কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮৫+২৮৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮৫+২৮৬

 একেকজন সুরকার যে কত বড় কল্পনীয় প্রতিভা কত বড় যাদুকর তা আপনি বুঝতে পারবেন একটা নতুন সুর তৈরি করতে গেলে ।ধরুন আপনি একজন সুরকার ।একজন শিল্পী একটা গান গাইবেন , গানের সুর তা আপনাকে তৈরি করতে হবে । ধরা যাক পৃথিবীতে এক লক্ষ ইউনিক ভিন্ন সুরের গান রয়েছে । এই এক লক্ষ গানের একটির সাথে আরেক টির একেবারে মিল নেই ।এখন আপনাকে একটা গানের জন্য সুর তৈরি করতে হবে , এই সুরটা এই এক লক্ষ গানের সুরের কোনটার সাথে মিললে হবেনা ।সম্পূর্ণ নতুন এক সুর তৈরি হবে আপনার হাতে  , ব্যাপারটা কি সোজা কোন কাজ ? যখন মোবাইল বা মিউজিক প্লেয়ার এ গান ছেড়ে দিয়ে সুরের মূর্ছনা  এবং ছন্দে মাতাল হয়ে যান তখন কি একবারের জন্য ভেবে দেখেন একজন সুরকার কত বড় বিজ্ঞানী , তার সুর কত বড় এক ধ্বনি বিজ্ঞানের উদাহরণ ?সবকিছু বোঝার পর সুরকার ছাড়া আর গানের সকল কলাকুশলীদের আপনার অর্থহীন মনে হবে । আচ্ছা এবার আসি জ্বীন জাতির কথাতে । তানসেন যদি সুরের মাধ্যমে আগুন ধরিয়ে দিতে পারতেন , বৃষ্টি নামাতে পারতেন , তবে আজকে আমরা যে তন্ত্র-মন্ত্র গুলো ভুয়া বলে মনে করি সেটা হয়তো কোন এক কালে কোন এক গোষ্ঠীর হাতে থাকা এক মহা ক্ষমতাশালী ধ্বনি বিজ্ঞান ছিল আজকের বই পত্রে টিকে থাকা তথা কথিত তন্ত্র মন্ত্র । ভ্যাটিকান সিটি এর গোপন লাইব্রেরি তে কি আছে কাউকে সেটা আজো জানতে দেওয়া হয়নি । ,  মুজিযা , অলৌকিক , ম্যাজিক , যাদু ও কালজাদু , বিজ্ঞান এগুলোর ভিতর যে পার্থক্য সেটা এখন বললে প্রিয় পাঠক আপনি আমার কালোজাদু বইটি লেখার মুল উদ্দেশ্য বা আপনাকে কি বোঝাতে চাচ্ছি  , বা কেন কালজাদু বইটি লিখলাম , কেন এত কথা বলছি সেটা আপনি পরিষ্কার ভাবে বুঝতে পারবেন আশা করি । মুজিযা= মুজিযা বলতে বোঝান হয় এমন এক ক্ষমতা যার মাধ্যমে কেও বিস্ময়কর এবং ধারনার বাইরে এবং মানব ক্ষমতার অসাধ্য কোন কাজ করতে পারেন , এক্ষেত্রে যিনি অলৌকিক এসব কাজ করে দেখাচ্ছেন|

(২৮৫)

 তাকে মোজেজার শর্ত মোতাবেক আল্লাহর নবী রাসুল হতে হবে , তিনি এই অলৌকিক ঘটনা দেখাবার ক্ষমতা পান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে ।তিনি নিজে অবশ্যই যাদুকর নন ।অলৌকিক= অলৌকিক বলতে বঝায় এমন কোন ব্যাপার বা ঘটনা যার কোন ব্যাখ্যা নেই , যার ব্যাখ্যা মানুষের বর্তমান জ্ঞানে অজ্ঞাত । ম্যাজিক= ম্যাজিক বা হাতসাফাই যাদু দেখান হয় মুলত স্টেজ বা কোন প্রদর্শনীতে ।এটার উদ্দেশ্য থাকে মুলত মানুষকে কোন কিছু বিস্ময়কর ভাবে করে দেখিয়ে মজা দেওয়া । ধরুন আপনাকে দেখান হলো একটা বক্স , তাতে দেখানো হলো কোন কবুতর নেই , একটু  পর লাল কাপড় খাচার উপর পেচিয়ে কাপড়  ওঠানোর পর দেখা গেলো ওই বক্স এ কবুতর , এটা দেখে আপনি বিস্মিত হয়ে গেলেন ।এটা কিভাবে সম্ভব হল ।এর পিছনে থাকে একটা বিজ্ঞান সম্মত কৌশল ।দর্শক কে মজা দেওয়া এর মুল উদ্দেশ্য , জাস্ট ফর ফান , নট এনিমোর ।কালযাদু সব থেকে রহস্যময় ব্যাপার বোধ হয় এটা ।কালো যাদু নিয়ে বহু জনশ্রুতি শোনা যায় । কি থাকেনা এতে , টেলিপ্যাথি , মেসমেরিজম , হিপনোটিজম , রেইকি , তন্ত্র-মন্ত্র,দ্রব্য গুন , অদ্ভুত সব কুপ্রথা , বলি , রক্ত , মাদক , পুজা , তাবিজ সব কিছু থাকে এতে । সত্যিই কি এতে কোন কাজ হয় বা এর কোন কার্যকরিতা কখনো আছে ?। তো কথা হল এসব তন্ত্র , মন্ত্র বা যাদু এগুলো হল এক প্রকার সীমাবদ্ধ জ্ঞান যা আপনার আমার সবার জন্য উন্মুক্ত নয় ।রসায়ন শাস্ত্র ও তাতে যত দ্রব্য গুন আছে সেগুলো কি যাদু নয় ,পদার্থ বিজ্ঞান , জীব বিজ্ঞান শাস্ত্রে উল্লেখিত সকল জ্ঞান ,তত্ত্ব , কথা এগুলো কি বর্তমান পৃথিবিতে প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা অতি বিদ্যা গুলোর বিরাট সংগ্রহ  নয় ।সবাই এগুলো আমরা জানি বলে আমাদের কাছে এগুলো যাদু মনে হয়না , কিন্তু এক কালে এই জ্ঞান গুলো নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ভিতর ছিল বলে এগুলো ছিল অতি বা যাদুবিদ্যা , আর বিজ্ঞান চালিয়ে খেতে গেলে যে ০৫ বছর ভার্সিটিতে পড়তে হবে এমন কথা নেই , গেরুয়া সন্ন্যাসীও এটা পারবে যদি তাকে শেখানো হয় ,

(২৮৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!