কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪৩+১৪৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪৩+১৪৪

         ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান এর একদল বিজ্ঞানীর গবেষণাতে দেখা যায় মানব মস্তিষ্ক মৃত্যুর পর ০৭ থেকে ১০ মিনিট পর সব কিছু টের পায় মানে সচল থাকে। দু দিন পর যদি আবিষ্কার করে ০৫ দিন মরার পর সচল থাকে তাহলে উপায় কি হবে ? মানব মস্তিষ্ক মৃত্যুর পর ০১ থেকে ০৫ মিনিট  আগের  সময় দেখতে পায় বিভিন্ন অলৌকিক দৃশ্য।বিটা, আলফা, থিটা ও ডেলটা এই চার প্রকার হল আমাদের মস্তিস্কের ধ্যান সাধনার চারটি স্তরের নাম।বিটা হল আমরা সাধারনত সচেতন বা জাগ্রত অবস্থাতে যা করি, মানে আমাদের জাগ্রত অবস্থাতে কাজকর্ম চলাফেরা সবই বিটা লেভেল এর কাজ আর ডেলটা হল ঘুম, মেডিটেশন, ধ্যান সাধনার সেই স্তর, যে স্তরে গিয়ে মানুষ অপার্থিব কোন কিছু উপলদ্ধি করতে পারে। এটা হল সাধনার সর্বোচ্চ স্তর। গভীর ঘুম, সপ্ন দেখা সবই এর উদাহরণ আর মানুষের মৃত্যুর পরের ২০ সেকেন্ড হল ডেলটা লেভেলের সর্বোচ্চ স্তর। এই স্তরে জীবিত অবস্থাতে মানুষ খুব কমই পৌছাতে পারে।কারন এই স্তরে পৌছাতে গেলেই মানুষ অবচেতন হয়ে ঘুমে তলিয়ে যায়। মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20-20000 hz , 20 hz এর নিচের শব্দ মানুষ শুনতে পায়না।সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে 13 hz এর শব্দ শুনতে পাবে ।কিন্তু মস্তিষ্ককে ধ্যানের মাধ্যমে ডেল্টা ওয়েভ এ নিতে পারলে 0.5 hz এর শব্দ ও শোনা সম্ভব !!!!কোন ভাবেই সে আর সচেতন থাকতে পারেনা ।নিজের ভিতরের নিজেকেই আমাদের দেখা হলনা, নিজের ভিতরের এক বিচিত্র জগতই আমরা দেখলাম না।আমাদের মস্তিস্কের এই ডেলটা ওয়েভ পর্যায়টাই বোধ হয় অদেখা জগতের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ।কারো যদি অদেখা জগত নিয়ে কৌতুহল থাকে তবে তাকে ডেলটা ওয়েভে পৌছাতে হবে যেটা দীর্ঘকালের কঠোর সাধনার ব্যাপার ।পূর্বেই একবার বলেছি যে আজ পর্যন্ত যত মুনি-ঋষি-সাধু-সন্ন্যাসী-বুজুর্গ এর জীবন কাহিনী শুনেছেন দেখবেন ওনারা ধ্যান এর সাধনা করতেন বা ধ্যানে জীবনের  কিছু না কিছু সময় অতিবাহিত করতেন ।          

         আমাদের সামনে আবার বলা হয় বিজ্ঞান প্রমাণ দিতে পারেনি বলে কি সেটা সত্য নয়, সেটা মিথ্যা হয়ে যাবে ? কারনটা হলো আমরা এখন বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চরম শিখরে বসবাস করলেও এই নিশ্চয়তা পৃথিবীর কোন বিজ্ঞানী দিতে পারবেনা যে বিজ্ঞান

(১৪৩)

         যেটা বলছে সেটাই শেষ কথা, কারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এই মহাবিশ্বের বিশালতার কাছে সবে শিশুমাত্র ।কারণ বিজ্ঞান যত দিন যাচ্ছে কল্পনার বাইরে নতুন  অনেক কিছু আমাদের সামনে নিয়ে আসছে ।বিজ্ঞানের সঙ্গা যুগে যুগে ভিন্ন হয়ে যায় ।আর বিজ্ঞান মানে এখনকার সুসজ্জিত ল্যাবরেটরী আর কোটি টাকা বেতন পাওয়া বিজ্ঞানীদের বোঝানো হয়। বিজ্ঞান হলো মানুষের জানার দুর্নিবার কৌতুহল আর পূর্ব প্রজন্মের রেখে যাওয়া একটা সিড়ির উপর আরেকটা সিড়ি যোগ করে মানবজাতির জীবনযাত্রাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া ।একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা বোধগম্য করে তোলা যাক। ধরুন একটা সময় আমাদের বিশ্বে ১৪০০ সালের দিকে লোক ছিল ৩৫ থেকে ৪০ কোটি, ১৭০০ সালে এসে দাড়ায় ৬০ থেকে ৬৮ কোটিতে,  ২০০০ সালে এসে সেটা ৬০০ কোটিতে ঠেকে। মাত্র ১৭ বছরে সেটা বেড়ে দাড়িয়েছে ৭০০ কোটিতে।জাতিসংঘের এক হিসাব মতে ১১০০ কোটি জনসংখ্যা হবে আগামী ২১০০ সালে।তো এক সময় তথা ১৭৭০ সালে পুরো ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ছিলো সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ কোটির মত। এখন যদি দেখা  হয় তবে পুরো ভারতবর্ষের জনসংখ্যা ২০০ কোটির মত।কিন্তু এখন এত জনসংখ্যাতেও দুর্ভিক্ষ হয়না।১৭৭০ সাল তথা বাংলা ১১৭৬ এর দূর্ভিক্ষে প্রাণ হারায় ০১ কোটির মত লোক ।যদিও এর পিছনে ব্রিটিশরা দায়ী ।তবে তার আগে পিছে অনেক দূর্ভিক্ষ হয়েছিল বা তখন দুর্ভিক্ষ হতো ।১৯৪৩ এ ভারতবর্ষে ও ১৯৭৪ এ বাংলাদেশ দূর্ভিক্ষের স্বীকার হয় । উভয় ক্ষেত্রেই বেসরকারী হিসাব মতে মিলিয়ন মানুষের মৃত্যূ হয় ।তো এত কম জনসংখ্যা ও তখনকার নির্মল বিষমুক্ত পরিবেশে খাদ্যভাব এ মরার কারণ কি।যেখানে শুধু ভারতের জনসংখ্যা ২০১৭ সালে ১৪০ কোটির কাছে। কারণ অনেকগুলো ।এক,-উন্নত উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাত না থাকা ও সেচ ব্যবস্থার জন্য প্রাকৃতিক জলাশয় নির্ভরশীলতা, দুই,- জাতিসংঘ ও বিশ্বায়ন না থাকা, তিন,- উন্নত ও সর্বক্ষেত্রে কার্যকর ভ্যাকসিন না থাকা ।কিন্তু এখন এগুলো হয়না কেন ? কারন হলো এখন আছে উন্নত ফলনশীল বীজ, বিশ্বায়ন তথা পুরো পৃথিবীর সকল দেশের সাথে কমবেশি সকল দেশের কানেক্টিভিটি ও কয়েকটা রোগ বাদে ছোট-বড় সকল রোগের ভ্যাকসিন ।

(১৪৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!