কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪৫+১৪৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪৫+১৪৬

তো এই উচ্চ ফলনশীল বীজ এর কথা বলছিলাম, সেটা কিভাবে উদ্ভাবিত হলো সেই ব্যাপারে একটু বলি ।মানুষের ইতিহাস পাওয়া যায় এক সময় মানুষ খাদ্যের জন্য বনেবাদাড়ে ঘুরতো, তখন তারা একসময় স্থায়ী বাসস্থানের প্রয়োজনীয়তা অনুভবের পর থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য শষ্য বীজ ও পশু গুলো সংগ্রহ করে নিয়ে এসে বাড়িতেই পরিচর্যা ও পালন শুরু করলো । মানুষ স্বভাবতই বেশি পেতে চায় যে কোন কিছু ।সেটা অল্প খাটুনিতে বেশি ফসল ঘরে তোলবার আশায়ই হোক বা জনসংখ্যা বৃদ্ধির চিন্তায়ই হোক ।যখন দেখলো তার বাড়িতে লাগানো কলা গাছের থেকে আরেকটা কলা গাছের কাদিটা বড় ও খেতে সুস্বাদু হয় তখন সে তার বাসার স্বল্প ফলনশীল ও পানশে জাত বাদ দিয়ে ওই গাছটা নিয়ে এসেছে। ধান নিজের জমিতে বিঘাপ্রতি ০৫ মন হলে যদি আরেক এলাকায় তার আত্বীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে দেখলো সেখানে ধান হচ্ছে বিঘাপ্রতি ১৫ মণ । তখন সে ওই ১৫ মণ বিঘাপ্রতি ফলনের ধানই চাষ করবে । আবার দেখা গেলো দুই রকম জাতের বীজ এর বপন একই জমিতে চাষ করে সংকর একটা জাতের উদ্ভাবন হলো ।যেটা অস্ট্রিয়ার ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল তার গীর্জার বাগানে করে দেখান ।জীনগত বৈশিষ্ট ও জেনেটিক এর গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ আমরা সেখান থেকে পাই  । নানান জাতের মটরশুটি গাছ একস্থান এ চাষ করে ফলশ্রুতিতে মটরশুটির বিভিন্ন প্রকরন উদ্ভাবন করে তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন ।সাধারন মানুষের সেই পর্যবেক্ষন , মেন্ডেলের মত বিজ্ঞানীর পরীক্ষালব্দ্ধ ফলাফল সবই আজকের এই পৃথিবীর ফসল উন্নয়ন বা হাইব্রিড প্রজাতির উদ্ভাবন ।আজকের পৃথিবীর IRRI(International Rice Research Institute), BRRI (Bangladesh Rice Research Institute) এই সবই সেই সব ছোট ছোট পর্যবেক্ষণের ফসল। যার ফলে আমরা এখন প্রতি বছরই পূর্বের বছরের থেকে উন্নত ফসল, পশুপাখির চাষপদ্ধতি ও জাত পাচ্ছি ।ফলে কোন দেশে  জনসংখ্যা ০৫ কোটি থেকে ২০ কোটি হলেও খাদ্যভাব হচ্ছেনা ।আবার বিশ্বায়ন এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফল ফসল ১৫০০ শতাব্দীর দিক থেকে আমাদের দেশে এসে গেছে ।

(১৪৫)

         বাতাবি লেবু ইন্দোনেশিয়ার ফল, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার পূর্ব নাম বাটাভিয়া, শব্দটি বাটাভিয়ার লেবু থেকে বাটাভি লেবু থেকে বাতাবী লেবু হয়ে গেছে, পেপের উৎপত্তি মেক্সিকো ও দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে পর্তুগীজ নাবিকদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে । আজকের কাচা ঝাল ছাড়া বাঙালিরা যারা একটা দিনও তরকারি রান্না করতে পারিনা সেই কাচাঝাল কিন্তু আমাদের উপমহাদেশে ৫০০ বছর আগে ছিলোনা। ক্রিস্টোফার কলম্বাস সর্বপ্রথম এটি আবিষ্কার করেন আজকের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জ  যাকে বলে সেখানে।সেখান থেকে দিয়েগো আলভারেজ নামের এক নাবিক স্পেনে নিয়ে যান । যদিও দক্ষিন আমেরিকার ইকুয়েডরে ৭০০০ (সাত হাজার) বছর আগে থেকেই মরিচ ছিলো সে প্রমান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা ।তারপর এটা ভারতবর্ষে আসে পাঁচশো বছর আগে ।তার আগে মানে পাঁচশো বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা ঝালের অভাব গোলমরিচ দিয়ে পুরন করতো । আবার এখনকার যে শরবত এ ব্যবহারের লেবু মানে যেটা আমরা কাগুজী লেবু, এলাচী লেবু শরবতী লেবু বলে বুঝি সেটার বিভিন্ন জাত  কিন্তু ভারতের আসাম, উত্তর মায়ানমার ও চীন থেকে ২য় শতাব্দীতে দক্ষিন ইউরোপের ইটালীতে যায়, তারপর শতাব্দীক্রমে পারস্য, তারপর ৭ম শতাব্দীতে ইরাক ও মিশরে যায় ।তারপর আরব এর বাদশাদের বাগানে দশম শতাব্দীতে । ১৪০০ সালের দিকে যায় দক্ষিন আমেরিকার স্পেন এ সেখান থেকে ১৭০০ সালের পর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ।বিষ্ময়কর ইতিহাস তাইনা । কিন্তু এখনকার সময় হলে এতো সময় লাগতো না। কারন তখনকার দিনে মানুষের যাতায়াত ছিলো নিজ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ।এখন যেমন ড্রাগন ফল মধ্য আমেরিকার ফল হয়েও পৃথিবীর সবদেশে মেলে, ড্রাগন ফলের মধ্য আমেরিকান আঞ্চলিক নাম পিটাইয়া রোযা , আবার বাংলার পরিবেশে চাষ হওয়া শাকসবজি প্রবাসীরা সৌদি বা কুয়েতের ঊষর মরুভূমিতে চাষ করে উষর মরুভূমি সবুজ করে তুলছেন।আর বিশ্বায়নের আরো একটা উপকার মানুষের উদ্ভাবিত কোন টেকনোলজী এক দেশের নাগরিকের ভিতর আটকে থাকছেনা, সেটার সুফল সবদেশ পাচ্ছে ।

(১৪৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!