কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০৭+৩০৮ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-৩০৭+৩০৮

নিছক ভন্ডামী না ভেবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যদি দেখি তবে কি কোন গুপ্ত বিদ্যার সুত্র ব্যবহার করে এগুলো লেখা হয়েছিল  বা কি রহস্য এই লেখাগুলোতে আমরা কি বুঝবো ?[ তাবিজ ব্যবহার করতে বা বিশ্বাস করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করছি , প্রতারকদের কবলে পড়লে মোটেই আমি দায়ী নই , শুধু ছবি দিলাম এ জন্য যে কোন রহস্য কি এ রকম নকশা গুলোতে আছে ? কোন সুত্র বা উদ্দ্যেশ্য ব্যবহার করে এগুলো লেখা ? নাকি ব্যবসার জন্য নিছক সুত্রবিহীন ও অর্থবিহীন সুন্দর সুন্দর নকশা ? প্রশ্ন হলো এটাই”]

*****আরেকটা কথা প্রায়শই বলা হয় প্রাচীন কালের মানুষ অনুন্নত এবং জংলিছিল  ,পরিধানের জন্য কাপড় ছিলোনা , উন্নত কিছু ছিলোনা । কিন্তু এটা কেও কি অকাট্য  সত্যি বলে মেনে নেওয়া যায় ? আজ এই আধুনিক যুগেও তো আপনার বুশম্যান ,রেড ইন্ডিয়ান ,জুলু , এরা তো একই রকম জংলি রয়ে গেলো । তাদের এলাকায় গেলে বিজ্ঞানীদের তথাকথিত সেই প্রাচীন যুগে পৌঁছে গেছি বলে মনে হয় । এসব উপজাতিরা আধুনিক মানুষের জীবনযাত্রার সব কিছু দেখে , কিন্তু তারপরেও তারা প্রাচীন আর আদিম থেকেই গেলো । এখন পুরো সভ্য জাতির সভ্যতা কোন দুরযোগে এক যোগে ধ্বংস হয়ে গেলে দেখা গেলো বনে বসবাসরত ওরা শুধু টিকে থাকল , ওরা একদিন আবার উন্নত হয়ে লিখল প্রাচীনকালে  মানুষেরা এরকম ভাবে গাছের গুহাতে বসবাস করতো , পশু শিকার করে খেতো , গাছের ছাল বাকল পরতো ইত্যাদি ইত্যাদি  , লেখাপড়া  জানতোনা এরকম কত কথা শোনা যায় ।কিন্তু এই যুগেই দেখুন মানব সভ্যতার ভিন্নতা ।বর্তমান পৃথিবীতে ১৯৫ টি রাষ্ট্র বা দেশ  আছে ।কিন্তু সব দেশ সমান উন্নত নয় ।আমেরিকার মানুষের জীবনযাত্রার সাথে বাংলাদেশের  তুলনা যেমন হয়না , তেমন বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার সাথে আফ্রিকার মানুষের  ও আছে বিস্তর পার্থক্য ।তেমনি বর্তমানের প্রাচীন এইসব নৃগোষ্ঠী গূলো এখনো জংলী জীবনযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।                                                                                                                                

(৩০৭)

         কিন্তু একই সময়ে তাদের পাশাপাশি হাজার গূণ উন্নত আধুনিক মানুষ থাকা সত্ত্বেও তারা আধুনিক জীবনযাত্রা গ্রহণ করেনি ।সারা পৃথিবীতে এই জংলীদের থেকে সংখ্যাতে কোটিগুন আছে সভ্য মানুষ , তারপরেও তারা উন্নত হয়নি , উন্নত জীবনযাত্রা গ্রহণ করেনি । সেই কারণে বলা যায় যে প্রাচীন কিছু নুড়ি পাথর , ভোতা অস্ত্র , মাটির হাড়ি পেলেই বলা যাবেনা যে আগের যুগে বা হাজার বছর আগে সভ্যতা বলে কিছু ছিলনা ।সভ্যতা সম্বন্ধে এরকম ভূল ধারণা হবার আরো একটি কারণ হলো যতো উন্নত সভ্যতা ছিল যেমন আটলান্টিক এ হারিয়ে যাওয়া শহর আটলান্টিস , মিশরের হেরাক্লীওন ,ইসরায়েল এ  ডেড সী এর স্থানে অবস্থিত নবী লুত আঃ এর শহর , কুরআনে বর্ণিত সিরিয়া এর ইরাম শহর , মহাভারতের কৃষ্ণের কথিত দ্বারকা নগরী সবগুলোর ভিতর একটা অদ্ভুত মিল পাবেন , সেটা হল এগূলো ছিল পরবর্তী হাজার হাজার বছর থেকে অগ্রসর প্রযুক্তি সম্পন্ন বা ওভার আডভ্যান্স একেকটি সভ্যতা , এই সভ্যতা গূলো নিয়ে যতো কাহিনী বা মিথ প্রাচীন পুরাণ বা কাব্যগ্রন্থ বা ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে পাওয়া যায় সেখানে এসব সভ্যতার যেসব বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে মেনে নিতে বাধ্য হতে হয় এরা সেই রকম উচ্চ লেভেলের উন্নত ছিল ।প্রাচীন যুগ গূলো ছিল অনুন্নত আর সেখানে বসবাস ছিল জংলী সব মানুষের এটা একেবারে গাঁজাখুরি তত্ত্ব বলে মনে হয় ।সেটা যদি বলা হয় যে ১০ হাজার বছর আগের মানুষ ও জংলী ছিল সেটাও মেনে নেওয়া ঠিক নয় বিজ্ঞানীরা বলেছেন বলে । এটা বলা যেতে পারে এখন যেসব প্রযুক্তি বা যন্ত্র আছে সেটা আগে ছিলনা । আবার ২০ বছর পর গিয়ে এখনকার আমাদের ফাস্ট ক্লাস উন্নত জিনিসগুলোও অনুন্নত মনে হবে , এটা লিখে রাখুন । আবার লক্ষ করুন আজ থেকে ৩০-৪০ বছের আগে যখন সাদাকালো টি ভি এলো তখন সেটা ছিল তখনকার সে যুগের জন্য ব্যাপক কিছু।তখন মানুষ সেটা কে ভাবতো  যে এর থেকে উন্নত কিছু আর হবেনা ।তখন টেলিভিশন এ আলিফ লাঈলা যখন মানুষ দেখত তখন আলিফ লাঈলার তখনকার আনাড়ি গ্রাফিক্স গূলো তখনকার মানুষের কাছে উন্নত কিছু ছিল|

(৩০৮)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!