কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৭৫+২৭৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৭৫+২৭৬

বর্তমানের ডাইনামো যাদুকর এর যাদুগুলো বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য বটে। সবাই বলেন তিনি পেশাদার যাদুকর, সবই হাত সাফাই, অনেকদিনের প্র্যাকটিস এর কৌশল , কতকিছু বলবেন। কিন্তু ওনার যাদু দেখে আপনি নিজেই বিস্মিত হয়ে যাবেন ।আচ্ছা একটু বলি ডাইনামো  টেমস নদীর পানির উপর দিয়ে হেটে যান, নিন্দুকেরা বলেন কোন অদৃশ্য কাচের উপর দিয়ে তিনি হেটে যান, এবং সেই কাচের প্রস্তুত প্রনালি তিনিই হয়তো জানেন, হা এবার আসল কথাতে আসুন, অদৃশ্য কাচের মাধ্যমে হাটেন বলে সেটা অলৌকিক হতে পারেনা, সেটা কে বলা যেতে পারে ম্যাজিক ।এটা যে জাস্ট আনন্দদায়ক ম্যাজিক মনে করে সে আসলে একটা সেই লেভেলের বোকা , সেই লেভেলের গর্দভ ।আরে  বোকা যেটা কিভাবে হয় জানিনা সেই রহস্যময় ব্যাপারটায় হল  যাদু , টার মানে এই নয় যে আধুনিক কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি কেউ আশ্চর্যজনক কিছু করে দেখাই তবে সেটা যাদু নয়, সেটা ঠুনকো , এরকম ভাবা বোকামির পরিচয়। আপনার বাড়িতে ভাজাপোড়া বানানোর জন্য যে বেকিং পাউডার রয়েছে তার আর কয়টা ব্যবহার জানেন, সেটা যে মুখের দাগ ওঠাতে  পারে জানেন কি ? আপনি যে কাগুজি বা সরবত খাবার জন্য লেবু খান সেটার আর কি কাজ আছে জানেন ? ওই লেবু চুলে কন্ডিশনার এর বিকল্প হিসেবে ,ছুলি সারাতে, মুখের দাগ ওঠাতে, মশা তাড়াতে এবং কালো যাদুর শাস্ত্রমতে যে ঘরে লেবু থাকে সে ঘরে জ্বীন জাতির প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয় ।এখন আপনি যদি লেবুর সরবত খাওয়া ছাড়া আর এই ব্যবহার না জানেন আর বাকি ব্যাবহার গুলো গাঁজাখুরি বা ম্যাজিক বলেন সে দোষ তো আর যাদুকরের নয় ।মোবাইল বানানোর ব্যাপারটা ব্যাপক এক অলৌকিক আর জাদুকরী ব্যাপার এবং সেটা যে বিজ্ঞানি আবিষ্কার করেছেন এবং তিনি যদি এটা সাধারন জনগণের ব্যাবহার এর জন্য উন্মুক্ত করে না দিয়ে এটা যদি কোন এক বিশেষ  তান্ত্রিক শ্রেণী বা কোন এক শাসক শ্রেণীর হাতে দিয়ে যেতেন  বা বিজ্ঞান গবেষণা , বা বিজ্ঞান শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত না থাকতো তবে আজকে আমরা থাকতাম গো-মূর্খ।

(২৭৫)

         আর হয়তো এসব প্রযুক্তি ব্যাবহার করে এক শ্রেণীর লোক আজকের ভিডিও কলিং টা যাদুর আয়নাতে দুরের মানুষ দেখার মন্ত্র বলে চালিয়ে দিতো।আজকে যে রকমটা বলছি পৃথিবীটা চলছে সেই রকম। আজ আমরা আধুনিক যুগে বিস্ময়কর যত প্রযুক্তি ব্যাবহার করছি তার মত বা তার থেকে অনেক উন্নত প্রযুক্তি , উন্নত পদ্ধতি অতীতে অনেক গোষ্ঠীর হাতে ছিল, সেটা হারিয়েও গেছে নিজের ক্ষমতার কথা অমরত্তের পাতাতে স্থান দিতে পরবর্তীতে কারো কাছে সেই বিজ্ঞান কার কাছে না দেওয়া এর কারন হতে পারে ।আবার এক যুগে যে কোন একটা ক্ষমতাধর শক্তি আবিষ্কার হল, সেটা ব্যবহার করে সে যুগের মানুষ উন্নত হয়। কখনো দেখা যায় সেটা তার কার্যকরিতা হারায়, বা যে কোন সময় যদি সেই শক্তি তার আন্তঃ গঠন ও কার্যকরিতা হারায় তবে সেই যুগের সেই বিজ্ঞান হারিয়ে যেতে পারে। বইয়ের কোন এক যায়গাতে তাড়িৎ চৌ্বক তরঙ্গ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের কথা বলেছিলাম । বর্তমান যুগে আমাদের চালিকা শক্তি হলো বিদ্যুৎ। এই বিদ্যুৎ শক্তি তার শক্তি হারাতে পারে , তাড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ অথবা চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে। যদি কখনো পৃথিবীর এই চৌ্বক ক্ষেত্রের বড় আকারে গরমিল হয় তবে আমাদের বিদ্যুৎ শক্তি কার্যকরীতা হারাবে আর আমাদের নতুন শক্তি আবিষ্কার করতে হতে পারে। আর বিদ্যুৎ অকেয হলে কি হতে পারে সে চিত্র আমার বর্ণনা করতে হবেনা নিশ্চয়। তো যেকোন একটা শক্তির প্রভাবেও পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নামক দুটো গ্যাস হয়েও একসাথে মিশে আছে , যদি কখনো এই প্রভাবক শক্তি বাতিল হয়ে যায় তবে পানি( H2O) ভেঙে দুটো আলাদা গ্যাস হয়ে যায় সেটা না ভেবে পানি না থাকলে কি হতে পারে ভাবুনতো। আমরা তো পানি কি দিয়ে গঠিত সেটা আবিষ্কার করেছি, কিন্তু এটা কি ভেবেছি যে কেন বা কোন শক্তির প্রভাবে দুটো গ্যাস হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এক হয়ে থাকছে ও পানি রূপে আমাদের কাছে সস্তা হয়ে আছে?, যেখানে অক্সিজেন আলাদা পাওয়া যায় প্রকৃতিতে, আমরা কি গ্যারান্টি দিতে পারি যে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন কোনদিন একে অপরের থেকে আলাদা হবেনা|

( ২৭৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!