কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৫৫+১৫৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৫৫+১৫৬

         আসল সত্যটা জানেন যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন ।হয়তো আমাদের গবেষণা লব্ধ ফলাফল বা বোকামি অনুযায়ী পৃথিবীর বয়স ৫০০ কোটি বছর শুনে স্রষ্ঠা শুধু মানুষের জ্ঞানস্বল্পতার নজির দেখছেন বা মানব সৃষ্টি হয়েছে দশলাখ বছর ধরে বিবর্তন হয়ে শুনে ও মানুষের জ্ঞান স্বল্পতার আস্ফালনের বেশি আর কিছু ভাবছেনইনা, কারণ যে উদ্দেশ্যে মানবের সৃষ্টি সে উদ্দ্যেশ্যে মানবের সৃষ্টি সেটা শুধু তিনিই জানেন, মানব সৃষ্টি ও স্রষ্ঠা নিয়ে ভুল বা সঠিক যে তত্বই দিকনা কেন তার বিন্দুমাত্র মূল্য স্রষ্ঠার কাছে নেই । আমাদের দেওয়া বিবর্তন বা বিগব্যাং তত্ত সবই আমাদের মানব জ্ঞানে পরিক্ষালব্ধ, আর এই ফলাফল সঠিক না ভুল তাতেও স্রষ্ঠার কিছু যায় আসেনা , কারন তিনি জগত ও তাঁর সমস্ত সৃষ্টি যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের তত্ত্বগুলো যুক্তি, পরীক্ষা এবং অনুমান নির্ভর মাত্র, সঠিকটা একমাত্র আল্লাহই জানেন ।আদম ও হাওয়া থেকে মানবজাতির সৃষ্টি সম্পর্কিত ধর্মীয় তত্ব যদি বিজ্ঞানীদের কাছে মিথ্যা হয় , তবে বিবর্তন ও বিগব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণ তত্বও মিথ্যা বলা যায়, কারণ এগুলোর কোনটাই আপনার বা আমার চোখের সামনে ঘটেনি বা এগুলোর কোন ভিডিও চিত্র ও নেই ।আর মানুষের পরীক্ষা বা যুক্তির কথা যদি বিবর্তন, বিগব্যাং বা মহাবিষ্ফোরণের  কথা সত্য প্রমাণ করতে বলেন তবে বলতে হয় মানুষের যুক্তি দিয়ে দিয়ে  সিগারেট , মদ্ , মাদকের , নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার উপকারিতা ও পক্ষে হাজারটা যুক্তি দাড় করানো যাবে । তাই সৃষ্টি ও স্রষ্ঠা সম্বন্ধে আমরা মানুষেরা  যে যত বিশ্বাসযোগ্য তত্ব দিইনা কেন সত্য একমাত্র স্রষ্ঠাই জানেন এটা নিশ্চিত । আমাদের সকল সৃষ্টি ও স্রষ্ঠাতত্ব ধারণা ও সময়ের অপচয় মাত্র । আসুন উদাহরণ দিয়ে বিবর্তন তত্ব মিথ্যা জেনেও সত্য করি, ওই যে একটু আগে বললাম মানুষের একদল সিগারেট ক্ষতিকর বললেও আরেকদল  সিগারেটের গুণাবলী বা ভালোদিক বের করতে পারবে । সুতরাং এবার আমরা বিবর্তন সত্য প্রমাণ করবো – বিবর্তন টা একেবারে ফেলে দেবার মত ও নয়, ধরুন আমাদের সামনেই কিন্তু সংকরায়ন এর প্রচুর  উদাহরণ আছে ।ধরুন আগে ছাগল গরু সহ বিভিন্ন পশুপাখি সামান্য পরিমাণে দুধ ও মাংস উৎপাদনক্ষম ছিলো ।

(১৫৫)

         কিন্তু বিজ্ঞানের লাগাতার গবেষণাতে, লাগাতার উচ্চ ফলনশীল উৎপাদক জাত গুলো খোজা এবং সংকরায়নের পর সংকরায়নের বা যাকে ক্রস ব্রিড বলি এর ফলে ফ্রিজিয়ান, জার্সি, লিমুউজিন, ব্রাহমা এর মত উন্নত দুধ ও মাংশ উৎপাদনকারী জাতের উচ্চ ফলনশীল জাত পেয়েছি , বছরে ৫০ টা ডিম দেওয়া মুরগীর থেকে আমরা ৩০০ টি ডিম দেওয়া মুরগী পেয়েছি , ফল-ফসল-ফুল এর ব্যাপারটাতো দেখতেই পাচ্ছি ।আর মানুষের ক্ষেত্রে দেখুন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিশ্রনে মানুষের চেহারা , বুদ্ধিমত্তা ও স্বতন্ত্র জাতিস্বত্তার উদ্ভব ঘটেছে । চাইনিজরা নৃত্বাত্তিক ভাবে বেশি অন্য জাতির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়নি সেজন্য তারা একরকমই থেকে গেছে বলে ধারনা করা হয় , সংকরায়ন সবথেকে বেশি বাঙ্গালীর ভিতর বোধ হয় , এত বেশি সংকরায়ন পার্সেন্টেজ কোন জাতিতে নই , ধারনা করা হয় বাঙালি জাতি মোট ২১টি জাতির রক্ত মিশ্রন বা জেনেটিক্স বহন করছে , এর মধ্যে আদি অস্ট্রেলীয় ডেড্ডিড , মঙ্গোলীয় বা মেলানাইড , মিশরীয় , গ্রীক , আফ্রিকান বা হাবশী , পর্তুগীজ , সাদা ব্রিটিশ চামড়া , আদি দ্রাবিড় , সাওতাল বিভিন্ন রক্ত আছে বলেই আমাদের চেহারা , উচ্চতা , চামড়া ও মতপার্থক্যে অমিল এত বেশি । এটাও কিন্তু এক কায়দার বিবর্তন , তবে এটাকে বলে সংকরায়ন , সংকরায়ন আর বিবর্তন এক নয় । এটা কিন্তু আংশিক বিবর্তন , সম্পূর্ণ বিবর্তন হয়ে গরু থেকে বা বানর থেকে সম্পূর্ণ  আলাদা দেখতে কোন প্রাণী সৃষ্টি কি সম্ভব ? যেমন বাঘ ও সিংহের মিলনে লাইগার , ঘোড়া ও গাধার মিলনে খচ্চর , ১৯১০ সালে ভারতের কলাহপুর চিড়িয়াখানাতে জন্ম নেওয়া লিউপন যেটা ছিল পুরুষ চিতা আর স্ত্রী সিংহীর জন্ম , দেখতে মাথাটা সিংহের কিন্তু দেহ চিতাবাঘের ,গরু ও মহিষের মিলনে বিফালু , ১৯৯৮ এ দুবাইতে উট ও লামার মিলনে কামা যেটা দেখতে উটের মত তবে উটের মত কুজ হয়না ,  প্রাচীন গ্রীক মিথোলজিতে উল্লেখিত সেন্টর যেটার বুক পর্যন্ত মানুষ আর পেট থেকে পা পর্যন্ত ঘোড়ার , আর মিশরীয় মিথোলজিতে আনুবিস এর মত শেয়াল মাথা দেবতার ছবিসহ অদ্ভুত দর্শন প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায় । এ রকম ভাবে বিবর্তনের পক্ষে যেমন বলা যায় আবার নাকচ ও করে দেওয়া যায় । তাই আমাদের স্বল্পজ্ঞানে সৃষ্টি ও স্রষ্ঠাতত্ব ১০০% সঠিক বলে দাবি করা বোকামী ।

(১৫৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!