কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৬৫+২৬৬ | MEHBUB.NET

কালোজাদু-পৃষ্ঠা-২৬৫+২৬৬

আসলে কি জানেন দ্রব্য গুন বলে একটা জিনিস আছে , গোটা কয়েক উদাহরন দিয়ে দিই , তাহলে আপনাদের কাছে বিষয় টা আরো পরিষ্কার হবে । ধরুন চা একটি কমন বা সাধারন পানীয় আমাদের কাছে । এই চা এর গুনাগুন সম্বন্ধে আমাদের যথেষ্ট ধারনা আছে। চা আমাদের কর্ম ক্লান্তি দূর করে শরীরে ও মনে চাঙা ভাব আনয়ন করে ।আজ থেকে ০৫ হাজার বছর আগে মানুষ চা এর ব্যবহার জানতোনা ।তখন এটা পাহাড়ী অঞ্চলের সাধারন গাছড়া বলে বিবেচিত হতো । কিংবদন্তী অনুসারে কোন এক চৈনিক রাজা কিছুটা শ্রান্ত অবস্থাতে তার আঙিনাতে গোসলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় তার সেই গোসলের ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে গিয়ে পরলো চায়ের পাতা। পানির রঙ লাল হয়ে ওঠাতে  রাজা ঈষৎ কৌতূহলী হয়ে উঠলেন, কিছুটা পান করলেন সেই পানি । কয়েক মুহূর্ত পরে উনার ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর চনমনে হয়ে উঠলো, তখন থেকে শুরু হল চা পাতা দিয়ে চা তৈরি করে পান।সার্বজনীন ভাবে চা এর ব্যবহার আমাদের এই আধুনিক যুগের সার্বজনীনতা বা ঘরে ঘরে স্থান পেতে চলে গেছে অনেক অনেক বছর ।চা তে থাকে ক্যাফেইন নামক এক উপাদান, যেটা আমাদের আমাদের কে কর্ম উদ্দীপ্ত করে , ক্লান্তি দূর করে , আসলে কি তাই ? আসলে চা পান করার পর চা তে থাকা ক্যাফেইন আমাদের মস্তিস্কে একটা ভুল সিগন্যাল দেয় , আর তা হলো আমাদের শরীর এবং মস্তিষ্ক যখন কর্ম ক্লান্ত হয়ে যায় তখন আমাদের মস্তিষ্ক দেহ এবং মনকে জানান দেয় যে আমাদের শক্তি শেষ । খাবার গ্রহন বা বিশ্রাম ছাড়া আমরা শরীরে এবং মস্তিষ্কে শক্তি পাবনা । এই সময় যদি চা পান করা হয় তবে চা একটা ভুল সিগন্যাল(শক্তি না থাকলেও শক্তি আছে) দিয়ে নার্ভ কে সচেতন করে  নতুন করে কর্ম স্পৃহা জাগে। তাহলে চা কি একটা ড্রাগ নয়, চা ক্লান্তিনাশক গুন কে কি যাদুকরী বলা যায়না । যদি এটা সবাই খেতে না পেতো । এবার আসি আরো কিছু ড্রাগ এঁর যাদুকরী অনুভূতি সম্বন্ধে কিছু বলতে, যে গুলোকে সোজা বাংলাতে আমরা নেশা বা ড্রাগ বলি। এই নেশা জাতীয় জিনিষ গুলোকে বিজ্ঞানের পরিভাষাতে সাইকোডেলিক ড্রাগ বলা হয় ।

(২৬৫)

         আমরা যাকে সোজা বাংলাতে মাদক দ্রব্য বলে চিনি ।মাদক দ্রব্য বা সাইকোডেলিক ড্রাগ আমাদের ভিতর একপ্রকার মানসিক বিভ্রম সৃষ্টি করে ।আপনি সুস্থ ও সজ্ঞানে রয়েছেন , এমন সময় ধরুন সাইকোডেলিক  ড্রাগ নিলেন , ড্রাগ গ্রহনের পর আপনি টেরই পাবেন না যে আপনি কিভাবে এই জগত থেকে ভিন্ন কোন অনুভূতি বা রঙ এর জগতে পৌছে গেছেন ।এজন্য এবং এই ড্রাগ এর দুর্নিবার আকর্ষণ এবং অনুভূতির কারনেই একবার ড্রাগ এর ফাঁদে পা দিলে আর ফিরে আসা সম্ভব হয়না । ধরুন যেমন এল,এস,ডি নামে একটা মাদক আপনাকে বর্ণিল কোন জগত থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারে ।আপনার পরিচিত স্বাভাবিক জগত টি তখন আপনি দেখবেন খুব কালারফুল একটা জগতে আপনি চলছেন। আপনি যে জগতে চলছেন সেটা যেন কোন এক রঙ্গিন ও বর্ণময় শিল্পের জগত ।এছাড়া পিয়েতি বা মেস্কালিন এবং ডি এম টি বা আয়াহুয়াস্কা হলো মনে আধ্যাত্মিক ভাব জাগ্রতকারী বা এমন একটা অনুভূতি দেবে যে আপনার তৃতীয় নয়ন খুলে গেছে । আর এই তৃতীয় নয়ন হল সুফি , দরবেশ ,  মুনি ঋষিদের মতে আধ্যাত্মিক জগতের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম । আমাদের দুটি চোখ এই দুইটি চোখ দিয়ে আমরা দৃশ্যমান সবকিছু দেখতে পাই। কিন্তু এই চোখে আমরা দেখতে পাইনা সেই সব কিছু যা আমাদের দেখার বাইরে, যেটা আধ্যাত্মিক জগত । সুফি-দরবেশ এবং মুনি-ঋষিদের মতে যদি আমাদের তৃতীয় নয়ন জাগ্রত করা যায় তবে আমরা এসব আধ্যাত্মিক জিনিষ তথা অদৃশ্য  জীন জাতি , কারো মুখ দেখে মনের খবর বলে দিতে পারা, অনেক দুরের কোন কিছু হাজার মাইল দুর থেকে বসে দেখতে পাওয়া, কারো অতীত বর্তমান ভবিষ্যত  নিখুতভাবে বলতে পারা সবকিছুই জাগ্রত তৃতীয় নয়নের কাজ ।আমাদের সাধারন মানুষেরা পার্থিব নানা কাজ এবং মোহে ব্যস্ত থাকাতে আমাদের তৃতীয় যে একটা অন্তর্দৃষ্টি ভেদী চোখ আছে সেটা আমরা ভুলে যাই, খালি চোখে যে আমরা যা দেখি সেগুলো হল আমাদের দুই জাগ্রত চর্ম চক্ষুর নয়ন, এটা দিয়ে দৃশ্যমান সবকিছু , যা কিছু বাস্তব তা আমরা দেখতে পাই।

(২৬৬)

পরবর্তী পৃষ্ঠা দেখুন

error: Content is protected !!