কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৯+৩২০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৯+৩২০

**** বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস আজ থেকে প্রায় ২১৫০ বছর আগে এমন এক রশ্মি নিক্ষেপণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেটা , ১০০০ ফুট দূর থেকে কোন কিছুর গায়ে এই আলো লাগলে সেখানে আগুন ধরে যেতো , তৎকালীন সময়ে সেই রশ্মি গ্রীকেরা রোমানদের বিরুদ্ধে বহু যুদ্ধে ব্যাবহার করেছে । এটাকে আর্কিমিডিসের ডেথ রে বা মৃত্যূ রশ্মিও বলা হতো । আর্কিমিডিস এর মৃত্যুর সাথে এটিও বিলুপ্তও হয়ে যায় ।

***** মসলিন নামক কাপড়ের কথা আমরা কে না শুনেছি , এটি আমাদের বাংলাদেশেই তৈরি হতো  । এটা এতটা পাতলা ছিল যে একটি মসলিনের শাড়ি একটি ছোট দেয়াশলাই  বাক্সে রাখা যেতো । ইজ ইট পসিবল !!!! কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীতে এটি ইংরেজদের আরোপকৃত বড় অংকের কর ( স্বাভাবিকের থেকে ৭০-৮০ গুন বেশি  কর) এবং মসলিন কারিগরদের আঙ্গুল কেটে ফেলার কারনে আশ্চর্যজনক এই শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যায় । সেই থেকে আর কখনো প্রচুর গবেষনা করেও এটি আর আবিষ্কার সম্ভব হয়নি । তবে ২৮ প্রকার মসলিনের ভিতর বর্তমানে জামদানি নামক এক প্রকার প্রকরন টিকে আছে ।ফুটি কার্পাস নামক তুলার  ৩০০ কাউন্ট এর সুতা দিয়ে অতি গোপনীয় এবং বিশেষ কায়দাতে এটা প্রস্তুত হতো ।

****** এক সময় ইউরোপের কোন রাষ্ট্রে এমন একটা তেল আবিষ্কার করা হয়েছিল যেটা সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করা যেতো । কিন্তু এই তেল নিয়ে  এটা লেখার কারণ নয় , কারণটা হলো সাস্থ্যসচেতন মানুষ মাত্রই তৈল এড়িয়ে চলি কারণ এটি ফ্যাট এবং এর অতিরিক্ত ক্যালরীর কারনে । যারা তেল জাতীয় খাবার বেশি খায় তাদের স্থুলতা ও হার্ট এর সমস্যা  দেখা দেয় । তো এমন যদি কোন তেল থাকতো যার কোন ফ্যাট বা ক্যালরী নেই । তাহলে তো খুব ভালো হতো ।এমনই একটা তেল তখন আবিষ্কার হয়েছিল । এই তেলটি রান্না ও ভাজাভাজির কাজটা অন্যান্য তেলের মত সমানে করে দিতো । কিন্তু এর একটা সমস্যার কারণে এটা বাতিল হয়ে যায় ।

(৩১৯)

         সমস্যাটা হলো এমন যে এই তেলের রান্না কিছুদিন খাবার পর মলত্যাগে একটা চরম সমস্যা হতো , সেটা হলো অনিচ্ছাস্বত্বেও মল বেরিয়ে আসা শরীর থেকে । ফলে বিব্রতকর অবস্থাতে পড়বার ভয়ে এটির ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায় । ফলে এটি এর ফর্মূলা সহ বিলুপ্ত হয়ে যায় । এ রকম সমস্যা বর্তমানে ওর্লিস্ট্যাট আই এন এন  নামে একটা স্লিমিং পিলের প্বার্শপ্রতিক্রিয়াতেও দেখা যায়।

**** ইরাকের বাগদাদে একটি ২০০০ বছরের পুরাতন পাত্র পাওয়া যায় ।যেটা আয়রন রড ও কপার সিলিন্ডার যুক্ত । এর ভিতরটা ভিনেগার পরিপূর্ণ ছিল । যেটা থেকে ০১ ভোল্টের উপর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হতো ।তাহলে কি ২০০ বছর আগের মাইকেল ফ্যারাডে অথবা ইতালীর লুইজি গ্যালভানীর বিদ্যুৎ আবিষ্কারের আগেই  ২০০০ বছর আগে ইরাকে অজ্ঞাত জ্ঞানীদের হাতে বিদ্যুৎ আবিষ্কার হয়ে গিয়েছিল ?  আর এটা গুপ্তবিদ্যা হিসেবে হারিয়েও গিয়েছিল । ঘটনাসূত্র তো তাই বলে ।

              ****যেমন একসময় বাইজেন্টাইন রা গ্রিক ফায়ার নামে এক বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার করেছিল । এটা এমন এক পদার্থ যা পানিতে পরলেও নিভতোনা ।কোন কিছুর মাধ্যমে এই পদার্থ ছুড়ে দিলেই হল , ব্যাস সাথে সাথে দাউ দাউ করে আগুন জলে উঠতো , পরবর্তীতে এর আবিস্কারকদের মারা যাবার সাথে সাথে এটার প্রস্তুত প্রনালী হারিয়ে যায় , পুনর্বার আর কোনদিন এটা আবিষ্কার সম্ভব হয়নি ।

এগুলো তো গেলো হারানো অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারের কথা , আমাদের দেশেই দেখবেন মাঝে মাঝে সামান্য শিক্ষিত কিছু মানুষেরা কিছু বিস্ময় যন্ত্র বা ওষুধ আবিষ্কার করে ফেলে । কিন্তু শুধু মাত্র সেটা পত্রিকাতে আসে । পরবর্তীতে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এরকম আবিষ্কার গুলো হারিয়ে যায় । যেমন জনশ্রুতি অনুযায়ী আমাদের বাংলাদেশের জিঞ্জিরার সাহাবুদ্দিন নামে একজন ব্যাক্তি ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে পুরাতন হেলিকপ্টার এর যন্ত্রাংশ দিয়ে ০২ বছরের চেষ্টাতে ১৯৭৯ সালে উড্ডয়নক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি করে ফেলেছিলেন

(৩২০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!