কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৭+৩১৮ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৭+৩১৮

তবে ধর্ম মতে আমাদের কে সেখানে আবার ফিরে যেতে হবে এবং স্রষ্ঠা আমরা যা করছি সব দেখছেন ।এই বইয়ে যা লেখা সেটা নিশ্চিত ভাবে কোন কিছু বলা বা ধর্ম বা বিশ্বাসে আঘাত করা নয় ।শুধুমাত্র যুক্তি , বিজ্ঞান ও ধারনার ভিত্তিতে এলেমেলো আলোচনা মাত্র ।দয়া করে কেও বাজে ভাবে নিয়ে  উস্কানি দেবেননা , বা ধর্মীয় সেন্সে নেবেন না  । বিবর্তন বা ৫০০ কোটি  বছর বা ১০ লাখ বছরের ধারনা সত্য বলা যাবেনা এই জন্য , যে আপনি একটা খাবার গরম হতে চুলাতে ০৫ মিনিট যে সময় লাগবে , ওভেন এ সেটা আপনি ০১ মিনিট এ করতে পারবেন ।    এটা শুধু আমাদের ব্যাপার না , এরকম ব্যাপার ঘটে বলেই কালে কালে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস গুলো হারিয়ে গেছে , যেটুকু আছে সেটুকু ওই মিথ আর কল্পনার মিশেলে টিকে আছে মহাভারত আর ইলিওড হয়ে।    যদি কেউ   ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে পরিশেষে ভয়ানক কোন যুদ্ধ সভ্যতার ও প্রযুক্তির চরম শিখরে থাকা অবস্থাতে মানবজাতির উন্নতির সেই অধ্যায়ের  ধ্বংস ডেকে আনে বা মানব সভ্যতার উন্নতি নামক সিনেমার শেষে দি এন্ড লেখা উঠিয়ে দেয় । এখনকার যুগ উন্নত একারণে যে এই যূগে যে দেশে যে ব্যাক্তি যা আবিষ্কার করেছেন তা সেই ব্যাক্তির ভিতর বা তার গোষ্ঠীগত সীমাবদ্ধতার ভিতর কুক্ষিগত করেনি ।  যে দেশে যে ব্যাক্তি যা আবিষ্কার করেছেন সেটা পৃথিবীর সব দেশে সবার ব্যাবহারের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে । মানে যেটা গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন ।তাই বলা হয় যে বিজ্ঞান অতীতে ও ছিল , বর্তমানেও আছে ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজনে টিকে থাকবে ।কারন মানুষের প্রয়োজনে মানুষ যখনি কিছু খুজবে তখনি সে এই প্রকৃতির অসংখা শক্তির ভিতর একটা না একটা শক্তি বা দ্রব্য গুন পেয়ে যাবে । আবার দেখা যাবে একটা জিনিস আবিষ্কার করলো  মানুষ ,পরবর্তীতে সেটার সহজ ভার্সন পেয়ে পুরাতন টা বাদ দিল , কিন্তু বিষয় হল যে কখনো মানুষ বিজ্ঞান বিহীন থাকেনি । ধরুন মানুষ চকমকি পাথর দিয়ে আগুন জালান যায় এটা একসময় আবিষ্কার করেছিল এবং তাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়েছিল , পরবর্তীতে দিয়াশলাই  আবিষ্কার হয়ে মানুষ ম্যাচ ব্যাবহার করেছে , বর্তমানে অটো গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালাই বলে দিয়াশলই অনুন্নত প্রযুক্তি এটা বলা যাবেনা ।

(৩১৭)

         পরে আরও সহজ করতে গ্যাস লাইটার ও তৈরি করেছে ।এখানে লক্ষ করুন আগুন জ্বালানোর জন্য মানুষ মাধ্যম পালটেছে মাত্র , আগুন বাদ দেইনি । তাই আবার জোরাল ভাবে বলি যে ‘’মানুষ সৃষ্টি লগ্ন থেকেই উন্নত সভ্যতার ধারক এবং বাহক , যুগ ভেদে এবং যুগে যুগে  বিজ্ঞান এসেছে ভিন্ন রুপ নিয়ে বা একেক যুগে একেক শক্তি নির্ভর হয়ে ।

*****খ্রিস্টপুর্ব ৬৩ অব্দ , স্থান রোমান রাজসভা , এখানে একটা বস্তু সেদিন প্রদর্শন করা হল , নাম হল “ভিট্রাম ফ্লেক্সিলে” মানে দাড়ায় নমনীও কাচ , নমনীয় কাচ সেটা আবার কি জিনিস ? আসলে আমারা যেটা কাচ বলি বা চিনি সেটা কিন্তু বালুকা থেকে তৈরি বিশেষ কায়দাতে , আর এই কাচ যায় ভেঙ্গে , কিন্তু ওই দিন একজন আবিষ্কারক এমন এক কাচ দেখান যেটার সব বৈশিষ্ট্য কাঁচের মত , কিন্তু এটাকে ইচ্ছা মত দুমড়ানো মোচড়ানো যেতো । রোমান রাজসভাসদ পেত্রনিয়াস এর ভাস্যমতে একজন পণ্ডিত গোছের লোক সম্রাট টিবেরিয়াস এর দরবারে একটি কাচের পাত্র নিয়ে আসে , তিনি সেটা সম্রাট কে উপহার দেন । সম্রাট এই কাচএর পাত্রটিতে অসাধারন কিছু না দেখতে পেলে লোকটি কাচের পাত্রটিকে সজোরে মাটিতে আছড়ে ফেলে । সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাত্রটি না ভেঙ্গে সামান্য বেকে যায় , সেটা আবার পিটিয়ে ঠিক করে ফেলা হয় । এরকম আশ্চর্য জিনিস দেখে সম্রাট মনে করেন এরকম জিনিস জনগনের হাতে এলে রাজার হিরা জহরত এগুলোর বাজার মুল্য কমে যাবে । ফলে রাজা ওই লোকটিকে হত্যা করেন ,  লোকটির মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যায় কাচের এই মুল্যবান এই সংস্করণটি ।  

****প্রাচীন রোমান পনটাসের গ্রীক রাজা ষষ্ঠ মিথ্রিডেটস আবিষ্কার করেন ইউনিভার্সাল .এন্টিডোটস বা  সব বিষের এক প্রতিষেধক , স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকাচার বিভাগের প্রভাষক আদ্রিয়ান মেয়ার ২০০৮ সালে প্রকাশিত লেখাতে এটি সম্বন্ধে উল্লেখ করেন । এই মহামূল্য আবিষ্কারটিও রাজার মৃত্যুর পর অন্য কাউকে না সেখানর জন্য বিলুপ্তও হয়ে যায় ।

(৩১৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!