কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯৯+৩০০ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯৯+৩০০

তবে হাট বাজার যাকে বলি আমরা সেই গ্রাম্য হাট বসতো সপ্তাহের যে কোন দুদিন ।সালটা ছিলো ১৯৯৫ সালের দিকে । ওই দুইদিন লোকটি হাটে প্রচুর মিষ্টি বানিয়ে নিয়ে আসতো এজন্য যে হাটে দশ গ্রামের লোক হতো ।হাটের দুইদিন বাদে অন্য কদিন সামান্য মিষ্টিই বিক্রি হতো , হাট বাদে বাকি কটা দিন মিষ্টি অল্প বানাতো । কিন্তু একটা জিনিস লক্ষ্য করলো হাটে প্রচুর লোক হয় , কিন্তু সেই তুলনায় মিষ্টি বিক্রি হয়না । এমন অবস্থা যে প্রতি দশজন লোকে একজনও যদি কেনে তাহলে দোকানে মিষ্টি থাকেনা । বাধ্য হয়ে লোকটি বেঁচাবিক্রি বৃদ্ধির জন্য  শরণাপন্ন হলো একজন লোকের কাছে যিনি তাবীজ তদবীর দিয়ে বেড়ান ।আমি যখনকার কথা বলছি তখন কিন্তু এগুলো হরহামেশা চলতো আর গ্রমের মানুষ বিশ্বাসও করতো । যদিও এগুলোর কোন বিজ্ঞানসম্মত প্রমান বা সত্যতা নেই । [[বই আর সিনেমা  মানে লেখকের বা পরিচালকের খেলার যায়গা , কাহিনীর প্রয়োজনে সত্য মিথ্যা বাস্তব আর অবাস্তবের মিশেল দিতেই পারেন আর সেটা স্বাভাবিক , আর এই মিথ্যাটাই পাঠক ও দর্শক সত্য বলে গ্রহণ করে  , এজন্য তর্ক বিতর্ক বা মাথা গরম করে সময় নষ্ট না করে বিনোদন নেওয়াটাই সবদিক থেকে সুন্দর , যদিও আমি গ্রামের তখনকার মানুষের কাছে শোনা ও তাদের ভাষায় সত্য গল্পই বলছি , কিন্তু আপনাদের জ্ঞাতার্থে বললাম এটুকু ]]  আবার জনশ্রুতি ছিলো তিনি জ্বীন চালান ও দিতেন তিনি । তো মিষ্টির দোকানদার কে সেই তদবীর প্রদানকারী লোকটি সত্যিই একটা মাদুলী দিলেন । তো সেই  মাদুলী যখন উনি গলায় ধারণ করলেন তখন কিছু বুঝতে পারলেননা । বিশেষ কিছু পাবেন বলেও মনে করলেননা । কিন্তু ফল দেখা গেলো পরবর্তী সপ্তাহের হাটবারে ।প্রচুর বেচাকেনা হতে লাগলো , একেবারে অকল্পনীয় , বিষ্ময়করভাবে ওনার দোকানের মিষ্টি বিক্রির চোটে আরো অনেক খদ্দের খালি হাতে ফিরে যেতো । ফলে এবার মিষ্টি বানানো আরো বাড়িয়ে দিলেন । ফলে দিন দিন অর্থ বৃদ্ধিতে ওনার ভিতর একটু আরাম আর অহংকার ভাব এসে গেলো ।

(২৯৯)

         বিড়ি সিগারেটের নেশা বেড়ে গেলো , নামাজে আলস্য এসে গেলো , মাংশ ছাড়া খাওয়াতে অরূচি ,  দোকানে যে খরিদ্দার আসবার জন্য সারাক্ষন মনে মনে আল্লাহর কাছে চাইতেন সেই খরিদ্দার দেখলে মনে মনে বিরক্তি আসে । জ্বীনের ফকির কিছু জিনিষ বলে দিয়েছিলেন যেমন বিড়ি সিগারেট না খেতে , মাংশ কম খেতে , ফকির মিসকিন কে দান ছদকা করতে , নামাজ পড়তে , কিন্তু টাকার প্রাচুর্য্যে সব ভুলে গেলো লোকটি । এমন সময় একদিন হাটবার এ মাগরিব এর আজান এর ওয়াক্ত পার হয়ে গেছে ।আবছা ফর্সা ভাব আছে , সন্ধ্যার অন্ধকার পুরো নেমে আসেনি । বলে রাখা ভালো দোকান থেকে হাত বিশেক দুরে ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরাতন একটা বটগাছ আছে । ওই বটতলাতেও কিছু দোকান বসতো , তারাও গুছিয়ে বাড়ি রওনা দিয়েছে । এমন সময় একটা সাধারণ সাজের আলেম-মাওলানা গোছের একটা লোক এসে মিষ্টির জন্য দোকানে দাড়ালো । দোকানদারের তেমন ভ্রক্ষেপ নেই । সামনে টিম টিম করে একটা লন্ঠন জ্বলছে । দোকানদারের ছেলেটা বাইরে বসে হেরিকেন এর সলতে ঠিক করছিল । বেশ কিছু সময় পর লোকটা বললো কি রে আর কতক্ষন দাড়াবো । মিষ্টি হবেনা ? , বেশ দুরে যাবো । দোকানদার মিষ্টি দিলো বেশ তাচ্ছিল্যের সাথে । খুচরা টাকা ফেরত দিতেও দেরি করলো । এর কয়েক মুহুর্ত পর দোকানদারের ছেলেটা আব্বা বলে কাপা গলায় ভয়ার্ত স্বরে চেচিয়ে উঠলো , বাপ ও ছেলে মিলে দু জনে যা দেখলো তা হলো , একটু আগের সেই মাওলানা গোছের লোকটি বটগাছের ভিতর মিশে যাচ্ছে , আর এতক্ষন যেন বাপ ছেলেকে এটা দেখানোর জন্যই অপেক্ষাতে ছিলো মাওলানা মত লোকটি , তো ইশারায় সে যেটা বুঝালো যে যা দেখলো তা যেন কেউ না জানে , কাউকে না বলে , তারপর থেকে মিষ্টির ব্যবসা ছেড়ে দেয় লোকটি  । এই ঘটনাটার পিনে তেমন কোন যুক্তি দেখছিনা , নিছক হতে পারে জনশ্রুতি ।নেহায়েত এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসা করার জন্য বানানো গল্প বা হতে পারে কারো হুমকিতে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছিল ।  

(৩০০)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!