কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮১+২৮২ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৮১+২৮২

আর ফিরে না আসলে তো পারে । মুক্ত ভাবে বনে জঙ্গলে ফিরে গিয়ে মুক্ত জীবনযাপন করতে তো পারে ।কিন্তু কেন ফেরে তারা ।হতে পারে ওদের ওই ছোট মাথাতে ও অনেক কিছু ধরে , ওদের চোখ গুলো ভিন্ন গঠনের কারনে অনেক অদৃশ্য রঙ বা বর্ণ ধরে ।অনেক কিছু দেখে , আমাদের শ্রাব্যতার সীমার বাইরের অনেক কিছু শোনে। আপনি তো সেভাবে খেয়াল করেন না যে সকাল বেলা ছেড়ে দেওয়া পশু পাখি গুলো কোথায় গেলো ।কিন্তু দেখবেন সন্ধ্যা হতে না হতেই তারা আপনার বাড়ির ভিতর হাজির ।তো এগুলো কি কারনে হয় এত কিছু কি আমরা কখনো ভেবে দেখি ? ধরুন আপনি আপনার পোষা টিয়ার সামনে কিছু বললেন , সে ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক সময় এটা সে শিখে বা মুখস্ত করে ফেলে । অনেক প্রাণী হতে পারে মানুষের থেকে বেশি ক্ষমতাশালী চোখ ও মস্তিস্কের অধিকারী ।আচ্ছা একটা জিনিস চিন্তা করুন আকৃতিতে বড় হলেই সেটা বেশি ক্ষমতাশালী বা বেস্ট হবে এটা কিভাবে বলা যেতে পারে ।আগের যুগের ৫০০ টা ফিতা ক্যাসেট এ যে পরিমাণ গান রাখা যেতো তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ গান একটা ০৮ গিগাবাইট এর মেমোরি কার্ড এ কি রাখা যায় না ? আজকের যুগে একটা মেমোরি কার্ড কতটুকু , ধরুন আপনার গায়ের জামার বোতামের দ্বিগুণ সাইজ মাত্র । এত টুকু আয়তনের একটা মেমোরি কার্ড এ  আগামীতে যে পরিমাণ তথ্য উপাত্ত রাখা যাবে তাতে করে বর্তমানের বেশ বড় সাইজ এর মানে একেকটি ইটের মত সাইজ এর হার্ড ডিস্ক অদূর ভবিষ্যতে যাদুঘর এ স্থান নেবে এটা বলে রাখা যায় ।তো আকারে বড় হলেই যে ক্ষমতা বেশি কিছু হয় এটা বলা যাবেনা ।০৫ মণ ওজনের একটা পাথরের থেকে নিশ্চয় আমলকী বা বট ফলের সাইজের একটা স্বর্ণের খণ্ড , বা একটা হীরক টুকরার দাম কয়েকশো গুন বেশি সেটা নিশ্চয় বলে দেওয়া লাগবেনা ।মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর মস্তিষ্কে বুদ্ধি বেশি থাকতে পারে , অসম্ভব কিছু নয় । কিন্তু মানুষ অন্যান্য সকল প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে শুধু মানুষের হাত পা এবং মেরুদণ্ডের ঈশ্বর প্রদত্ত গঠনের  কারনে ।

(২৮১)

মানে মানুষ নামক প্রাণীটি তার মাথাতে যা আসে সেটা ইচ্ছা মত প্রয়োগ করতে পারে যে কোন কাজে বা মানে তার হাত পা এমন গঠনের যে সে ইচ্ছা করলে একটা জিনিস ধরা বা ছেড়া , কাটা সব কিছুর উপযুক্ত । মানে আমাদের হাত পা ও শরীর গড গিফটেড ভাবেই বহুমুখী কাজে ব্যাবহারের উপযোগী ।এবং মানুষের মস্তিষ্ক যদি ১০০ রকম কাজের ইচ্ছা করে তার হাত দিয়ে দেখা যায় অন্তত সে ৯৫ % কাজে তার হাত কে ব্যাবহার করতে পারে ।কিন্তু একটা পশু বা পাখির কর্মকাণ্ডের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে পশু পাখি ভেদে  সে তার হাত বা পা কে  হাতে গোনা কয়েকটা  কাজে ব্যাবহার করতে পারছে । ধরুন একটা ছাগলের বা খরগোশের মাথাতে মানুষের চেয়ে উন্নত যত বুদ্ধি থাকুক না কেন সে ইচ্ছা করলেই মানুষের মত গাছের ডাল ধরে ঝুলতে পারবেনা ।ইচ্ছা করলে গাড়ীর স্টিয়ারিং ধরতে পারবেনা , কারন ওদের হাতে কোন কিছু আকড়ে ধরবার ক্ষমতা নেই ।ইচ্ছা করলে আমার আপনার মত কলম ধরতে পারবেনা , ইচ্ছা করলেই ক্রিকেট বল নিয়ে দৌড়ে এসে বল করতে পারবেনা ।কারন হল তাদের হাত পা মেরুদণ্ড গুলোর গঠনের কারনে ইচ্ছা করলেও এক ধরনের বেশি দুই ধরনের কাজ করতে পারছেনা ।কিন্তু মানুষের হাত পায়ের গঠনগত কারনে তারা যে কোন কোয়ালিটির কাজ করতে পারছে ।এখন ছাগল বা  খরগোশের ইচ্ছা হলেও আপনাকে বন্দুক ধরেও গুলি করতে পারবেনা , যদি খোদা না করুন ওদের মন মস্তিষ্কে যদি কখনো সেটা চাইও  ।একটা ছাগল কে আপনি গলাতে রশি বেধে আপনি পোষেন । ছাগলটার ছোটবার ইচ্ছা তো হয়ই ।কিন্তু ওর হাত পা দড়ি ছেঁড়বার জন্য এতটা অনুপযুক্ত যে গলার আলগা একটা দড়ি খুলবার জন্য সে শুধু শরীর ও গলা টানাটানি করতে থাকে কিন্তু ছুটতে পারেনা । কিন্তু আপনাকে যদি ওই রকম একটা আলগা দড়ি গলাতে বেধে কোন খুটির সাথে বেধে রাখা হয় তাহলে আপনি বা আমি আমাদের হাত দিয়ে অনায়াসে গলার দড়িটা খুলে চলে আসতে পারবো ।কারন হল আমাদের হাতের গঠন। যেমনটা হলো ওড়বার ইচ্ছা হলেও আপনি উড়তে পারেননা । কেন আমি পারলাম আর ছাগল পারলনা ? হাতের কারনে ,যা অন্যান্য প্রাইমেট থেকে অধিক উন্নত ।এবার আসি সেই ধ্বনি বিজ্ঞানের কথাতে ।

(২৮২)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!