কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪১+১৪২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৪১+১৪২

         কারন ০৫ সেকেন্ড আপনি শোয়া, বসা বা দাড়ানো বা অফিস এ কর্মরত যে অবস্থাতে আছেন না কেন সেই অবস্থা থেকে টের পাওয়ার আগেই মারা পড়বেন। চাকরীর সুবাদে একবার আমাদের সরকারী আবাসনে পরিবার নিয়ে থাকা অবস্থাতে রাত সাড়ে চারটার দিকে ভূমিকম্প হয়েছিল, মাত্রা ছিল প্রায় চার এর কাছে , ঘূমন্ত অবস্থাতে টের পাচ্ছি আমার স্ত্রী আমাকে ডাকছে, আশেপাশের ফ্লাট গূলো থেকে লোকজনের চিৎকার আর সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত দৌড়ে নামার শব্দ পাচ্ছি, আমি ঘূম থেকে ঊঠে ধাতস্থ হবার আগেই ভূমিকম্প থেমে গেলো, আর একদিন আমি বাসাতে একা , কম্পিউটার এর সামনে বসে আছি , ভূতের ভয়টা বাসাতে একা থাকলে মোটামুটি পাই আমি , তো এমন সময় মনে হল চেয়ারটা কেউ সজোরে ঝাঁকুনি দিলো, লা ঈলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ যালিমিন, আরো বেশ কবার ঝাঁকুনি দিলো, ঝাঁকুনি গুলো এমন যে মনে হচ্ছিলো কেউ যেন মেঝেতে কোন কিছু দিয়ে আঘাত করে একটা চাপা কম্পন তৈরি করছে, আর একবার আমার মাতুলালয়ে গিয়েছিলাম, কয়েকজন মামা ও ভাই বোনদের সাথে খেলছিলাম, এমন সময় মাটিতে যথারীতি কম্পন অনুভব, ভাগ্যিস খেলাটা করছিলাম আমাদের বাচ্চা ছেলেদের কাদাছোড়াছুড়ি আর পানিতে ডোবাতে ডোবাতে চোখ লাল করে ফেলা নানা বাড়ীর পুকুরটার পাড়ে, এমন সময় দেখলাম পুকুরের পানিটা প্রচণ্ড দুলছে আর ঝাঁকি খাচ্ছে , পানি ফুলে ঊঠছে আর নেমে যাচ্ছে , সেই থেকে আর কোনদিন ভয়ে পুকুরে গোসল করিনি, পুকুরের পানি ভীতি শুরু এখান থেকে। আলহামদুলিল্লাহ সবগুলোতে আল্লাহ বাঁচিয়েছেন,এগুলো নিয়ে যদি একবার অবসরে ভাবেন বা উপলব্ধি করেন তাহলে দেখবেন জীবনের এক লোমহর্ষক অধ্যায় থেকে ঘুরে এলেন যে অধ্যায় আপনি কখনো দেখতে চাননা। জীবন আপনাকে বা আমাকে এরকম পরিস্থিতি গুলোতে যা শেখাবে সেটা অন্য কেউ বা কিছু শেখাতে পারবেনা, অন্য কেউ সেটা আপনার মত করে উপলব্ধি করতে পারবেনা । এটা হল জীবনের এক অদেখা অচেনা অধ্যায়। যেটা উপলব্ধি করলে আপনি কখনো এক কথায় কিছু হয়না বা নেই বলবেননা কখনো আর ।ঠিক এভাবে ভৌতিক কিছু ঘটে মানুষের সাথে ।যেটা হয়তো বিশেষ কোন পরিস্থিতিতে সে দেখে বা উপলব্ধি করে ।

(১৪১)

         যেমনটা নাতাশা ডেমীকনা দেখে কিন্তু আমরা দেখিনা।ভৌতিক ব্যাপারটার বৈজ্ঞানিক বা আনুমানিক ব্যাখ্যাটাও সেইরকম যে ভূত দেখা বা না দেখা ব্যাপারটা সার্বজনীন নয় । পুরো ব্যাপারটা হতে পারে কোন মানুষের স্রেফ কল্পনা আর বাস্তবে একাত্ব  হয়ে যাওয়া, কোন স্থানে বিদ্যমান কোন চুম্বকীয় ক্ষেত্র, অদৃশ্য ডেল্টা লেভেলের মতো কোন অদৃশ্য কোন তরঙ্গের প্রবাহ যা খালি চোখে দেখা যায়না, যেটা আমাদের মস্তিষ্ক বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কে প্রভাবিত করে । আর আমরা তো এখনো চারটি মৌলিক বল এর সন্ধান পেয়েছি মাত্র, বিজ্ঞানীরা এখন পঞ্চম বল বা ফিফথ ফোর্স নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন, আবার  কোন ব্যাক্তির চোখে বা মস্তিষ্কে বিশেষ পৃথক  কোন কোষের উপস্থিতির কারণে বাস্তব জগত  বহির্ভূত কিছু দেখা ।এটাই হল আমাদের শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা ভূতের সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা আমার মতে। বিজ্ঞানীরা এক সমীক্ষাতে দেখেচ্ছেন যে মানুষ মারা যাবার বা দাফনের পরও অক্সিজেন বাদেই তার মস্তিস্কের কিছু স্নায়ু সচল থাকে।তাহলে যখন আমরা দেখি সেই মানুষটি মৃত, দিব্যি নাকে কানে তুলা দিয়ে দিই একজন মৃত কে, যখন ক্লিনিকালি সে ১২ ঘণ্টা আগে মৃত হয়ে গেছে, শরীরের সমস্ত পেশী পচন ধরা শুরু করেছে, বরফ দিয়ে লাশটা তার আগত আত্মীয় সজনের জন্য সংরক্ষিত করা রয়েছে ঠিক তখনো নাকি সে অনেক কিছু উপলব্ধি করছে, বা একটা লোক কে খুন করা হল, তার লাশটা কোন পশু খাচ্ছে তারপরেও তার সুক্ষ কিছু স্নায়ু যদি টের পায় ব্যাপারটা, মস্তিস্কের বিশেষ কোন অঞ্চল যদি মারা যাবার এক সপ্তাহ পর ও সচল থাকে তাহলে কি হতে  পারে একজন মৃত মানুষের সাথে একবার ভেবেছেন ? তাহলে ভাবুন তো মারা যাবার পর কবরে মানুষ কিছু টের পাবেনা সেই নাস্তিক্যবাদী কথা গুলো কতটা মিথ্যা হতে পারে, আর এই মস্তিস্ক সচল অবস্থা আর দেহ পচন অবস্থাটাই যদি হয় কবরের আযাব, তাহলে স্রষ্ঠা বিশ্বাস ও যার  যার ধর্ম অনুযায়ী স্রষ্ঠার আরাধনাটাই ভালো নয় কি ? একটা কথা আছে পরকাল যদি না থাকে তাহলে তো নাস্তিক হয়েও বেঁচে গেলে, আর যদি থাকে তাহলে উপায় কি হবে ?। বিজ্ঞান কেবল টের পাচ্ছে সেই ব্যাপারটা ।

(১৪২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!