কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩৯+১৪০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-১৩৯+১৪০

কিন্তু যুদ্ধপরিস্থিতির হত্যা ও নারী নির্যাতনের বর্ননা পড়বার থেকে যদি কল্পনা করেন তবে যুদ্ধে মৃত মানুষগুলো ও সম্ভ্রমহারা নারী দের প্রতি আপনি ন্যাচারালি যে একটা মনোকষ্ট ও মায়া অনুভব করবেন এবং অত্যাচারীদের প্রতি যে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন সেটা কোন দেশ ও জাতির গন্ডি মানবেনা। মানুষ ও মানবতাই আপনার কাছে মুখ্য হয়ে দাড়াবে। মহাকাল তার আপন গতিতে অতিবাহিত হয়ে যাবে, কিন্তু কোনদিন কেউ এই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মানুষ গুলোকে জানবেও না, যার মনে মানবতা আছে তার মন এই সব নির্মম অতীতকে স্মরণ করে কেঁদে উঠবে , অত্যাচারী ও হত্যাকারীদের শত শত বছর ধরে অভিশাপ দিয়ে আসবে । আবার দেখুন পৃথিবীর বিচার কেমন কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ টাইপ এর বিচার। মানুষের বিচারে ভালো মন্দ টা ও আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মেনে চলে । ধরুন যে দেশের সৈন্যরা আক্রমন করে তারা যুদ্ধে বীরত্বের স্বরুপ মেডেল সহ বিভিন্ন বীরত্ব সুচক সম্মাননা পেয়ে থাকেন। কিন্তু আক্রমণকারী দেশের সৈন্যরা অযথা নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার সহ মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড সংঘটিত করবার পরেও তখন সে দেশের শাসক এবং জনগোষ্ঠী নারী পুরুষ নির্বিশেষে তাদের ই বাপ ভাই ছেলেদের নিষ্ঠুর সব কাজগুলোকে কে নিয়ে  গর্ববোধ করে, বীর বলে সম্মান করে। তাদের মানবতা বোধ থাকে সম্পুর্ন শূণ্য। আমরা মানুষেরা এমন প্রবৃত্তির অধিকারী হই যে নিজের বেলাতে যেটা অন্যায় অন্যের বেলাতে সেটাকে নিজের স্বার্থে অন্যায় বলিনা ।আমি যদি নকল করে পাশ করি সেটাকে আমি নিজের চালাকি বলে মনে করি, নিজের ক্রেডিট অথবা সুবিধা হিসেবে নিই, কিন্তু অন্য কাউকে নকল করে পাশ করার কথা শুনলে চোর নকলবাজ কতকিছু বলি, যুদ্ধে আক্রমণকারী দেশের সৈন্যরা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলতে বিভিন্ন কায়দাতে জ্বালাও-পোড়াও –ধ্বংশযজ্ঞ, নরহত্যা ও নারী নির্যাতন-সম্ভ্রমহানী করে থাকে। আবার নির্যাতিত দেশের মুক্তিকামী মানুষদের কাছে আক্রমণকারী দেশের সৈনিক দের কার্যক্রম হায়েনার থাবা, হানাদারের তান্ডব, নরপিশাচ বাহিনী কত কিছু নামে অভিহিত হয়। তাহলে দেখুন কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ, এক দেশের গালি এক দেশের বুলি, পৃথিবীটাই আপেক্ষিকতার খেলা ।

(১৩৯)

         পৃথিবীর   আপনার কোন ভাই একদিন বাড়ি থেকে বের হল বা বাবা বাড়ি থেকে বের হল, কোন এক দুর্ঘটনাতে তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন , দিন যায় বছর যায় তিনি আর ফেরেননি, একবার যদি বাবা বা ভাইয়ের দেখা পায় এটা ভাবতে আর এই আশাতে দিন অতিবাহিত করতে করতে একদিন আপনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন, আবার কোনদিন হয়তো আপনার সদ্যপ্রসূত নবজাতক ছেলে বা মেয়ে সন্তান টি হাসপাতাল থেকে হারিয়ে গেলো, সন্তানটি হয়তো কার না কারো ঘরে মানুষ হবে, কিন্তু সারা জীবন আপনার কি হবে জানেন ! আপনার যা হবে তা হল, আপনার সামনে আপনার সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তানটির বয়সের পৃথিবীর যে ছেলে বা মেয়েটি দাঁড়াবে তার ভিতর আপনি আপনার হারিয়ে যাওয়া সন্তানটির ছায়া খুজে পাবেন। আজীবন এই হাহাকার নিয়ে আপনাকে চলতে হবে। জীবন আপনাকে বা আমাকে এরকম পরিস্থিতি গুলোতে যা শেখাবে বা সারাজীবন বুকে একটা অব্যক্ত যে কষ্টের যন্ত্রনা দিয়ে রাখবে সেটা অন্য কেউ বা কিছু বা পৃথিবীর কোন শিক্ষক বা বই আপনাকে শেখাতে বা উপলব্ধি করাতে পারবেনা, অন্য কেউ সেটা আপনার মত করে উপলব্ধি করতে পারবেনা। ভয়াবহ ভুমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ মরতে দেখেছেন কখনো ।আপনি সুস্থ ভাবে আপনার পরিবার সহ ঘুমিয়ে আছেন এমন সময় ভূমিকম্পে বিল্ডিঙের নিচে চাপা পড়ে মারা যেতে পারেন এটা ভেবে কখনো কি ঘূমাতে যান, ভূমিকম্পের তো কোন পূর্বাভাস নেই, এরকম কয়েকটা ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, আর  ভূমিকম্প এমন একটা দূর্যোগ যে আপনি পালাতেই পারবেননা , মানুষের জীবনকে ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় এই দুর্যোগটি । ভূমিকম্প ০৪ থেকে ০৫ সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী হয়না । তাহলে আমরা বেঁচে যাচ্ছি কি করে ? বলা যায় আল্লাহর রহমত আর ভুমিকম্পের মাত্রা কম থাকে বলে । ০৬-০৭ মাত্রার একটা ভুমিকম্প ০৫ সেকেন্ড হলে আমাদের বিল্ডিং এর নিচে চাপা পড়বার জন্য ভাবতে হবেনা । ০৫ সেকেন্ড স্থায়ী একটা ভুমিকম্প(খোদা না করুন ) ঢাকা শহর কে ০১ কোটি মানুষের মৃত্যুপুরী বানাতে পারে , যদি সেটা হয় ০৭ মাত্রার ভুমিকম্প, আর ভুমিকম্প এমন একটা দুর্যোগ যে আপনি একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বাঁচতে পারবেননা|

(১৪০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!