কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯৩+২৯৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯৩+২৯৪

মানে মহাবিশ্বে কোনদিন পথিবী এবং এর ভিতর মানব জাতি নামক কিছু ছিল এতা স্মরণীয় করার কিছু থাকবে ? বিমানের ব্লাক বক্স এর মত পৃথিবীর কোন ব্লাক বক্স আছে কি পৃথিবীর , বা এই যে মহাবিশ্বে সষ্ঠার কতকালে কত কিছু সৃষ্টি করলেন ,‌ এই অগনিত কিছুর ভিডিও কি থাকবার দরকার আছে ? ধরুন এখন আমাদের স্মৃতি এবং ইতিহাস ধরে রাখবার জন্য মেমরি কার্ডের মত অনেক উন্নত চিপ আছে । কিন্তু যদি কখনো সভ্যতা ভয়াবহ ধংশপ্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে আমাদের সভ্যতাকে কে আবার পুনরুজ্জীবিত করবার মত প্রযুক্তিগুলো টিকে নাও থাকতে পারে , মানে ধ্বংস প্রাপ্তির পর মেমরি কার্ড হয়তো কেউ পেলো , কিন্তু সেটা চালাবার যন্ত্রটা পাবেন কোথায় ? এক্ষেত্রে কথিত প্রাগৈতিহাসিক মানবদের গুহা চিত্রের মত এখনকার  মূল্যবান তথ্য গুলো যদি ছবি ও লেখনীর মাধ্যমে গুহা চিত্রে এবং বিভিন্ন ধাতব পাতে অঙ্কন করে রাখা সম্ভব হয় তবে সেটা নিরাপদ হয় বেশি , কথাগুলো শুনতে হাস্যকর শোনালেও একটু ভেবে দেখুন সর্বক্ষণ বিদ্যুৎ এর সুযোগ সুবিধাতে থাকা মানুষেরা কিন্তু এখন ২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং এ পড়লে মোবাইল গুলো অচল হয়ে পড়ে , ফ্রিজ এর মাছ মাংশ নষ্ট হতে শুরু করে , ঘরের অন্ধকার নিবারনে সে যুগের মোমবাতির খোজে আমরা মোড়ের দোকানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি । একটা হারিয়ে যাওয়া শহরের কথা বলি , শহরটির নাম ছিল হেরাক্লিয়ন , খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সাল মানে আজ থেকে ২৮০০ বছর আগের কথা , মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ২০ মাইল উত্তর পশ্চিমে এক শহর ছিল হেরাক্লিয়ন ।এর ৪০০ বছর পর মানে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ বছর আগে হেরাক্লিওন শহরটি ,  হঠাৎ একদিন জনকোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে ডুবে যায় ।নিস্তব্ধ হয়ে যায় বন্দর ও  দেবতা আমেনরার মুর্তি , পুজা  জন্য বিখাত শহরটি ।২০০০ সালে ফরাসি প্রত্নতত্তবিদ ফ্রাঙ্ক গুডি ও তার দল ।এটাও তিনি পান আবার অপ্রত্যাশিত ভাবে , ফরাসি সম্রাট নেপলিয়ানের ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধানে মিসরের আবু কির উপসাগরে সন্ধান চালাচ্ছিলেন তিনি ।হঠাৎ করে তিনি মিসরীয় দেবতা হাপির মুর্তির কিছু ভাঙ্গা অংশের সন্ধান পান ।

(২৯৩)

এতে তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান । এ যে হেরোডটাস এবং মিসরীয় পুরান এবং রুপকথার গল্পের বইএ স্থান পাওয়া নিছক কবি সাহিত্যিক আর  মানুষের কল্পনা মনে করা আমন দেবতার শহর  উল্লেখিত ডুবে যাওয়া ,  শহর হেরাক্লিয়ন এর প্রমান ।এরপর ১৩ বছর ধরে সন্ধান চালিয়ে তিনি আমন , ৬৪ টির জাহাজের ধংসাবশেষ , ৭০০ নোঙর ,প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা ,তামা পাথরের বাটখারা আর অগনিত নমুনা ।ভুতত্তবিদ দের মতে এই হেরাক্লিয়ন শহর হারিয়ে যাবার কারন হল এর ভুপৃষ্ঠস্ত ছিল বেলে কাদামাটিতে ঘঠিত । ‌ফলে ভয়াবহ  ভুমিকম্পে এটি সাগরের নিচে তলিয়ে যায় । আচ্ছা আমাদের এই সভ্যতা তার পরে আমাদের করে সাধের বড় বড় বিলাশ বহুল অট্টালিকা ।মায়ান অ্যাজটেক আর ইনকাদের স্বর্ণের শহর এল ডোরাডো আরেক মিথ ।স্বর্ণের শহর এল ডোরাডো নিয়ে বহুকাল ধরে একটা মিথ চলে আসছে । অ্যামাজনের গভীর জঙ্গলে এক বিশাল শহর ছিল । সে শহরের সব কিছু স্বর্ণের তৈরি । এই স্বর্ণের শহর মিথ এর পিছনে কতজন ছুটলো , কত অভিযাত্রী গেলো কিন্তু কেউ সেই স্বণের শহর আর পেলোনা । এক অমিমাংশীত মিথ হয়েই থাকলো এই শহর আজকের এই যুগেও ।মায়ানদের ক্যালেন্ডারে ২০১২ সালের ২১ শে ডিসেম্বর তারিখটা তো পৃথিবী ধ্বংশের এক মিথ হয়েই থাকলো , মায়ান ক্যালেন্ডারের পূর্বের কোন ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হয়নি বা বিফলে যায়নি , কিন্তু ২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বর মিথটা কি মনগড়া , ধ্বংশ না হোক ওইদিন পৃথিবীতে কোন বিশেষ ঘটনার সুত্রপাত হয়নি তো , যেটা পৃথিবীকে আস্তে আস্তে ধ্বংশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে ।এ রকম একটা মিথ আছে ।মিথ এর ব্যাপারটা কতটুকু সত্যি আসলে অনেক বছর পর এসে আসলে এটা বোঝা যায়না ।কাহিনীর সময়কালে কোন পরিপ্রেক্ষিতে কি হয়ছিল এটা রহস্যই থাকে । কয়েকহাজার বছর পর এসে এর রহস্য উদঘাটন আমাদের কাছে এক ধাধা আর অবাস্তব কাহিনীই মনে হয় । তবে মনে রাখবেন মিথ এর সত্যতার আপনি প্রমাণ পান আর না পান মিথগুলো এমনি রচিত হয়নি ।

(২৯৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!