে প্রমত্তা নদী পার হয়ে যেতে পারবেন , খাদ্যের অভাবে কখন বা কেন একটা ছিন্নমুল শিশু বা মানুষ ডাস্টবিনের খাবার খায় সেটা যদি আপনি আমি না বুঝি বা বোঝবার জ্ঞান না থাকে তাহলে মনে করবো বা বলবো ওই ছেলেটি বা লোকটি বিকৃত রুচির ,  কুকুরের মত  উচ্ছিষ্ট খায় , কোন ঘৃনা বা পিত্ত নেই ওর , আপনার শরীর খুব মোটা ঠিক মত নড়তে চড়তে পারেননা , একটুতেই হাপিয়ে ওঠেন , শামুক বা কচ্ছপের মত আপনার চলার গতি , এমন একটা মানুষকে ধরুন যদি বিশাল একটা ছোরা হাতে কেউ খুন করবার উদ্দেশ্যে তাড়া করে তখন সে প্রান বাঁচাতে ১০০ কি.মি প্রতিঘন্টা গতিতে দৌড় লাগাবে । তখন তার প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর গল্প বোঝবার মত এলেম যাদের মাথাতে নেই তাদের কাছে অবিশ্বাস্য লাগারই কথা । আবার ধরুন আমাদের দেশে বা আমাদের যুগে বহুবিবাহ এবং বহু সন্তান , যৌথ পরিবার প্রথা পুরোপুরি বন্ধ বা বর্জনীয় হয়ে গেছে বলা চলে । কিন্তু ধরুন এই এখনকার এক বিবাহ , এক সন্তান , অণু পরিবার এগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও যুগ যুগ ধরে যুদ্ধ চলছে এমন দেশে মেইনটেইন অসম্ভবই বলা চলে । যে দেশে যুদ্ধের কারণে পুরুষের সংখ্যা নারীর থেকে কমে যাবে সে দেশে স্বাভবিক ভাবে একজন পুরুষের কয়েকজন স্ত্রী থাকতে পারে , আবার যে সব দেশে ব্রোথেল নেই বা নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশার সুযোগ নেই সেখানে বহুবিবাহের হারটাও বেশি ।  আবার ধরুন যে দেশে ঘন ঘন যুদ্ধ হয় এমন দেশগুলোতে শিশু জন্ম এবং মৃত্যূর হার বেশি । কারণ একটা সন্তান যদি কারো থাকে আর যদি সে কখনো মারা যায় তাহলে যাতে সমস্যা না হয় সে জন্য যুদ্ধবিদ্ধস্ত জনগোষ্ঠী অধিক সন্তান নিতে পারে , রোহিঙ্গা দের ভিতর লক্ষ্য করলেই ব্যাপারটা আপনার কাছে পরিষ্কার হবে ।

(১৬১)

         আগের যুগে আমাদের দেশেও সন্তান বেশি ছিলো  কয়েকটি কারণে , জন্ম নিয়ন্ত্রন সামগ্রীর প্রচলন একেবারে না থাকা ,  নারী শিক্ষা ও ঘরের বাইরে কর্মজীবি নারীর অভাব , গোষ্ঠীর জনবল বাড়ানো , পুত্র সন্তানের প্রত্যাশা ও এখনকার যুগের মামুলি রোগগুলির ওষুধ না থাকাতে সন্তানের মৃত্যু ।ইতিহাসের অধিকাংশ মহামানবদের আমরা বিতর্কিত করি তাদের জীবনের অনেক ঘটনা নিয়ে ।কিন্তু সেগুলোর পিছনের কারণ বা সময়ের প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখিনা । মহামানবেরা কিন্তু যেটা করেছেন , সেটা হয়তো আমাদের বর্তমান যুগের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার কাছে সঠিক বা উত্তম না হতে পারে । কিন্তু অবশ্যই তারা তাদের সময়ের বিচারে সর্বোত্তম ইনসাফটি করেছিলেন , মোটেই নিকৃষ্ট কিছু করেননি । যেমন ধরুন মানবজাতির আদিপিতা হযরত আদম আঃ সময় তার দুই পুত্র হাবিল কাবিল এর কাবিল  যে কারণে হাবিলকে হত্যা করেছিল সেটা মুসলিম বলতেই জানি । কিন্তু তৎকালীন সময়ের ঐশ্বরিক বিধান ,  ভাই বোনে বিবাহ  কিন্তু এখন যুগে অবাস্তব , চোখ কপালে ওঠানো আর সামাজিক ও বিশ্বজনীন ভাবে একই সঙ্গে প্রচন্ড ঘৃণিত ও নিন্দিত কাজ বা অজাচার  । সুতরাং ,  যে কোন একজন মহামানবকে নিয়ে কটুক্তির আগে এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় ভেদাভেদ উস্কে দেবার আগে আমাদের এগুলো ভাবা উচিত ।আর আগের যুগ কে ব্যাঙ্গ না করা ভালো । কারন যার যুগে সে উন্নত । যুগের পরিবর্তনে আগের যুগের উন্নত জিনিস বর্তমানে এসে সেকেলে , বাতিল বা বা ব্যাকডেটেড হয়ে যায় ।  একজন মানুষের মতামত বা মতবাদ সবার স্বার্থে বা সবার পক্ষে বা সর্ব যুগোপযোগী  থাকেনা বা নাও থাকতে পারে এটাই স্বাভাবিক ।বৌদ্ধ ধর্মে যেখানে মূলনীতিই  জীবহত্যা মহাপাপ সেখানে বৌদ্ধ অধ্যুষিত মায়ানমার , চীন , ভিয়েতনাম এ জাতিগত কারনে কত লক্ষ মানুষ হত্যা হল , আর মাংশের জন্য কুকুর , বিড়াল , গরু ছাগল হত্যার পরিসংখ্যান তো দিলামই না ।  মানুষের মুখে মুখে , যুগ থেকে যুগান্তরে ঘটনা রঙ চড়িয়ে বা রঙ বদলিয়ে আস্তে আস্তে মুল কাহিনী থেকে অনেক দূরে সরে যায় মুল ঘটনা ।আর মানব জাতির আদি পিতার ইতিহাস তো সুদুর থেকে সুদুর অতীতের কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এক মহাসত্য , দিন যত যায় ইতিহাস হারাতে থাকে তার রঙ এবং গুরুত্ব ।

(১৬২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!