কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৫+৩১৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩১৫+৩১৬

কিন্তু মানুষ এর বই পত্রে বা শিক্ষা জীবনে অন্তত একবার হলেও যে মানুষ দের নাম পড়া হয় তাদের সংখ্যা হাতে গোনা ।অল্প কয়েকজন নবী রাসুল আর  অবতার , সক্রেটিস , প্লেটো , এরিস্টটল , অশোক , মুঘল , অটোমান , ব্রিটিশ , রবি ঠাকুর-সেক্সপিয়ার , নেতাজী , বঙ্গবন্ধু , উত্তম কুমার , সালমান শাহ অথবা যে দেশে যে হিরো মানুষের ফেভারিট  ইত্যাদি ইত্যাদি এই সব ছাড়া আর কিছু তো আমরা কালেভদ্রে ও  স্মরন করিনা । আবার দেখা যাবে এই তালিকা গুলো থেকেও অনেকগুলো নাম মহাকালের আবর্তনে গুরুত্ব হারিয়ে হারিয়ে যাবে ।আমি এই পৃথিবীতে এলাম , আমি কেন এলাম , আমি কি পেয়েছি , আমি কি দেখেছি , আমি কি করে , কি দেখে , কি অভিজ্ঞতা নিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যাচ্ছি ? ।আমি কি খাগড়াছড়ির পাহাড় দেখেছি ? আমি কি  কাশ্মির দেখেছি , দার্জিলিং দেখেছি কি ? হিমালয় পর্বত  দেখিনি , অ্যামাজন জঙ্গল দেখিনি , মহাসাগর দেখিনি , উত্তর মেরু-দক্ষিন মেরু দেখিনি , দেখা হবেওনা কোনদিন । কোন এক মনিষী বলেছিলেন নাম টা মনে করতে পারলাম না , উনি বলেছিলেন তুমি পৃথিবী তে আসার আগে যেমন কিছু ছিলেনা , তেমনি পৃথিবী থেকে চলে যাবার পর ও কোনদিন কিছু ছিলেনা , এমন হবে যেন তুমি কোনদিন পৃথিবীতে আসনি এরকম ভাবে তুমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ।পৃথিবীতে  কোনদিন  তুমি আসনি আর কোনদিন মারাও যাওনি মানে কোন দিন তুমি যদি কালাম নামক একজন বাক্তি হউ এই পৃথিবীতে কালাম নামে কেউ এসেছিল এটা পৃথিবী ভুলে যাবে । তোমার বাসস্থান কালের আবর্তনে কোন এক অপরিচিত ব্যাক্তির কাছে চলে যাবে , কত কিছু হবে । পৃথিবী যেন এক আবাসিক হোটেল , আমরা বেড়াতে আসা পথিক , কদিনের জন্য এই হোটেলে অবস্থান করে আমাদের বিলীন হয়ে যেতে হয় মহাকালের গর্ভে । আবাসিক হোটেলে কত পথিক আসে , কত পথিক যায় কে তার খোজ রাখে । আর সেই পৃথিবীর জন্য আমরা কত কিছু করছি । আমরা কি ২০০০ বছর পরে মনে রাখার মত সক্রেটিস বা প্লেটো হয়ে মরতে পারবো ? এক জীবনে পৃথিবীর সব সুন্দর যায়গা গুলো দেখে যেতে পারবো ?মহাকাশের অসীমতা ভ্রমন তো কল্পনার অতীত।

(৩১৫)

         আল্লাহই সব , বাকি সব মিথ্যা , এইটাই সব কথার শেষ কথা হয়ে থাকবে  ।  পৃথিবীর এখন দেখা গেলো অনেক বছর আগের অনেক সভ্য একটা জাতি যে গ্রহে বসবাস করতো , সেই গ্রহটা একেবারে এতটাই উন্নত ছিল বা তাদের প্রযুক্তি এতটা উন্নত ছিল যে ,তারা যা চাইতো সেই গ্রহে তাই পেতো ।কিন্তু সেই গ্রহের কোন পরিস্থিতিতে বা মানুষ কে নিয়ে বসবাস উপযোগী অন্য কোন গ্রহ খুজতে গিয়ে দেখা গেলো পৃথিবীতে মানুষ কে পাঠানো যেতে পারে ।পৃথিবীতে সেই গ্রহের থেকে মানুষ এলে দেখা গেলো তাদের যা দরকার , মানে ওই গ্রহে তো মানুষ খেতে শিখেছে , পরতে শিখেছে , তাহলে পৃথিবীতে এসেও তাদেরকে খেতে এবং পরতে হবে । তখন তাদের কে সেই প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজন মেটানোর জন্য পৃথিবীতে খাবার এবং পরিধেয় খুজে বের করতে হয়েছে ।আবার সাথে সাথে তাদের ওই গ্রহ থেকে যারা রেখে গেছে তারা সেই মানুশগুল রক্ষা কল্পে বিভিন্ন কিম্ভুত যানে করে উড়ে আসতো ।আচ্ছা এই যে ফ্লায়িং সসার নিয়ে অনেক বছর ধরে গুজব শোনা যায় ।৫০০০ বছর আগের সভ্যতা গুলোর ছবিতে যেমন এগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় তেমনি , এই যুগেও এগুলো দেখা যায় । কিন্তু এগুলো সারা বিশ্বের সব মানুষ দেখেছে কিন্তু এক্তাও ধরতে পারেনি , বা এগুলো সম্বন্ধে কোন তথ্য পায়নি । তাহলে হতে পারেনা এটা হয়তো ভিন গ্রহী  কিছু বা সাধারনের জন্য উন্মুক্ত না হয়ে বিশেষ কোন গোষ্ঠীর হাতে আবদ্ধ গুপ্ত কোন বিদ্যা , যার মাধ্যমে উন্নত দেশের কোন বিজ্ঞানীরা এটা তৈরি করছে এবং একমাত্র তারাই জানে এর তৈরির উদ্দেশ্য । তো যা নিয়ে কথা  হচ্ছিল দেখা যাচ্ছে আমাদের এই সৌরজগৎ এবং মহাবিশ্ব দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে , এই ক্ষেত্রে যদি সেই আমাদের মুল গ্রহ থেকে সৌরজগৎ বহুদুরে সরে যায় যায় তখন এমন হতে পারে আমরা আমাদের সেই মাদার গ্রহ কে হারিয়ে ফেলেছি ।ফলে আস্তে আস্তে আমাদের উতপত্তি আমরাই ভুলে গেছি ।তারা আমাদের আর হয়তো খুজে পাইনি বা খোজার প্রয়োজন অনুভব করেনি ।

(৩১৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!