কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯১+২৯২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৯১+২৯২

আর এই জ্ঞান মানবজাতির নেই বলেই তথাকথিত একটা জগত , বা পরকাল সব আমাদের আড়ালে থেকে যায় ,  এভাবে বোঝার  এবং জীবনধারনের পরিবেশের সীমাবদ্ধতা আমাদের কে কতকিছু দেখতে দিচ্ছেনা , ‌ এই সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা মানুষ । এই জন্য চামড়ার চোখে দেখিনা বলে ঈশ্বর নেই বলে নাস্তিক হয়ে যাওয়াটা ঠিক নয় , ‌ আপনাকে মুসলমান ,হিন্দু , খ্রিস্টান কিছু হতে বলছিনা ।আমরা মহান সর্বশক্তিমান স্রষ্ঠা দর্শন  , বা সাধারণ জ্বীন  কেন দেখিনা ? দেখিনা আমাদের এই জ্ঞান এবং বোঝার সীমাবদ্ধতার কারনে ।বৈজ্ঞানিক ভাবে আমাদের শ্রাব্যতা ও দেখার সীমানা আছে এটা প্রমানিত ।আবার আমাদের সব কিছু কল্পনা বা উপলব্ধি ও করবার ক্ষমতা নেই ।‌ আপনি যে ঈশ্বর কি সেটা উপলব্ধিও করবেন তার আগে ভাবুন তো আপনি পুরুষ হয়ে কখন আপনার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উপলব্ধি করতে পারবেন ? আপনি নারী হয়ে পুরুষ নারী দেখে কি আনন্দ বা পুলক লাভ করে তা কি বুঝতে পারবেন , যদি আপনি সমকামীও হন তবুও উপলব্ধি করতে পারবেননা , কারন বিপরীত লিঙ্গের চোখে উপলব্ধি আর মেয়ে হয়ে মেয়ের দেহে আকর্ষন লাভ বা পুরুষ হয়ে পুরষ দেহে আকর্ষন লাভ করেও বোঝা সম্ভব নয় যে নারী পুরুষ দেহে কি আকর্ষন লাভ করে ?  এই দেখা ও বোঝার সীমাবদ্ধতা কেমন সেটা আগে বলেছিলাম ওই যে বললাম আপনার শরীরে যৌবন আসবে , ‌ দেহ মিলনে স্বর্গসূখ পাবেন , কিন্তু সেই একই শরীরে ০৫ থেকে ১০ বছর বয়সে স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সাথে পড়া ফাকি দেওয়া ও মাঠে গিয়ে খেলার থেকে আনন্দের কিছু আছে আপনি কল্পনাও করেননি । এই জন্য বলি আপনি ধর্মবিহীন হয়ে যান সমস্যা নেই , কিন্তু এটা বলবেননা যে কেউ নেই , কিছু নেই , কেউ সৃষ্টি করেননি  ।এটা ১০০ বছর আগের লোকেরা বললেও হতো , কিন্তু আপনার আমার মত এই আধুনিক বিজ্ঞান নামক মহা কালজাদুর যুগে ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই বলা মহা বোকামি ।আচ্ছা আপনি তো একটা মানুষ , আপনার বাবার ঔরশ থেকে মায়ের গর্ভ ত্থেকে ভুমিষ্ঠ হবার পরের বেশ কয়েক বছরের ব্যাপারটা কি আপনার মনে আছে ? আপনি মনে করতে পারেননা অথচ আপনি দিব্যি আপনার বাবা মায়ের সন্তান

(২৯১)

 এটা মেনে চলেছেন , আবার বলবেন প্রমান করার জন্য তো আপনার জন্য ডি এন এ পরীক্ষা আছে  , আমি সেটা বলছিনা ,বলছি মনে করার ব্যাপারটা ।তাহলে দাড়ালো ব্যাপারগুলো এরকম যে বাস্তব আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনারই প্রমান বা ব্যাখ্যা বা স্মরন/স্মৃতি আপনার নেই , আপনার জীবনে ঘটা স্বত্তেও আপনার মনে রাখার ও বোঝার সীমাবদ্ধতার কারনে আপনি কোন প্রমান দেখাতে পারছেননা । কারন এই মহা আধুনিক যুগের জ্ঞান ও মহাবিশ্বে প্রান এবং ঈশ্বর খোজার জন্য মহাসাগরে এক ফোটা পানির মত নগণ্য,  সহজ উদাহরণে বলি পৃথিবীর অনেক যায়গা এবং অনেক যায়গার রহস্য আমাদের কাছে তাই এখন অমিমাংসীত ,  বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ,  গ্যালাপোগাস দ্বীপ,  ,মারিয়ানা ট্রেঞ্চ(প্রশান্ত মহাসাগরের তথা পৃথিবীর সবথেকে গভীরতম খাদ , ১৫৮০ মাইল লম্বা , ৪৩ মাইল চওড়া , ১১ কিলোমিটার গভীর , পুরো এভারেস্ট পর্বত কে এনে এই যায়গাতে ফেলে দিলে সেটাও ডুবে যাবে , এখানে পানি এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছে যে এর নিচের দিকে স্বাভাবিক এক লিটার পানি যতটুকু যায়গাতে ধরে ঠিক ততটুকু যায়গাতে এই যায়গাতে ০৫ লিটার পানি ধরবে ) , জাপানের ডেভিল ট্রায়াঙ্গল , অজন্তা ইলোরার গুহা , এরিয়া-৫১ , মরুভুমি , এভারেস্ট এর রহস্য , আগ্নেয়গিরি , ডেথ ভ্যালি , ইউ এফ ও এই গুলোই তো ভেদ হলনা । এখন যদি এই বিজ্ঞান অগ্রসরতার ধারা নিয়ে মানব সভ্যতা আরো কয়েক হাজার  বছর থাকে তাহলে হয়ত মানব জাতি অনেক রহস্য ভেদ করে ফেলবে । কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর যে অবস্থা ,  সেটা হোক রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক কোনটাই ভালোনা , সেক্ষেত্রে কতদিন টিকবে পৃথিবী ,  দেখা যাবে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ বেধে ধংশ হয়ে যাবে ,বা আটলান্টিস বা ইরাম বা দ্বারকার মত হারিয়ে যাবে । আর যে কোন কারনে বিপর্যয় হলেই আবার গোড়া থেকে সব শুরু করতে হবে মানবজাতির  আর সকল ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখিত কিয়ামত হয়ে গেলে তো এত কালের মানব সভ্যতা এবং মানবজাতির সমস্ত কীর্তি , বিখ্যাত মানুষেরা মহাকালের গর্ভে চিরকালের মত নেই হয়ে যাবেন ।

(২৯২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!