কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮৩+২৮৪ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮৩+২৮৪

ধ্বনি বা শুধু শব্দ দিয়ে অনেক কিছু বা অনেক কাজ সম্ভব করছি আমরা কিভাবে সেটা দেখুন , ধরুন কাউকে ডাকছেন সেটা ধ্বনি বিজ্ঞান , আপনি একা ঘরে রাতে আছেন সেখানে হঠাৎ শুনলেন ভয়ানক একটা  চাপা হাসি সেটা আপনার মনে ভয় ধরিয়ে দিল , ক্ষেত্রবিশেষে সেটা আপনাকে সংজ্ঞাহীনতা বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে , আবার আপনার বাবার কণ্ঠস্বরে এক রকম অনুভূতি পান , আপনার মার কণ্ঠস্বরে একরকম অনুভূতি পান , আবার আপনার বন্ধু , প্রেমিকা , বা জীবনসঙ্গীর কণ্ঠস্বরে একরকম অনুভূতি পান । এনাদের কণ্ঠস্বর একেক রকম ভিন্ন ।আবার ধরুন বাঁশির সুর নিয়ে নানা কথা শোনা যায় ।বাশের বাঁশির সুর একটা ইউনিক ও ভিন্ন জিনিস । এই বাঁশির সুর নিয়ে বহু কথা ও কাহিনী প্রচলিত আছে আমাদের বাংলা সাহিত্যে ও গ্রামীণ জনশ্রুতিতে ।বাঁশির সুর কখনো গ্রীষ্মের খাঁখাঁ রোদে মানুষের মনে এক সুরের মূর্ছনাতে ঘুম এনে দেয় , কখনো নারীর মন উদাস করে দেয় , কখনো গভীর রাতে বাঁশির সুরের ফ্রিকোয়েন্সি বংশী বাদকের চারপাশে পরীদের নেমে এসে নাচ করায় , কখনো বাঁশির সুর বংশী বাদক কে এমন অনুভূতি দেয় যে তার পাশে বসে কেও বাশি বাজালে বসে বসে শুনছে , হতে পারে সে অপদেবতা  ।সে রকম ভাবে কেউ যদি বিশেষ করে আমাদের পূর্বপুরুষেরা যদি এই ধনিবিজ্ঞান বা এমন কোন বিশেষ কিছু শব্দভাণ্ডার গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন যা পশুপাখির সামনে বললে পশুপাখি কথা শুনত , অদৃশ্য কোন প্রাকৃতিক শক্তি থেকে সাহায্য পাওয়া যেতো এমন টা  তো হতেই পারে ।অসম্ভব কিছু নয় ।শোনা যায় যে সম্রাট আকবরের সভাতে তানসেন(১৫০৬-১৫৮৯,গোয়ালিওর , মধ্যপ্রদেশ ,ভারত  ) নামের যে কিংবদন্তী সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন তিনি এমন এমন সুর বাজাতে পারতেন যার কোনটা মানুষকে বিমোহিত করে ফেলত , কোনটা মানুষ কে ভীত করে ফেলতে পারতো , কোন সুর প্রচণ্ড খরার সময়ে আকাশ থেকে বৃষ্টি আনয়ন করতে পারতো , কোন সুর বাতি জালাতে পারতো কোন দিয়াশলাই বা আগুনের সাহায্য ছাড়াই , কোন সুর কখনো কখনো মন্দির , বৃক্ষ , বা পাথরের দেয়াল কে আন্দলিত করতে পারতো ।

(২৮৩)

কোথায় সঙ্গীতের সেই অলৌকিক সেই সুর ? আজকের যুগ হলে না হয় সেটা রেকর্ড করে রাখা যেতো ।আবার রেকর্ড করে রাখা সম্ভব হলে কি ভয়ানক কান্ড ঘটাতো মানুষ সেটা ভাবুন একবার । কেও কি আছেন , আছেন কোন সুরকার যিনি এই ভয়ঙ্কর ও অলৌকিক সুর গুলো জানেন ? আচ্ছা এসব বাদ দিলাম , কিন্তু ভাবুন তো ৮০-৯০ দশকের বাংলা ও হিন্দি রোম্যান্টিক সিনেমা গুলোতে যত সুরেলা গান আমরা পেয়েছি সেটা কিভাবে সম্ভব হল , সেটা হয়তো  আপনারা বলবেন আলম খান ,সত্য সাহা , নাদিম-শ্রাবণ , আনন্দ-মিলিন্দ এর মত গুনীদের কথা । হ্যা সেটা ঠিক আছে । কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন বা চেষ্টা করে দেখেছেন একটা সুর তৈরি করতে , সিনেমা তে বা কোন শিল্পীর গলাতে শোনা প্রিয় কোন গান এ হয়তো গলা মেলান বা ষ্টেজে বা ফাংশন এ গাইতে চেষ্টা করেন , কিন্তু একটা গান সুর ছাড়া শিল্পী ও কথা রচয়িতার মূল্য নেই । গানে যদি কোন বিশেষ কিছু থাকে তবে সেটা হলো গানের সুর । সুর ও সুরকার হলেন গানের প্রাণ । আমরা সারাজীবন শিল্পীর ভক্ত হই কিন্তু গানের প্রান সুরকারকে চেনেননা । আপনি আমি ১০০ গান হয়তো মুখস্ত বলতে পারবো কিন্তু একটার ও সুরকারের নাম বলতে পারবোনা ।আপনি বা আমি যে কেউ একটা গান লিখতে পারবো একজন শিল্পী ভাড়া করতে পারবো গানটা গাইবার জন্য কিন্তু একটা নতুন সুর দিতে পারবেন গানে । যখনই নতুন  একটা গান লিখে সুর দিতে চাইবেন কোন গানে দেখবেন হাজারটা পরিচিত গানের সুর এসে আপনার মাথাটা হ্যাং করে দিচ্ছে । আপনি সুর রচনা করতে গেলেই দেখবেন আপনার পরিচিত কোন না কোন গানের সাথে সুরটা মিলে যাচ্ছে বা গানটা বেসুরো হয়ে যাচ্ছে ।একবার নিজে কোন গানে সুর করতে গেলেই বুঝবেন হেলাফেলাতে মোবাইল ছেড়ে দিয়ে  শোনা ০৫ মিনিটের প্রিয় গানটি কত বড় ধ্বনি বিজ্ঞানের খেলা । কত বড় অসাধারন একটা বিজ্ঞান আপনি আপনার সিডিতে বা মোবাইলে মেমোরিতে রেখেছেন । দেখুন এই প্রত্যেকটি গানের পিছনের পরিশ্রম অকল্পনীয় ও বিষ্ময়কর এক বিজ্ঞান যা আপনি আপনার ২০ বা ৪০ বছরের জীবনে একটিবারের জন্য ভাববার প্রয়োজন ও বোধ করেননি ।

(২৮৪)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!